তেলের সংকট আর গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা মোটরসাইকেলচালকদের

মেহেরপুরের গাংনীতে তেল-সংকটে মোটরসাইকেলচালকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তেল পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের। অনেকেই রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও নিশ্চিত হতে পারছেন না কখন তেল পাবেন।
বৃহস্পতিবার সকালে গাংনীর বামন্দী কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা যায়, রাস্তার পাশে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। তীব্র রোদ ও গরমের মধ্যে বাইকাররা কেউ দোকানে, আবার কেউ গাছের ছায়ায় বসে সময় কাটাচ্ছেন। পাম্প থেকে প্রতিটি মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গাংনীতে আগে কখনো এত দীর্ঘ মোটরসাইকেলের লাইন দেখা যায়নি। তীব্র গরমের কারণে অনেক চালক মোটরসাইকেল রাস্তার পাশে লাইনে রেখে আশপাশের দোকান, ছাউনি বা গাছের নিচে বসে অপেক্ষা করছেন। প্রশাসনের তদারকি না থাকায় মাঝেমধ্যে চালকদের মধ্যে উত্তেজনাও তৈরি হচ্ছে। তেল দেওয়ার সময় চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স, হেলমেট বা গাড়ির কাগজপত্রও যাচাই করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
তেল নিতে আসা মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘এমন ভোগান্তি আগে কখনো দেখিনি। সঠিক তদারকি না থাকায় মাঝেমধ্যে বিশৃঙ্খলাও সৃষ্টি হচ্ছে।’ তাঁর মতে, চালকদের লাইসেন্স, হেলমেট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে তেল দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা শৃঙ্খলাপূর্ণ হতো।
তেল নিতে আসা হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ লাইন হবে বলে রাত ৪টার সময় চলে এসেছি। তারপরও দেখি, আমার আগে অনেকেই চলে এসেছে। ৬-৭ ঘণ্টা অপেক্ষার পর ২০০ টাকার তেল পেয়েছি। রোদ, গরমে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই কষ্টকর।’
বজলুর রহমান নামের এক ব্যক্তি বলেন, সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ কেউ প্রভাব খাটিয়ে লাইন ছাড়াই তেল নিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থেকে তেল বিতরণ করলে এমন অনিয়ম কমে আসত।
এদিকে ডিজেল নিতে আসা কৃষক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তাঁর মাঠে গম পেকে গেছে। পাঁচ-ছয় দিন ঘোরার পর তিনি তেল পেয়েছেন। আকাশে মেঘ জমেছে, ঝড়বৃষ্টি হলে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
বামন্দী কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী কিবরিয়া হোসেন বলেন, ‘মাঠে পাকা গম থাকায় কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। ট্রাকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। মোটরসাইকেলচালকদের অকটেন ও পেট্রল দেওয়া হচ্ছে যতক্ষণ মজুত আছে। তবে ভিড়ের কারণে মাঝেমধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম শাখাপি ইবনে সাজ্জাদ বলেন, কেউ তেল মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









