Ajker Patrika

কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
কমলগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রোগীদের পথ্য (খাবার) সরবরাহের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে তৃতীয় সর্বনিম্ন দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রতিবাদে এবং ওই কার্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সিলেটের উপপরিচালক (স্বাস্থ্য) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন টেন্ডারে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান নাফি এন্টারপ্রাইজ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে রোগীদের পথ্য সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। ১৬ মার্চ দরপত্র খোলার পর দেখা যায়, মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ ৩০ লাখ ২২ হাজার ২২০ টাকা দর দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। নাফি এন্টারপ্রাইজ ৩০ লাখ ৫১ হাজার ৭৯০ টাকা দর দিয়ে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে এবং জুনেদ জাহেদ ট্রেডার্স ৩০ লাখ ৫২ হাজার ১৭০ টাকা দর দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল। আরিয়ান ট্রেডার্স ৩১ লাখ ৪৬ হাজার ৩০০ টাকা দর দিয়ে চতুর্থ স্থানে ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা নাফি এন্টারপ্রাইজের চেয়ে ৩৮০ টাকা বেশি দর দেওয়া সত্ত্বেও নিয়মবহির্ভূতভাবে জুনেদ জাহেদ ট্রেডার্সকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দরপত্র খোলার ১৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই মাস আট দিন পর, ঈদুল আজহার ছুটির আগমুহূর্তে গোপনে ও তড়িঘড়ি করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নাফি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে আমার প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলেও কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। আমার ধারণা, অভ্যন্তরীণ আঁতাত বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আমার প্রতিষ্ঠানকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রমে স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দুলাল মিয়ার একক প্রভাব রয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্টোরকিপারের সম্পৃক্ত থাকার কথা থাকলেও তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর দুলাল মিয়া ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এ নিয়ে টেন্ডার কমিটির অনেক সদস্যও অবগত ছিলেন না বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। এভাবে টেন্ডার দেওয়ার বিধান রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন মো. মামুনুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের পক্ষ থেকেও পৃথক তদন্ত করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত