Ajker Patrika

কিশোরগঞ্জে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলন, ৬৪৭ রোগী নিয়ে চরম বিপাকে সৈয়দ নজরুল হাসপাতাল

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলন, ৬৪৭ রোগী নিয়ে চরম বিপাকে সৈয়দ নজরুল হাসপাতাল
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে স্থবির কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল হাসপাতাল। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশ প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। একই দাবিতে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘একাডেমিক শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা।

আজ সোমবার দুপুরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নোটিশ চিকিৎসকদের স্বার্থবিরোধী এবং অযৌক্তিক। এ কারণে তাঁরা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ৬৪৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। নিয়মিত চিকিৎসকদের পাশাপাশি প্রায় ৮০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক বিভিন্ন ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করেন। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি চলায় চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ভর্তি রোগীদের নিয়মিত তদারকি, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা এবং বিভিন্ন চিকিৎসা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে সংকট তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। দূরদূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন। টিকিট কাউন্টার খোলা থাকলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।

ওয়ার্ডগুলোতেও দেখা দিয়েছে অতিরিক্ত চাপ। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে দায়িত্বরত নার্সদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে। ফলে অনেক রোগীর নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় বিলম্ব হচ্ছে।

তাড়াইল উপজেলা থেকে অসুস্থ মাকে নিয়ে হাসপাতালে আসা মো. রহমত আলী বলেন, ‘সকাল থেকে মাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। টিকিট কেটেছি, কিন্তু ডাক্তার দেখাতে পারছি না। ভেতরে গিয়ে দেখি ডাক্তার নেই। গরিব মানুষের কষ্ট দেখার যেন কেউ নেই।’

মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন হোসেনপুর উপজেলার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাইকে দুই দিন আগে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। বড় ডাক্তাররা রাউন্ড দিয়ে চলে যান। পরে কোনো সমস্যা হলে ইন্টার্ন ডাক্তারদের পাওয়া যেত। কিন্তু দুই দিন ধরে তাঁদের দেখা মিলছে না। রোগী নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।’

দুপুরের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. আবু ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আদনান কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তওসিফ ফারহান সামি, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাফিউল সাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মোক্তাদির আল বিরুনী।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, তাঁদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি। এ কারণে তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. আবু ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমরা রোগীদের কষ্ট দিতে চাই না। কিন্তু দাবি আদায়ে বাধ্য হয়েই কঠোর কর্মসূচি নিতে হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত