Ajker Patrika

হাত জ্বালা করলেও বিকেল থেকে ভোররাত পর্যন্ত পশুর চামড়া পরিষ্কার ও লবণ দিলেন তাঁরা

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
হাত জ্বালা করলেও বিকেল থেকে ভোররাত পর্যন্ত পশুর চামড়া পরিষ্কার ও লবণ দিলেন তাঁরা
গাংনীর দেবীপুর বাজারে কোরবানীর পশুর চামড়া পরিষ্কারের কাজ চলছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

মুসলমানদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল আজহা গতকাল শনিবার পালিত হয়েছে। কোরবানির জবাইকৃত পশুর চামড়া পরিষ্কারের কাজ করেন কিছু মানুষ।

মেহেরপুরের গাংনীর দেবীপুর বাজারে গতকাল ঈদের দিন বিকেলে ঘুরতে গিয়ে দেখা যায়, চার থেকে পাঁচজন চামড়া পরিষ্কারের কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজের বিনিময়ে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে পাবেন। তবে এ কাজে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এমন কষ্ট করেও এই টাকা দিয়ে পরিবারের সবার মুখে খাবার তুলে দিতে পারাই তাদের বড় আনন্দ।

কাজ করতে আসা বেজিন নামে একজন জানান, বিকেল থেকে কাজ শুরু হয়েছে, আনুমানিক ভোর ৪টা পর্যন্ত চলবে। এ কাজে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তারা পাঁচ থেকে ছয়জন এখানে কাজ করতে এসেছেন। কেউ চামড়ার গায়ে থাকা মাংস ছড়িয়ে দিচ্ছেন, কেউ লবণ লাগাচ্ছেন। কাজ শেষে প্রতিজন ২ হাজার টাকা পাবেন।

কাজ করতে আসা বিমোল নামের আরেকজন জানান, চামড়ায় লবণ লাগানোর সময় খুব কষ্ট হয়। লবণ দিয়ে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে থাকলে হাত জ্বলতে থাকে। তার পরেও পেটের তাগিদে তাঁদের কাজ করতে হয়। পরিবারের মুখের দিকে তাকালে এসব কষ্টকে কষ্ট মনে হয় না। দিন শেষে যে টাকা উপার্জন করেন, তা দিয়ে পরিবারের মুখে খাবার তুলে দিতে পারলেই প্রকৃত সুখ।

স্থানীয়রা জানান, চামড়া পরিষ্কারের কাজটি খুব কঠিন। খালি হাতে লবণ লাগাচ্ছেন, কেউ চামড়ার গায়ে লেগে থাকা মাংস ছাড়িয়ে পরিষ্কার করছেন। গতকাল বিকেল থেকে প্রায় সারা রাত কাজ করেছেন তাঁরা। তবে সত্যিকারের বাবারা কখনো নিজের চিন্তা করেন না। কীভাবে পরিবারকে সুখে রাখা যায়, সেই চিন্তা করেন। দিন শেষে পরিবার নিয়ে সুখে থাকার মধ্যে যে আনন্দ, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। তারা এত পরিশ্রম করছেন শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।

স্থানীয় আরও বলেন, গত বছর অনেকে চামড়া বিক্রয় করতে পারেননি। এবার অন্তত বিক্রি হয়েছে। গত বছর এমনও হয়েছে, অনেকে চামড়া মাটির নিচে পুঁতে রেখেছিলেন। এবার ছাগলের চামড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রয় হয়েছে এবং গরুর চামড়া মাপ অনুযায়ী বিক্রি হয়েছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে।

চামড়া ব্যবসায়ী ইয়াসিন আলী বলেন, ‘চামড়ার কাজ করানোর জন্য পাঁচ থেকে ছয়জন লোক নিয়ে এসেছিলাম। তাঁদের প্রত্যেককেই ২ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে। তাঁরা গতকাল বিকেল ৪টা থেকে শুরু করে রোববার ভোর ৫টা পর্যন্ত কাজ করেছেন। এবার ছাগল ও গরুর অনেক চামড়া কিনেছি। দু-এক দিনের মধ্যে আবার বেচে দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর চামড়ার ছিল বেহাল দশা। বেচতে না পেরে অনেকে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল। তবে এবার ছাগলের চামড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং গরুর চামড়া মাপ অনুযায়ী ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত কিনেছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দুই বছরের কন্যাকে নিয়ে ২৩ তলা থেকে বাবার ঝাঁপ, দুজনেরই মৃত্যু

আটক ৩ ট্যাংকার ফেরত দিলে ভারতকে হরমুজে যাতায়াতের সুযোগ দেবে ইরান

কফি পানের ভিডিওটিও এআই দিয়ে তৈরি, নেতানিয়াহু কি তবে মারা গেছেন

সব লঞ্চার ‘ধ্বংসের’ পরও এত ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে ছুড়ছে ইরান, আর কত অবশিষ্ট

১৯ বছর পর চাকরি ফিরে পেলেন পুলিশের ৩৩০ এসআই ও সার্জেন্ট

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত