Ajker Patrika

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম: নদী-খালে বিলীন হচ্ছে সড়ক

  • গজিয়া খালের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে ভাঙন
  • কালনী নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে বাঙ্গালপাড়া-চাতলপাড় সড়কের একাংশ
  • ভাঙন অব্যাহত থাকলে দ্রুতই বিচ্ছিন্ন হবে চারটি গ্রামসহ নাসিরনগর উপজেলা
অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম: নদী-খালে বিলীন হচ্ছে সড়ক
কালনী নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ‘বাঙ্গালপাড়া-চাতলপাড়’ সড়ক। সড়কটি অল ওয়েদার সড়ক নামে পরিচিত। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের ঝঁজভাঙা গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কালনী-ধলেশ্বরী নদীর সংযোগকারী গজিয়া খালে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও বাজার। ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে বাঙ্গালপাড়া ইউপি ভবন, বাজার ও বসতি। আর কালনী নদীর প্রবল স্রোতে প্রতিদিন ভাঙছে কয়েক কোটি টাকার ‘বাঙ্গালপাড়া-চাতলপাড়’ সড়ক। সড়কটি অল ওয়েদার সড়ক নামে পরিচিত। ভাঙনরোধে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ চান ভুক্তভোগীরা।

গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের গজিয়া খালের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে বাঙ্গাপাড়া বাজার থেকে উছমানপুর পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে তীব্র ভাঙন। স্রোতের টানে একটু পরপর বিশাল মাটির খণ্ড ধসে পড়ছে খালে, সেই মাটি মুহূর্তেই মিলিয়ে যাচ্ছে স্রোতে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন খালপাড়ের বাসিন্দারা। ভুক্তভোগীরা দেখছে, স্বপ্নের বাড়ি, জমি, দোকান চোখের সামনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সর্বগ্রাসী খালপাড়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়া তাদের কিছুই করার নেই। বাঙ্গালপাড়া গ্রাম, বাজার, ইউপি ভবন রক্ষায় ভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা চায় তারা।

স্থানীয়রা জানান, কালনী নদীর নাব্যতাসংকট, আগাম বর্ষা ও উজানের পানি নামতে বাধাগ্রস্ত হয় নাসিরনগর উপজেলার লাউড়া-মাইজখোলা এলাকায়। সেই পানি গজিয়া খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অষ্টগ্রামের ধলেশ্বরী নদীতে নামছে। এতে গজিয়া খালে সৃষ্ট তীব্র স্রোতে ভাঙন শুরু হয়েছে। গত ছয় দিনে ২০০ মিটারের বেশি এলাকা খালের জলে বিলীন হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সময় গজিয়া খালে এই ভাঙন শুরু হয়। তখন বাঙ্গালপাড়া বাজারে একাধিক দোকান বিলীন হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সরকারি পাকা ঘাটলা ও জমি।

অন্যদিকে ৭ বছর আগে উপজেলার লাউড়া, নয়াগাঁও, নাজিরপুর, বাঘাইয়া গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নির্মিত হয় বাঙ্গালপাড়া-চাতলপাড় সড়ক। সম্প্রতি কালনী নদীর স্রোতে সড়কের ঝাজভাঙ্গা এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কালনী নদীতে বিলীন হয়েছে সড়কের প্রতিরক্ষা দেয়াল, সড়কসংলগ্ন জমি, সড়কের একাংশ ও একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি।

সড়কের এক কিলোমিটার ধরে চলা এই ভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে চারটি গ্রামসহ নাসিরনগর উপজেলার। বেকার হবেন কয়েক শ অটোরিকশাচালক। ভোগান্তি পোহাতে হবে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষকে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে নদীতীরবর্তী জমি ভাঙলেও কোনো রকম প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তাই এবার মূল সড়কে ভাঙন শুরু হয়েছে। সময়মতো ভাঙন প্রতিকারের উদ্যোগ নিলে সড়কের এই দশা আজ হতো না।

এই বিষয়ে অটোরিকশাচালক আবদুল কাদির (৪৭) বলেন, ‘এই সড়কে অটোরিকশা চালাইয়্যা আমার সংসার চলে। চালু করে (দ্রুত) সরকার রাস্তাটি রক্ষা না করলে আমরা গ্রামে থাকতে পারমু না, আয়রোজগার করে শহরের বস্তিতে যাইতে হইব। রাতবিরাতে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালেও নেওন যাইত না। যেকোনোভাবে আমাদের সড়ক রক্ষা করতে হইব।’

অষ্টগ্রাম-চাতলপাড় সড়ক রক্ষায় দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও কালনী নদী শাসনের দাবি অষ্টগ্রাম উপজেলাবাসীর।

বাঙালপাড়া মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ হিমেল বলেন, ‘গ্রাম ও বাজার বাঁচাতে হলে দ্রুত খালের মুখে বালুর বস্তা ফেলে স্রোতের গতি কমাতে হবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য গ্রাম প্রতিরক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। সে জন্য সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ চাই আমরা।’

এ বিষয়ে বাঙ্গালপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রুস্তম বলেন, ‘আমরা গত বছর ভাঙনের সময় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। এবার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, বাজার ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বেন বাসিন্দারা।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলে রাস্তাটি রক্ষার কাজ করব। সামনে বর্ষাকাল এ সময়ে এত লম্বা ভাঙন মোকাবিলা করাও কঠিন। তবে এলজি ও পাউবো সমন্বয় করে রাস্তাটি নির্মাণ করলে এখন এই সমস্যা হতো না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত