Ajker Patrika

৩০ বছর তালাবদ্ধ লাইব্রেরি, বইয়ের আলমারিতে কবুতরের বাসা

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৬: ৩৬
৩০ বছর তালাবদ্ধ লাইব্রেরি, বইয়ের আলমারিতে কবুতরের বাসা
৩০ বছর তালাবদ্ধ লাইব্রেরি। ছবি: আজকের পত্রিকা

জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হওয়ার কথা, অথচ সেখানে এখন কবুতর, ইঁদুর আর উইপোকার রাজত্ব। মেঝেতে স্তূপ হয়ে আছে কবুতরের বিষ্ঠা, উধাও মূল্যবান বই ও আসবাব। ৩০ বছর ধরে তালাবদ্ধ মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া পাবলিক লাইব্রেরির এমন দশা দেখে হতবাক অনেকেই।

সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামের দ্বিতীয় তলায় ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লাইব্রেরিটি। একসময় এখানে দুই থেকে তিন শতাধিক পাঠক বই পড়তে আসতেন। সরকারি অনুদানও মিলত। কিন্তু তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে পাঠকশূন্য হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় কার্যক্রম।

গত মঙ্গলবার বিকেলে লাইব্রেরিটি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হক। তালা খুলে ভেতরে ঢুকে তাঁরা দেখতে পান, বইয়ের আলমারিতে কবুতরের বাসা, মেঝেতে বিষ্ঠার স্তূপ। ইঁদুর ও উইপোকার আক্রমণে নষ্ট হয়েছে অবশিষ্ট বই। ভাঙা দরজা-জানালার গ্রিলসহ মূল্যবান বই ও আসবাবের বড় অংশ চুরি হয়ে গেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

লাইব্রেরির পাশেই রয়েছে সরকারি ডাকবাংলো ও সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। একসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ডাকবাংলোয় আসা অতিথিরা এখান থেকে বই নিয়ে পড়তেন। এখন প্রতিষ্ঠানটি শুধুই পরিত্যক্ত এক স্থাপনা। দীর্ঘদিন চুনকাম নেই, ভবনের গেটের সামনেও খড়ির স্তূপ।

সাটুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হাসান পিন্টু বলেন, ‘সরকারি অনুদান এলে কমিটি গঠন করে টাকা ব্যয়ের লোক পাওয়া যায়, কিন্তু লাইব্রেরির দেখভালের দায়িত্ব নেওয়ার কেউ নেই। তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললেও তাঁরা দায়িত্ব এড়িয়ে যান।’

লাইব্রেরিটির সভাপতি ও ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, ‘আমি যে এ লাইব্রেরির সভাপতি, সেটিই আমি জানি না। আমাকে কেউ এ বিষয়ে অবগত করেননি।’ পরিদর্শনে এসে লাইব্রেরির এমন অবস্থা দেখে হতবাক হয়েছেন জানিয়ে তিনি দ্রুত অডিটরিয়াম সংস্কার ও লাইব্রেরিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।

লাইব্রেরির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. গোলাম হাসান জানান, দীর্ঘদিন তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। লাইব্রেরির বই ও আসবাব চুরি হয়ে গেছে বলে তিনি শুনেছেন।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু ভবন সংস্কার নয়, বই ও আসবাব চুরির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করে লাইব্রেরিটি আবার পাঠকদের জন্য খুলে দিতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত