Ajker Patrika

ঘিওর খাদ্যগুদামে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি, দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

ঘিওর, (মানিকগঞ্জ), প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৬: ১৩
ঘিওর খাদ্যগুদামে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতি, দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও খাদ্য পরিদর্শক শ্রী বিপুল কুমার। ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামের মজুত যাচাইয়ে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গমের ঘাটতি পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও খাদ্য পরিদর্শক এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।

গতকাল বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে তাঁদের বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু করার প্রক্রিয়াও চলছে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তরের ২৫ আগস্টের স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত একটি কমিটি ঘিওর এলএসডি সরেজমিন পরিদর্শন করে মজুত যাচাই করে। খাতাপত্রের হিসাবের সঙ্গে গুদামের প্রকৃত মজুত মিলিয়ে দেখার সময় গরমিলগুলো ধরা পড়ে।

কমিটির যাচাইয়ে গুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া যায়। বিপরীতে ৪১ টন ধান বেশি পাওয়া গেছে। হিসাবের তুলনায় ৬ হাজার ৫০০টি বস্তার ঘাটতিও পাওয়া যায়।

মজুত যাচাইয়ের পর কমিটি বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগকে জানায়। এরপর অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২ অনুযায়ী দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনের পর ঘিওর খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়।

জেলা খাদ্যগুদামগুলোর মজুতের স্বচ্ছতা যাচাইয়ে বিশেষ অডিট কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকার একটি উচ্চপর্যায়ের দল ঘিওরে যায়। দলটি গুদামের নথিপত্রের হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুত মিলিয়ে দেখে। অডিট চলমান থাকায় গুদামটি সাময়িক সিলগালা করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, ‘মহাপরিচালক স্যারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলার প্রতিটি খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অডিটের সময় ঘিওরের খাদ্যগুদামে গরমিল পাওয়া যায়। এর সঙ্গে যারা জড়িত থাকতে পারেন, তদন্তের স্বার্থে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাদ্যগুদামটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

মো. আইয়ুব রায়হান আরও বলেন, ‘প্রতি মাসে দুইবার পাক্ষিক প্রতিবেদন দেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট আমার কাছে যে প্রতিবেদন এসেছে, তাতে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।’

১৫ আগস্টের পাক্ষিক প্রতিবেদনে মজুত ঠিক থাকার তথ্য দেওয়া হলেও, ২৫ আগস্টের পর সরেজমিন যাচাইয়ে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে।

ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও খাদ্য পরিদর্শক এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শ্রী বিপুল কুমারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত