Ajker Patrika

আ.লীগ নেতার গ্রেপ্তারের নিন্দা, প্রধান শিক্ষকের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
আ.লীগ নেতার গ্রেপ্তারের নিন্দা, প্রধান শিক্ষকের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন
প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান দুলালের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তাঁর মুক্তি দাবি করেছেন হোসেনপুর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দিয়ে তিনি এ দাবি করেন। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় একজন প্রধান শিক্ষক এমন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে মৃগা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে কামরুল হাসান দুলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পরদিন শুক্রবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দুলালের গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে লেখেন, ‘দুলাল চেয়ারম্যান একজন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তাঁর গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানাই—দ্রুত মুক্তি কামনা করি।’

মো. মুজিবুর রহমান হোসেনপুর উপজেলার পূর্ব চরপুমদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাঁর বাড়ি ইটনা উপজেলা সদরের পশ্চিম গ্রামে।

সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি করিয়ে দেওয়ার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিযোগ করেছেন। একসময় ইটনা উপজেলায় চাকরি করলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হোসেনপুর উপজেলায় বদলি হন বলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২০২০ সালের মার্চে মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের তিন সহকারী শিক্ষিকা যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন। এ ঘটনায় তাঁরা হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। অভিযোগকারী শিক্ষিকাদের দাবি, পরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়া হয়।

প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের দেওয়া ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত
প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমানের দেওয়া ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ‘তিনি একজন ভালো মানুষ, তাই তাকে নিয়ে পোস্ট করেছি। তাকে নিয়ে আরও অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পোস্ট দিয়েছেন।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন রশিদ বলেন, ‘সরকারি কর্মচারী হিসেবে কেউ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন না। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তাঁর মুক্তি দাবি করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত