Ajker Patrika

১৪ বছরেও হয়নি স্থায়ী ক্যাম্পাস: কিশোরগঞ্জে ঈশা খাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
১৪ বছরেও হয়নি স্থায়ী ক্যাম্পাস: কিশোরগঞ্জে ঈশা খাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
আজ সকাল ১০টা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা নীলগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কিশোরগঞ্জের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। সোমবার (১১ মে) সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে প্রায় তিন ঘণ্টা নীলগঞ্জ সড়কে অবস্থান নিয়ে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

​বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী পাঠদান শুরুর দুই বছরের মধ্যে নিজস্ব জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘ ১৪ বছরেও কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে আছে, যা শিক্ষার্থীদের পেশাগত জীবনে সনদ নিয়ে ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। শিক্ষার্থীরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

​আন্দোলনে অংশ নেওয়া আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাঈদ সুমন বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাস আমাদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি। কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক কারণে এটি এড়িয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ শুরু করে আমাদের জন্য সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী নওরিন সুলতানা ঊষা বলেন, ‘স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিটি দীর্ঘদিনের, এর আগেও স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিতে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের দাবির মুখে তড়িঘড়ি করে জমি কিনে সাইনবোর্ড স্থাপন করলেও আদতে শিক্ষার্থীরা স্থায়ী ক্যাম্পাসের মাটি আজও স্পর্শ করতে পারেনি। আমরা টিনশেড ঘর করে হলেও স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে চাই।’

​সড়ক অবরোধের ফলে নীলগঞ্জ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অটোরিকশা যাত্রী মো. হারুন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জরুরি কাজে স্টেশনে যাচ্ছিলাম, কিন্তু এক ঘণ্টা ধরে রাস্তায় বসে আছি। ছাত্রদের দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু রাস্তা বন্ধ করে মানুষকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না।’

হ্যাপি নামে এক নারী পথচারী বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে স্কুল থেকে ফিরছিলাম, কিন্তু রাস্তা আটকে থাকায় রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। দাবি তো কর্তৃপক্ষের কাছে, সাধারণ মানুষের রাস্তা বন্ধ করে কী লাভ?’

​এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার চৌধুরী খায়রুল হাসান বলেন, ‘আমরা তিন দিন সময় নিয়েছি। জায়গা তো আমাদের আছেই। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে স্থায়ী ক্যাম্পাসের ব্যাপারে কথা বলে শিক্ষার্থীদের জানাব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত