Ajker Patrika

মৌলভীবাজারে প্রতিবেশীর ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, আহত ৩

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  
মৌলভীবাজারে প্রতিবেশীর ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, আহত ৩
অভিযুক্ত হেলিম মিয়াকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে হেলিম মিয়া নামের এক ব্যক্তির ছুরিকাঘাতে বকুল বেগম (৫৬) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সিদ্ধেশ্বরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত বকুল বেগম একই এলাকার মৃত ইলিয়াছ মিয়ার স্ত্রী। আহত ব্যক্তিরা হলো বকুল বেগমের মেয়ের জামাই অজুদ মিয়া (৩৫), একই এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে সাঈদুল ইসলাম (১৮) ও আমিনুল ইসলাম (১৬)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে দুপুরে হেলিম মিয়া তাঁর ভাইয়ের ঘরে ঢুকে ভাতিজা সাঈদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। প্রাণ বাঁচাতে তারা দৌড়ে পাশের বাড়ির বকুল বেগমের ঘরে আশ্রয় নেয়। সেখানে গিয়ে হেলিম মিয়া আবারও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।

এ সময় ছুরিকাঘাতে বকুল বেগম, অজুদ মিয়া, সাঈদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বকুল বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আমিনুল ইসলাম ও অজুদ মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হামলাকারী হেলিম মিয়াকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হেলিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এমন সহিংস আচরণ করে আসছেন। এর আগেও তিনি কয়েকজনকে ছুরিকাঘাত করেছেন। পুলিশ কয়েকবার তাঁকে আটক করলেও কিছুদিন কারাভোগের পর তিনি আবার বের হয়ে আসেন।

নিহত বকুল বেগমের মেয়ে পারভীন বেগম বলেন, ‘হেলিম মিয়া আমার চাচাতো ভাইদের ছুরি দিয়ে আঘাত করে। তারা আমাদের ঘরে আশ্রয় নিতে এলে আমার মা তাদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তখন হেলিম মিয়া আমার মা ও আমার বোনের স্বামীকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। এতে আমার মা মারা যান।’

স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য পপি বেগম বলেন, হেলিম মিয়া তাঁর ভাতিজাদের ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তারা প্রাণ বাঁচাতে বকুল বেগমের ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে সেখানে গিয়ে হেলিম চারজনকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয় এবং বকুল বেগম মারা যান।

কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আউয়াল বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা হেলিম মিয়াকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এ ঘটনায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। হেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে আগেও থানায় কয়েকটি মামলা রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত