Ajker Patrika

ঘিওরের জাবরা বাজারে মরমি সুরে শেষ হলো ৯ দিনের বাউল মেলা

ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
ঘিওরের জাবরা বাজারে মরমি সুরে শেষ হলো ৯ দিনের বাউল মেলা
বাউল মেলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের জাবরা বাজারে খালাপাগলীর ৩১তম বার্ষিক ওরস ও বাউল মেলা শেষ হয়েছে। শুক্রবার রাতে লালনসংগীতের আসরের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ২২ অক্টোবর শুরু হওয়া নয় দিনের এই আয়োজন। সমাপনী অনুষ্ঠানে বারামখানা লালন ব্যান্ডের শিল্পীরা মধ্যরাত পর্যন্ত গান পরিবেশন করেন।

‘ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার, সর্বসাধন সিদ্ধ হয় তার’—একতারার তারে ভেসে আসে লালন সাঁইয়ের এই বাণী। মঞ্চে একের পর এক মরমি গান পরিবেশনের সময় শ্রোতাদের কেউ চোখ বন্ধ করে শোনেন, কেউ গানের কথায় ডুবে থাকেন, কেউ সুরের তালে দুলতে থাকেন।

শুক্রবার রাত আটটায় শুরু হওয়া বিশেষ আসরে শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে’, ‘ভবে মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার, সর্বসাধন সিদ্ধ হয় তার’সহ লালন সাঁইয়ের জনপ্রিয় গান। একতারা, ডুগডুগি, মন্দিরা, ঢাক ও তবলাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সুরে মেলা প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।

স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অসংখ্য দর্শনার্থী মেলায় আসেন। আয়োজনে লালনসংগীতের পাশাপাশি বাউলগান, বিচারগান, ভাববৈঠকী, বিচ্ছেদগান, সামাজিক যাত্রাপালা ও নাটক পরিবেশিত হয়।

মেলার মাঠে কয়েক শ দোকান বসে। আসবাবপত্র, মুখরোচক খাবার, গহনা, প্রসাধনসামগ্রী, মৃৎশিল্প, মশলা, মিষ্টি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান ছিল সেখানে। শিশুদের খেলনা ও গৃহস্থালির সামগ্রীও বিক্রি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় মেলা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

মেলার উদ্বোধন করেন জেলা যুবদলের সভাপতি কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু। প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির। অনুষ্ঠানে বানিয়াজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু, মাজার কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম এবং সাধারণ সম্পাদক মুক্তার উদ্দিন আহমেদ (বিন্দু)সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী লালনসন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশন করেন বারামখানা লালন ব্যান্ডের শিল্পী জুঁই বাউলা, টুকটুকি বাউল, মুক্তা পারভীন ও সুবর্ণা পারভীন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মো. নিবীর খান।

আয়োজক কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার উদ্দিন আহমেদ (বিন্দু) বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের বিনোদনের ধরন বদলেছে। প্রযুক্তির বিস্তারে বিনোদনের নানা মাধ্যম হাতের নাগালে এলেও গ্রামীণ জনপদে বাউলগান ও লোকজ মেলার প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমেনি। জাবরার নয় দিনের আয়োজন তার প্রমাণ।

আয়োজকেরা বলেন, কেউ গান শুনতে, কেউ মেলা ঘুরতে, কেউ কেনাকাটার জন্য এসেছেন। অনেকের কাছে লালনের গান ছিল নিজের সঙ্গে নিজের দেখা হওয়ার উপলক্ষ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত