Ajker Patrika

ভৈরবে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি নেতা অপু গ্রেপ্তার

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
ভৈরবে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি নেতা অপু গ্রেপ্তার
বিএনপি নেতা ওমর মোহাম্মদ অপু। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এক নারীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি নেতা ওমর মোহাম্মদ অপুকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভাইরাল অডিও রেকর্ডকে এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করার প্রায় এক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

অপু ভৈরব পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। তিনি পৌর শহরের পঞ্চবটি এলাকার মোমতাজ মোল্লার ছেলে।

আজ শুক্রবার দুপুরে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অপুকে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে এক নারীর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তখন বিষয়টি স্বীকার করেনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ওমর মোহাম্মদ অপু এবং একই এলাকার পপি বেগমের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে ভৈরবজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

ভাইরাল অডিওতে শোনা যায়, পপি বেগমের কাছে অপু ৫ লাখ টাকা দাবি করছেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি বলেন, এই টাকার ভাগ এলাকার কিছু যুবক ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের দিতে হবে। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

অডিওটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বলে দাবি করেন বিএনপির নেতা অপু। গ্রেপ্তারের প্রায় এক ঘণ্টা আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে অপুর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও বাসিন্দারা। তাঁরা অডিওটিকে এআই দিয়ে তৈরি বলেও মত দেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে সন্ধ্যার পর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপুকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বাদী পপি বেগম অভিযোগ করেন, এলাকায় থাকতে হলে বিএনপি নেতা অপু তাঁকে ৫ লাখ টাকা দিতে চাপ দেন। টাকা না দিলে বাড়িঘর বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখানো হয়।

নিজের নিরাপত্তা চেয়ে পপি বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে চাঁদা দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ।

ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই অপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঁদা দাবির ক্ষেত্রে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে ভৈরব থানা-পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব খাটিয়ে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারবে না। অপরাধী যে হোক, তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত