মিলন উল্লাহ, কুষ্টিয়া

মঙ্গলবার গভীর রাতে সিরাজগঞ্জে পৌঁছানোর পর পরপর তিন দফায় মোট ১১ জন ডাকাত যাত্রীবেশে উঠেছিল ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের সেই বাসে। তৃতীয় দফায় দুজন ওঠার পরই বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা। দলনেতাকে তারা ডাকছিল ‘কাকা’ বলে। এ ছাড়া আরও কিছু নামও বিভিন্ন সময় শুনতে পেয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। সেই বাসে থাকা দুই যাত্রীর বয়ান থেকে জানা গেছে এমন তথ্য।
কুষ্টিয়ার প্রাগপুর থেকে ছেড়ে আসা নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের যে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তাতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন হেকমত আলী ও তাঁর পরিবার। স্ত্রী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন তিনি। সেদিনের ঘটনার বিষয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন।
আজকের পত্রিকাকে হেকমত আলী বলেন, স্ত্রী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া থেকে ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের বাসে ওঠেন তিনি। এ সময় বাসে ১০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। বাসটি ভেড়ামারা লালন শাহ সেতু পার হয়ে সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জে একটি হোটেলের সামনে গিয়ে থামে। সেখানে যাত্রীদের খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে আবার বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে। বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পর রাত ১২টার দিকে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে চারজন বাসটিকে সিগনাল দেন। বাসটি থামলে সেখানে ওই চার যুবকের সঙ্গে কথা বলেন হেলপার। দু-এক মিনিট কথা বলার পর গাড়িতে উঠে পড়েন ওই চার যুবক। তাঁরা বাসের পেছনের সিটে গিয়ে বসেন। তাদের মধ্যে একজনের পিঠে একটি ব্যাগ ছিল। এর কিছুক্ষণ পর আরও পাঁচজন একইভাবে ওই বাসে ওঠেন। এর কিছুক্ষণ পর ওঠেন আরও দুজন। ওই দুজন ওঠার মিনিট দশেক পরই বাসের চালককে বাসটি থামাতে বলা হয়। চালক থামাতে রাজি না হলে তাঁকে মারধর করেন তরুণেরা। এক তরুণ দ্রুত তাঁকে সরিয়ে চালকের আসনে বসে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেন।
হেকমত আলী জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই দশজন বাসের প্রতিটি সিটের পাশে পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন। তাঁরা পুরুষ যাত্রীদের গলায় ছুরি ও কাঁচি ধরে তাঁদের জিম্মি করেন। এর মধ্যে কয়েকজন দ্রুত বাসের পর্দা কেটে পুরুষ যাত্রীদের মুখ, হাত ও পা বেঁধে ফেলে এবং বাসের মাঝখানের লম্বা জায়গায় মাথা নিচু করে তাঁদের বসিয়ে রাখে। বাসে থাকা ১০ থেকে ১২ জন নারী যাত্রীর মধ্যে একজনের চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে ফেলা হয়। বাকিদের চোখ, মুখ ও হাত খোলা ছিল। বাসের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। জানালার গ্লাসগুলো আটকে দেওয়া হয়। ডাকাতেরা প্রত্যেকের কাছে গিয়ে শরীর তল্লাশি করে টাকা, মোবাইলসহ নারী যাত্রীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।
হেকমত আলীর স্ত্রী জেসমিন বলেন, বাসের পেছনের দিক থেকে তিন সিট সামনে বসে ছিলেন তিনি। তাঁর হাত বেঁধে দেয় ডাকাত দল। তাঁর থেকে দুই সিট সামনে এক নারীকে তল্লাশি করার সময় ওই নারী প্রতিবাদ করেন। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে ডাকাতদের তর্ক বেধে যায়। ওই নারীকে মারধর করে ডাকাতেরা। তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।
আজকের পত্রিকাকে জেসমিন আরও বলেন, তিনি সিটে তাঁর এক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে মাথা নিচু করে সৃষ্টিকর্তার নাম নিচ্ছিলেন। সামনে আরেক সিটে তাঁর মা বসেছিলেন আরেক সন্তানকে নিয়ে। ডাকাত দল সব কাজ শেষ করার পর একে অপরকে ডাকাডাকি করেন। ডাকাত দলের সরদারকে তাঁরা ‘কাকা’ বলে ডাকছিলেন। মাঝেমধ্যে নুরু, সাব্বির, রকি নামেও ডাকা হচ্ছিল একেকজনকে। রাত ৩টার দিকে বাসের মধ্যেই ডাকাতেরা লুট করা টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে। এই ভাগাভাগি নিয়ে বাসের ভেতরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটিও হয়। একপর্যায়ে রাস্তার পাশে গাড়িটি থামিয়ে দ্রুত তারা নেমে চলে যায়।
হেকমত আলী ও তাঁর স্ত্রী জানান, ডাকাতি চলাকালে কোনো যাত্রী কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। ভোরের দিকে পুলিশে এসে তাঁদের উদ্ধার করে। এর পর কয়েকজনে হাসপাতালে ও তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানা থেকে তাঁদেরকে দুজনের ছবি দেখানো হয়। বাসের যাত্রীদের অনেকেই নিশ্চিত করেন যে, ওই দুজন বাসের মধ্যে ছিল। তারপর রাত ৯টার দিকে বিআরটিসির গাড়িতে টিকিট কেটে কুষ্টিয়ার গাড়িতে তাঁদের তুলে দেয় পুলিশ।

মঙ্গলবার গভীর রাতে সিরাজগঞ্জে পৌঁছানোর পর পরপর তিন দফায় মোট ১১ জন ডাকাত যাত্রীবেশে উঠেছিল ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের সেই বাসে। তৃতীয় দফায় দুজন ওঠার পরই বাসটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা। দলনেতাকে তারা ডাকছিল ‘কাকা’ বলে। এ ছাড়া আরও কিছু নামও বিভিন্ন সময় শুনতে পেয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। সেই বাসে থাকা দুই যাত্রীর বয়ান থেকে জানা গেছে এমন তথ্য।
কুষ্টিয়ার প্রাগপুর থেকে ছেড়ে আসা নারায়ণগঞ্জগামী ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের যে বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, তাতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন হেকমত আলী ও তাঁর পরিবার। স্ত্রী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন তিনি। সেদিনের ঘটনার বিষয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী জেসমিন।
আজকের পত্রিকাকে হেকমত আলী বলেন, স্ত্রী, দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনিয়া থেকে ঈগল এক্সপ্রেস পরিবহনের বাসে ওঠেন তিনি। এ সময় বাসে ১০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। বাসটি ভেড়ামারা লালন শাহ সেতু পার হয়ে সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জে একটি হোটেলের সামনে গিয়ে থামে। সেখানে যাত্রীদের খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে আবার বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে। বাস ছাড়ার কিছুক্ষণ পর রাত ১২টার দিকে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে চারজন বাসটিকে সিগনাল দেন। বাসটি থামলে সেখানে ওই চার যুবকের সঙ্গে কথা বলেন হেলপার। দু-এক মিনিট কথা বলার পর গাড়িতে উঠে পড়েন ওই চার যুবক। তাঁরা বাসের পেছনের সিটে গিয়ে বসেন। তাদের মধ্যে একজনের পিঠে একটি ব্যাগ ছিল। এর কিছুক্ষণ পর আরও পাঁচজন একইভাবে ওই বাসে ওঠেন। এর কিছুক্ষণ পর ওঠেন আরও দুজন। ওই দুজন ওঠার মিনিট দশেক পরই বাসের চালককে বাসটি থামাতে বলা হয়। চালক থামাতে রাজি না হলে তাঁকে মারধর করেন তরুণেরা। এক তরুণ দ্রুত তাঁকে সরিয়ে চালকের আসনে বসে বাসটির নিয়ন্ত্রণ নেন।
হেকমত আলী জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই দশজন বাসের প্রতিটি সিটের পাশে পাশে দাঁড়িয়ে পড়েন। তাঁরা পুরুষ যাত্রীদের গলায় ছুরি ও কাঁচি ধরে তাঁদের জিম্মি করেন। এর মধ্যে কয়েকজন দ্রুত বাসের পর্দা কেটে পুরুষ যাত্রীদের মুখ, হাত ও পা বেঁধে ফেলে এবং বাসের মাঝখানের লম্বা জায়গায় মাথা নিচু করে তাঁদের বসিয়ে রাখে। বাসে থাকা ১০ থেকে ১২ জন নারী যাত্রীর মধ্যে একজনের চোখ, মুখ ও হাত বেঁধে ফেলা হয়। বাকিদের চোখ, মুখ ও হাত খোলা ছিল। বাসের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। জানালার গ্লাসগুলো আটকে দেওয়া হয়। ডাকাতেরা প্রত্যেকের কাছে গিয়ে শরীর তল্লাশি করে টাকা, মোবাইলসহ নারী যাত্রীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার লুটে নেয়।
হেকমত আলীর স্ত্রী জেসমিন বলেন, বাসের পেছনের দিক থেকে তিন সিট সামনে বসে ছিলেন তিনি। তাঁর হাত বেঁধে দেয় ডাকাত দল। তাঁর থেকে দুই সিট সামনে এক নারীকে তল্লাশি করার সময় ওই নারী প্রতিবাদ করেন। এ সময় ওই নারীর সঙ্গে ডাকাতদের তর্ক বেধে যায়। ওই নারীকে মারধর করে ডাকাতেরা। তাঁকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।
আজকের পত্রিকাকে জেসমিন আরও বলেন, তিনি সিটে তাঁর এক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে মাথা নিচু করে সৃষ্টিকর্তার নাম নিচ্ছিলেন। সামনে আরেক সিটে তাঁর মা বসেছিলেন আরেক সন্তানকে নিয়ে। ডাকাত দল সব কাজ শেষ করার পর একে অপরকে ডাকাডাকি করেন। ডাকাত দলের সরদারকে তাঁরা ‘কাকা’ বলে ডাকছিলেন। মাঝেমধ্যে নুরু, সাব্বির, রকি নামেও ডাকা হচ্ছিল একেকজনকে। রাত ৩টার দিকে বাসের মধ্যেই ডাকাতেরা লুট করা টাকা, মোবাইল ও স্বর্ণালংকার নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে। এই ভাগাভাগি নিয়ে বাসের ভেতরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটিও হয়। একপর্যায়ে রাস্তার পাশে গাড়িটি থামিয়ে দ্রুত তারা নেমে চলে যায়।
হেকমত আলী ও তাঁর স্ত্রী জানান, ডাকাতি চলাকালে কোনো যাত্রী কথা বলার চেষ্টা করলে তাঁকে মারধর করা হয়েছে। ভোরের দিকে পুলিশে এসে তাঁদের উদ্ধার করে। এর পর কয়েকজনে হাসপাতালে ও তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানা থেকে তাঁদেরকে দুজনের ছবি দেখানো হয়। বাসের যাত্রীদের অনেকেই নিশ্চিত করেন যে, ওই দুজন বাসের মধ্যে ছিল। তারপর রাত ৯টার দিকে বিআরটিসির গাড়িতে টিকিট কেটে কুষ্টিয়ার গাড়িতে তাঁদের তুলে দেয় পুলিশ।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস ফলের দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে অল্পের জন্য রক্ষা পান দোকানি। তবে বাসের ধাক্কায় গুঁড়িয়ে গেছে ওই ফলের দোকানটি। বাসের ধাক্কায় একটি অটোরিকশাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে উপজেলার বরুমচড়া রাস্তার মাথা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
১ ঘণ্টা আগে
বিতণ্ডার কিছুক্ষণ পর ফাহিমা গোসলের জন্য ঘরে প্রবেশ করলে সাইদ সিয়াম তাঁর চার-পাঁচজন সহযোগীকে নিয়ে ধারালো অস্ত্রসহ ফাহিমার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ফাহিমার চিৎকারে তাঁর চাচা আবু তাহের, চাচাতো ভাই ইকবাল হোসেন এবং বোনের জামাই শাহজালাল এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁদেরও কুপিয়ে জখম করেন।
১ ঘণ্টা আগে
‘অনেকগুলো বিষয় আছে, যেগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। এর মধ্যে এই বিষয়টিও রয়েছে। কিছুদিন আগে ভিকটিম একটা মানববন্ধন করেছিলেন চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। সেখানে মারামারি হয়েছিল। সে ঘটনায় মামলা হয়েছে। তা ছাড়া তিনি উদীয়মান জনপ্রিয় নেতা। এই বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি।’
১ ঘণ্টা আগে
গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন তেতুইবাড়ী এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ বন্ধ করে হামলা, ভাঙচুর ও কর্তৃপক্ষকে অবরুদ্ধ করার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে