Ajker Patrika

ইবির শহীদ জিয়া হল: বরাদ্দ কাগজে, সিট দখলে

  • পছন্দের শিক্ষার্থীদের আগেই সিটে তুলছেন সাবেকরা
  • রাজনীতি করা ছাত্রদের কক্ষে সিট ফাঁকা থাকলেও বরাদ্দ নেই
  • নিয়মবহির্ভূতভাবে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ
ইবি সংবাদদাতা
ইবির শহীদ জিয়া হল: বরাদ্দ কাগজে, সিট দখলে
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সিট বরাদ্দ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হলের পুরোনো শিক্ষার্থীরা তাঁদের পছন্দের ‘ছোট ভাইদের’ সিটে তুলেছেন। এ কারণে হল প্রশাসন সিট বরাদ্দ দিলেও সেখানে নতুন শিক্ষার্থীরা উঠতে পারছেন না। এ ছাড়া যাঁদের রাজনৈতিক প্রভাব আছে, তাঁর রুমে সিট ফাঁকা থাকলেও প্রশাসন সিট বরাদ্দও দিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ কক্ষে শাখা ছাত্রদলের কর্মীসহ কিছু শিক্ষার্থী অবৈধভাবে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে হল প্রশাসন। এই উদ্যোগকে অবিবেচক কাজ বলে উল্লেখ করে মেধার ভিত্তিতে সিট দেওয়ার দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

হল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর আবাসিকতার আবেদনের জন্য নোটিশ প্রকাশ করে হল কর্তৃপক্ষ। পরে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে মেধাক্রম ও একাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ৮৫ শিক্ষার্থীকে হলের সিট বরাদ্দ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ ছিল, ১৪ এপ্রিল বিভিন্ন কক্ষ যাচাই-বাছাই করে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং উল্লিখিত কক্ষে কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করলে তাঁর সিট বৈধ বলে গণ্য হবে না। তবে হলে গিয়ে নির্ধারিত সিট অন্য শিক্ষার্থীদের দখলে দেখতে পাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। সিট না পেয়ে সম্প্রতি তিন শিক্ষার্থী হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা লাগিয়ে সেখানেই বিছানা পেতে আন্দোলনও করেছেন।

হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী তাহসিফ আজম বলেন, ‘আমাকে যে কক্ষে সিট দেওয়া হয়েছে সেখানে গিয়ে দেখি, সিট ফাঁকা নেই। মেস ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমার থাকার জায়গাও নেই। প্রশাসন কোনো সমাধানও দিচ্ছে না।’

হল প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, হল প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই অন্তত ২২ জন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলে অবস্থান করছেন। তাঁরা টাকাও জমা দিয়েছেন। কিন্তু অনুমতি ছাড়া টাকা জমা ও অবস্থান করায় তাঁদের নামে সিট বরাদ্দ দেয়নি হল প্রশাসন। বর্তমানে তাঁদের অবস্থানরত ওই সিটগুলো প্রশাসনের হালনাগাদে কাগজে-কলমে ফাঁকা রয়েছে। এ ছাড়া আরও অনেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবস্থান করলেও হল প্রশাসন তাঁদের বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেনি। সম্প্রতি হলে অবৈধভাবে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বৈধ করতে নোটিশ দিয়েছে হল প্রশাসন। নোটিশে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী এই হলের বিভিন্ন কক্ষে বৈধ আবাসিকপ্রাপ্ত নয়, তাঁদেরকে হল অফিসের নির্ধারিত টাকা আগামী ১১ এপ্রিলের মধ্যে জমা দিতে হবে।

জানা গেছে, জিয়া হলের ২২৫ নম্বর কক্ষে প্রায় এক মাস ধরে একা অবস্থান করছেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর উদ্দীন। কক্ষটিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি আসন ফাঁকা থাকলেও প্রশাসন এখনো সেখানে নতুন করে বরাদ্দ দেয়নি। অন্যদিকে শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সাদ্দাম হোসেন হলের শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও জিয়া হলের ৩২৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করতেন। অভিযোগ রয়েছে, শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি ওই হলে অবস্থান করছিলেন।

শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রভোস্টের অনুমতি নিয়েই জিয়া হলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ারের সঙ্গে রুম একচেঞ্জ করেই তাঁর রুমে ছিলাম। বর্তমানে আমি সেখানে থাকি না। তিন মাস ধরে মেসে আছি। আর শাহরিয়ার আমার বৈধ আসনে অবস্থান করছেন। কিছুদিন পর আমরা আবার নিজ নিজ হলে ফিরে যাব।’

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, ‘হল কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করা তথ্যে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁদের শোকজ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। অতি দ্রুত সবগুলো সিটের পুনঃহালনাগাদ করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত