Ajker Patrika

গাংনীতে সাপের উপদ্রব বেড়েছে, আতঙ্কে গ্রামবাসী

গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি
গাংনীতে সাপের উপদ্রব বেড়েছে, আতঙ্কে গ্রামবাসী
গাংনীর বিভিন্ন গ্রামে ঘরবাড়ি, উঠান ও বসতবাড়ির আশপাশে সাপের দেখা মিলছে। ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই বেড়েছে সাপের উপদ্রব। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘরবাড়ি, উঠান ও বসতবাড়ির আশপাশে সাপের দেখা মিলছে। এতে দিন-রাত আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি বিষধর সাপের কামড়ে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় সেই আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

গত শনিবার রাতে উপজেলার এক গ্রামে বিষধর সাপের কামড়ে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর সোমবার একটি বাড়ির গেটের সামনে একটি সাপ দেখা যাওয়ার ঘটনাও এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম এলেই গাংনীতে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়। অনেকের ধারণা, এলাকায় কালাচ, পদ্মগোখরা, চন্দ্রবোড়াসহ বিভিন্ন বিষধর সাপের উপস্থিতি বেড়েছে। তবে এসব সাপের প্রজাতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. তামিম হোসেন বলেন, সোমবার বাড়ির গেটের সামনে একটি সাপ দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সেটি মেরে ফেলা হয়। এর পর থেকেই তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সাপ নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই বিভিন্ন এলাকায় সাপ দেখা যায়। অনেক সময় সাপুড়েরা সাপ ধরে নিয়ে যান, আবার কোথাও স্থানীয়রাই সাপ মেরে ফেলেন।

মো. মোমিদুল ইসলাম বলেন, এখনো অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন, সাপে কাটলে কবিরাজের ঝাড়ফুঁকে রোগী সুস্থ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। সাপে কাটা রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম দেওয়া গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

স্থানীয় সাপ ধরার কাজের সঙ্গে যুক্ত মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে তিনি প্রায় সাড়ে ৩০০ পদ্মগোখরা সাপ ধরেছেন। শুধু গত এক সপ্তাহেই প্রায় ১০০টি সাপ ধরেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোনো বাড়িতে সাপ দেখা গেলে খবর পেয়ে তিনি গিয়ে সেগুলো ধরেন। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবাও একই পেশায় ছিলেন এবং বাবার কাছ থেকেই তিনি সাপ ধরার কৌশল শিখেছেন।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. একরামুল হক বলেন, সাপে কাটার পর অনেক পরিবার প্রথমে কবিরাজের কাছে গিয়ে ঝাড়ফুঁক করাতে সময় নষ্ট করে। এতে রোগীর অবস্থা জটিল হয়ে যায় এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।

তিনি জানান, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটার চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম রয়েছে। তাই কাউকে সাপে কাটলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত