Ajker Patrika

মৌলভীবাজার: অবাধে উজাড় সংরক্ষিত বন

মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজার: অবাধে উজাড় সংরক্ষিত বন
সংরক্ষিত বন থেকে বাঁশ কেটে সড়কের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বিট এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জেলা মৌলভীবাজার। এখানে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ বন বিভাগের চারটি রেঞ্জ রয়েছে। এসব সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বাঁশ কেটে বিক্রির মচ্ছব চলছে। এতে জেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলো উজাড় হয়ে যাচ্ছে। দিনে-রাতে বনের গাছ ও বাঁশ চুরি হলেও বন বিভাগের ভাষ্য, জনবলসংকটের কারণে তারা এই চুরি রোধ করতে পারছে না।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ চারটি রেঞ্জ রয়েছে বন বিভাগের। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় রেঞ্জ রাজকান্দি। এই রেঞ্জে লাউয়াছড়া, চম্পারায়, বাঘাছড়া, ডালুয়াছড়া, কুরমাছড়া, সোনারাইছড়া ও সুনছড়া। জুড়ী রেঞ্জে রয়েছে সুরমাছড়া, রাগনাছড়া, পুটিছড়া, পূর্ব গোয়ালী, ধলাইছড়া ও সাগরনাল। বড়লেখা রেঞ্জে রয়েছে লাটুছড়া, হাতমাছড়া, নিকুড়িছড়া, মাধবছড়া ও কুলাউড়া রেঞ্জের পশ্চিম গোগালী, ছোট কালাইগিরি, বেগুনছড়া, লবণছড়া ও বড় কালাইগিরি।

সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর বিটের কোনাগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, লাউয়াছড়ার ভেতরে বয়ে যাওয়া ছড়া দিয়ে স্তূপ করে বাঁশ ভাসিয়ে আনা হচ্ছে। ছড়ার ওপর ছোট একটি সেতুর কাছে নিয়ে এসব বাঁশ ছড়া থেকে ওপরে তুলছেন কয়েকজন। বাঁশগুলো পাকা সড়কের পাশে কয়েকটি ভাগে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরে সেগুলো ট্রাক বা পিকাপ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয় নির্দিষ্ট গন্তব্যে।

এ সময় বাঁশ তোলার কাজ করছিলেন আহাদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাঁশগুলো কোনো সংরক্ষিত বনের ভেতর থেকে আনা হয়নি। বিভিন্ন বাড়ি থেকে কিনে আমরা ছড়ায় ভাসিয়ে দিয়েছিলাম। এখন বিক্রির জন্য ওপরে তোলা হচ্ছে।’

তবে স্থানীয় এলাকাবাসী তাঁর এই বক্তব্য অস্বীকার করে জানায়, বিক্রির জন্য বাঁশগুলো সংরক্ষিত বনের ভেতর থেকে কেটে আনা হয়েছে। কারণ এই ছড়া সরাসরি বনের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। শুধু বৃষ্টি বা ছড়ায় স্রোত থাকলে বাঁশ ভেসে আসে। বছরের অন্য সময় আর বাঁশ ভাসতে দেখা যায় না।

এমন চিত্র শুধু রাজকান্দি রেঞ্জের নয়। জেলার জুড়ী, বড়লেখা, কুলাউড়া রেঞ্জসহ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতর থেকে নিয়মিত বাঁশ ও গাছ উজাড় করা হচ্ছে।

লাউয়াছড়া বনের ভেতর থেকে অর্ধশতাধিক গাছ কেটে নেওয়ারও চিহ্ন দেখা যায়। এতে একদিকে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের, অন্যদিকে নষ্ট হচ্ছে প্রাণীদের আবাসস্থল। অবাধে গাছ, বাঁশ ও বেত উজাড় হলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘যাঁরা বনের গাছ ও বাঁশ পাচার করছেন, তাঁরা শুধু বনের ক্ষতি করছেন না, তাঁরা পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রাণীদের ক্ষতি করছেন। বন বিভাগ যদি বনকে রক্ষা করতে না পারে, তাহলে বনের এই অবস্থা হওয়া স্বাভাবিক।’

সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের তীব্র জনবলসংকট রয়েছে। বন থেকে গাছ ও বাঁশ চুরি হতে পারে। কিছু অসাধু লোক আছে, যারা সব সময় এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বনের গাছ ও বাঁশ পাচার রোধে আমাদের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পুলিশি তদন্তে সরকারি প্রাথমিকে নির্বাচিত ১৪ হাজার শিক্ষক

মাদক কারবারিকে ছাড়াতে গিয়ে বিপাকে বিএনপি-জামায়াত নেতারা, সারা রাত থানায় আটকে রাখলেন ওসি

পুলিশ সদস্যদের ওভারটাইম ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের

বিজয়ের শপথ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত স্ত্রী-সন্তানেরা, অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে জল্পনা

ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ৬৫ পদে চাকরি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত