
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুনের ঘটনায় নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ ছয় বাংলাদেশির মরদেহ আগামীকাল শনিবার দেশে পৌঁছাবে। মামলার তদন্ত ও থানা পরিবর্তনের কারণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হওয়ায় আজ শুক্রবার মরদেহগুলো দেশে আনা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর থেকে মামলাটি তদন্ত করছিল কলকাতার নিউমার্কেট থানা–পুলিশ। তবে আজ সকালে লালবাজারের পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মামলাটির তদন্তভার লালবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি সংগ্রহসহ মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হয়।
কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ গতকাল দুপুরে তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারি খরচে নিহতদের মরদেহ দেশে পৌঁছে দেওয়া হবে। কাগজপত্রের কিছু জটিলতার কারণে আজ মরদেহ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। রাতের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামীকাল সকালে সড়কপথে মরদেহগুলো দেশের উদ্দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’
ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, আইনি জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট থানা থেকে জিডির কপি না পাওয়ায় গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়নি। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে শনিবার সকালে মরদেহগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। এরপর মরদেহগুলো সেখানেই রাখা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মরদেহ বহনের জন্য কফিন নেওয়া হয়েছে। রাতের মধ্যে মরদেহ হস্তান্তর হলে সেগুলো স্থানীয় একটি হিমঘরে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কলকাতায় থাকা দেবাশীষের স্বজনেরা।
ডেপুটি হাইকমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, শিশু সন্তান স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ এবং সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবুর মরদেহ যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করবে। আর সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হবে।
এ দিকে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাতক্ষীরার রেবতি সরকারের মরদেহ পরিবারের ইচ্ছায় ভারতে থাকা এক আত্মীয়ের কাছে রেখে শেষকৃত্য করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এ বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কলকাতায় দেবাশীষের পরিবারের সদস্যদের মরদেহ গ্রহণের জন্য তাঁর ভায়রা ফিরোজ হাসান রয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া থেকে তিনি কলকাতায় পৌঁছান। এ ছাড়া কলকাতায় থাকা দেবাশীষের আত্মীয়রাও সেখানে রয়েছেন।
দেবাশীষের আত্মীয় কৃষ্ণ নন্দী বলেন, ‘আমরা মরদেহ বুঝে নেওয়ার জন্য মর্গে এসেছি। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবার বাংলাদেশের উদ্দেশে মরদেহ পাঠানো হবে।’
দেবাশীষ দত্তের পরিবার ও তাঁর শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবারের চার সদস্যের শেষকৃত্য দুটি ভিন্ন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর শিশুপুত্র স্বর্ণশীষের সৎকার করা হবে। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনকে দাফন করা হবে।
দেবাশীষের বাবা দিলীপ দত্ত বলেন, ‘আমার বৌমার মা খুব করে চাইছেন, তাঁর মেয়েকে তাঁদের রীতি মেনে দাফন করতে। এতে আমার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই। আমার তো সব শেষ হয়ে গেছে। এখানে নতুন করে আর কিছু চাওয়ার নেই।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯ বছর আগে আফসানা শারমীনকে বিয়ে করেন দেবাশীষ দত্ত। দুজনের ধর্ম আলাদা হলেও তা তাঁদের সংসার গড়ার পথে বাধা হয়নি। তাঁদের দুই সন্তান মহিমা ও স্বর্ণশীষ। সন্তানদের ঘিরেই ছিল তাঁদের ছোট্ট সংসার।
আগুনের ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরসহ দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। গ্রেপ্তার আবু জাফর জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে হোটেলের মূল মালিক পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হোটেল শিখা ইনে আগুন লেগে দমবন্ধ হয়ে ৭ বাংলাদেশি ও ২ ভারতীয়সহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়।
দেবাশীষ দত্তসহ তাঁর পরিবারের চার সদস্যের সৎকার ও দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। নিহত প্রত্যেকের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব নেতাদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মরদেহ পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে সৎকারের পরিবর্তে বিনা মূল্যে শ্মশানে সৎকারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল মামুন সাগর।

ঢাকা থেকে নিখোঁজ বাগেরহাটের শরণখোলার মাদ্রাসাছাত্র মাদ্রাসাছাত্র আমানুল ইসলাম আরিফের (১০) এখনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে শিশুটির পরিবার...
৭ মিনিট আগে
গাজীপুরের শ্রীপুরে গরু চুরি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বরমী ইউনিয়নের পোষাইদ গ্রামের বাসিন্দারা শুক্রবার বিকেলে শ্রীপুর থানার সামনে বিক্ষোভ করেন। গ্রামবাসীর দাবি, গত এক মাসে অন্তত ৫০টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
১৩ মিনিট আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের চরবাগডাঙ্গা ও নারায়ণপুরে পদ্মা নদীর সরকারি ইজারাকৃত বালুমহাল ঘিরে বিরোধের জেরে বাড়িঘর ও অফিসে ভাঙচুর, লুটপাট এবং একটি ভেকু মেশিনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশকে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
২৪ মিনিট আগে
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মা নদীতে চলাচল করা বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জন আহত হয়েছেন।
২৯ মিনিট আগে