Ajker Patrika

লাঠিখেলা দেখতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়

রাকিবুল ইসলাম, গাংনী (মেহেরপুর) 
লাঠিখেলা দেখতে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড়
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় লাঠিখেলা। খেলা দেখতে নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোর সঙ্গে মানুষের ছিল গভীর মিতালি। আধুনিকতার ঢেউয়ে সেই খেলাগুলো আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। শহরের আধুনিক খেলা আর মোবাইল ইন্টারনেট গ্রামে প্রবেশ করায় ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। তবু প্রতিবছর কোনো কোনো এলাকার মানুষ নিজেদের উদ্যোগে এসব খেলা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। খেলোয়াড় ও দর্শকদের দাবি, সরকারি সহযোগিতা পেলে ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো আবারও নতুন প্রাণ ফিরে পাবে।

দীর্ঘদিন পর গতকাল শনিবার মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে লাঠিখেলা। সেখানে নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামবাংলার যেসব খেলা হারিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে হাডুডু, গাদন, গোল্লাছুট, কুতকুত, হাঁড়ি ভাঙা, দড়ি লাফ, দড়ি টানাটানি, কানামাছি ভোঁ ভোঁ, লাঠিখেলা, চোর-ডাকাত, মার্বেলসহ নানান খেলা। এসব খেলা ধরে রাখা না গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এগুলো শুধু গল্প হয়ে থাকবে। তাই গ্রামীণ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

দর্শক রিপন আলী বলেন, ‘এখন আর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো তেমন দেখা যায় না। এখানে লাঠিখেলা হবে শুনে আগেই চলে এসেছি। এই খেলা জনপ্রিয় বলে জায়গা পাব না ভেবেছিলাম। বিভিন্ন গ্রাম থেকে অনেক লোক এসেছে খেলা দেখতে।’

আরেক দর্শক লালন হোসেন বলেন, ‘লাঠিখেলা দেখতে অনেক মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে। ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো ধরে রাখা দরকার। লাঠিখেলা দেখতে দারুণ লাগছে, ভিড়ও বেশ।’

খেলোয়াড় আরাদুল ইসলাম বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে লাঠিখেলা করে আসছি। আশা করি, ভবিষ্যতেও খেলতে পারব।’

খেলোয়াড় আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘১২-১৩ বছর বয়স থেকে খেলছি। সন্তানেরা খেলবে কি না জানি না, তবে আমরা যত দিন বাঁচি, এসব খেলা চালিয়ে যাব। যদি সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়, খেলা আরও ভালোভাবে করা সম্ভব।’

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় লাঠিখেলা। খেলা দেখতে নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় লাঠিখেলা। খেলা দেখতে নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

খেলোয়াড় রনি আহমেদ বলেন, ‘এই খেলাকে ধরে রাখতে আমরা একটি টিম গঠন করেছি। যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। প্রবাসীরাও কিছু সহায়তা করছেন।’

দেবীপুর লাঠিয়াল বাহিনীর পরিচালক মো. মারফত আলী বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর পরিশ্রম করে আমরা দল গঠন করেছি। সরকারি সহযোগিতা পেলে খেলাটি আরও সুন্দরভাবে ধরে রাখতে পারব। যুবসমাজ মাদকে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের বাঁচাতে খেলার বিকল্প নেই। তাই গ্রামের এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় লাঠিখেলা। খেলা দেখতে নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চরগোয়াল গ্রামে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় লাঠিখেলা। খেলা দেখতে নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত