Ajker Patrika

মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’ খাওয়ালেন ৮ হাজার মানুষকে

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৮: ২৩
মৃত্যুর আগেই ‘চল্লিশা’ খাওয়ালেন ৮ হাজার মানুষকে
রফিকুল ইসলামের চল্লিশা অনুষ্ঠানে হাজারো লোক সমাগম হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৃত্যুর পর হয়তো তাঁর ‘চল্লিশা’র আয়োজনটি সঠিকভাবে করা হবে না—এমন আশঙ্কা থেকেই জীবিত অবস্থাতেই নিজ হাতে আয়োজনটি করার সিদ্ধান্ত নেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের রফিকুল ইসলাম (৬২)। যেমন সিদ্ধান্ত, তেমন কাজ। সামিয়ানা টানিয়ে, চেয়ার-টেবিল সাজিয়ে হুলস্থূল করে এলাকাবাসীর খাওয়ার আয়োজন। নয় লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ৮ হাজার মানুষকে খাওয়ালেন তিনি। তাঁদের মধ্যে দরিদ্র, অসহায় মানুষও ছিলেন অনেক।

খাবারের তালিকায় ছিল গরুর মাংস, মাছের মুড়িঘণ্ট, ডাল ও পায়েস। অনুষ্ঠানে এলাকার লোকজন উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশ নেন।

রফিকুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও এলাকার মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায় এবং পরকালের সওয়াবের প্রত্যাশায় মৃত্যুর আগেই আমি এই আয়োজন করেছি। আমার ইচ্ছা ছিল, আমি নিজে বেঁচে থাকতেই সবার হাতে খাবার তুলে দেব।’

রফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো. শামীম হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন আমাদের এলাকায় আগে দেখা যায়নি। সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে আনন্দের সঙ্গে খাওয়া দাওয়ায় অংশ নিয়েছেন।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম তাঁর মৃত্যুর পর চল্লিশার পরিবর্তে জীবিত অবস্থাতেই এ ভোজের আয়োজনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

রফিকুল ইসলাম জানান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন দোকান ও জমির একটি বড় অংশ থেকে পাওয়া প্রায় ১ কোটি ৮৮ লাখ টাকা থেকে তিনি এ আয়োজনের অর্থ ব্যয় করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, পুরো আয়োজন করতে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।

ব্যতিক্রমী এ আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। জীবিত অবস্থায় নিজের জন্য ‘চল্লিশা’ আয়োজন করে অসহায় মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার ঘটনাকে অনেকেই মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত