
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ চাইলে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে মাফ করে দিতে পারেন, আল্লাহও মাফ করতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি অন্যায়ের হাত বাড়ায়, তাহলে নীরব থাকা সম্ভব নয়। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে খুলনা জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি যশোর ও সাতক্ষীরায় জনসভায় অংশ নেন। খুলনা থেকে বাগেরহাটেও তাঁর জনসভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘পায়ে পাড়া দিয়ে, মুখে বা শরীরে আঘাত করে কেউ যদি আশা করে আমরা চুপ করে থাকব, তা হবে না। আমরা ঝগড়া চাই না, কিন্তু সেই কালো হাত যদি সামনে বাড়ানোর চেষ্টা করেন, আমরা গালে হাত দিয়ে বসে থাকতে পারব না ভাই।’
খুলনার শিল্প পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় খুলনাকে শিল্পের রাজধানী বলা হলেও গত ৫৪ বছরে শিল্প খাত বিকশিত হয়নি। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অধিকাংশ শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিশ্বের অন্য দেশগুলো শিল্পে এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশে একের পর এক শিল্প ধ্বংস করা হয়েছে।
চারদলীয় জোট সরকারের সময় শিল্পমন্ত্রী হিসেবে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর লক্ষ্য ছিল বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা। সেই অসমাপ্ত কাজ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট সম্পন্ন করতে চায়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বন্ধ শিল্পকারখানার কারণে লাখো শ্রমিক বেকার হয়েছেন। জনগণের ভালোবাসায় রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে আমরা বন্ধ কারখানা চালু করব এবং নতুন শিল্প স্থাপন করব।’ তিনি বলেন, ‘খুলনাঞ্চল জলাবদ্ধতা, লবণাক্ত পানির কবলে পরে আজকে কৃষকদের একেবারেই বিধ্বস্ত অবস্থা। আল্লাহ যদি আমাদের এই দেশের খেদমতের দায়িত্ব দেন, আমরা কথা দিচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে বসে, আপনাদের সঙ্গে ডায়ালগ করে, কোন কাজটা আগে করলে এই এলাকার উন্নয়ন হবে, দেশের উন্নয়ন হবে, আমরা তা ঠিক করব। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আপনাদের সম্পদ আপনাদের হাতে তুলে দেব।’
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা নয়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হবে। মামা-খালু বা টেলিফোন তদবিরের কোনো সুযোগ থাকবে না। ধর্ম-বর্ণ নয়, যোগ্যতাই হবে একমাত্র বিবেচ্য। আমরা এটাও দেখব না একজন উপযুক্ত নাগরিক তিনি কোন ধর্মের বিশ্বাসী। আমরা দেখব এ কাজের জন্য তিনি উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। তিনি যদি উপযুক্ত ব্যক্তি হন, তাঁকে তাঁর যথাস্থানে সম্মানের জায়গায় বসিয়ে দেওয়া হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছর শুধু আমরাই নির্যাতিত হইনি, আরও অনেকেই নির্যাতিত হয়েছেন। তবে এইটা সঠিক, আমরা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছি, সেইভাবে অন্য কেউ নির্যাতিত হননি। কারও অফিসগুলা বন্ধ ছিল না পুরা সময়জুড়ে। কারও নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়নি। কারও দলীয় প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়নি। তাদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত কারও সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। এই সবগুলো ছিল জামায়াতে ইসলামীর ওপর চরম জুলুম।’
নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আশ্চর্যের বিষয়, আমাদের একটি বন্ধু সংগঠন, তারা ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে এটা মায়ের হাতে দেবে। তারা একদিকে দিচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড, আরেক দিকে দিচ্ছেন আবার মায়ের গালে হাত। এই দুইটা একসাথে চলে না। আমরা অনুরোধ করব, নিজের মাকে সম্মান করুন। যদি আপনি নিজের মাকে সম্মান করতে পারেন, তাহলে গোটা মায়ের জাতিকে আপনি সম্মান করতে পারবেন। আর যদি নিজের মাকে সম্মান না করতে পারেন, আপনি বাংলাদেশের একজন নারীকেও সম্মান করতে পারবেন না। আজকে বিভিন্ন জায়গায় হামলা শুরু হয়েছে, মাথা গরম হয়ে গিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন মাথা গরম হলে চৈত্র মাসে কী করবেন? এখন তো আরামদায়ক বাতাস আছে, আবহাওয়া আছে, এই সময় মাথা গরম করিয়েন না। জনগণের রায়ের প্রতি আস্থা রাখুন। অতীতে জনগণের রায়কে যারা সম্মান করে নাই, তাদের পরিণতি কী হয়েছে, তা থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমরা জীবন দেব, আমার মায়ের ইজ্জত দেব না। মায়ের ইজ্জতের জন্য লড়ে যাব। সুতরাং, কেউ আর মেহেরবানি করে এ রকম করবেন না। যারা করেছেন, তওবা করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে মাফ চেয়ে নেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ১৩ তারিখ থেকে আল্লাহ তাআলার দরবারে একটা নতুন বাংলাদেশ চাই। একটা অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমার মায়ের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। শিশুদের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। আমার বৃদ্ধা মহিলার জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।’
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য ও খুলনা মহানগর আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নেতা রাশেদ প্রধান, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য-সমর্থিত দেয়াল ঘড়ির প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, খুলনা-২ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য-সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য-সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী খুলনা জেলা হিন্দু মহাজোটের সভাপতি বাবু কৃষ্ণ নন্দী।

কেউ যদি আপনার কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে আসে, সে মোনাফেক। আর কেউ যদি বিশ্বাস করে যে একখানা ভোট দিয়ে কেউ জান্নাতে যাবে, তাহলে সে শিরকি করল।
৪ মিনিট আগে
খাবার পানি নেওয়াকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জে রেলবস্তিতে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নারীসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার প্রান্তিকপাড়া রেলবস্তি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
৮ মিনিট আগে
রংপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ব্যারিস্টার মঞ্জুম আলীর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ওই আসনে বিএনপি প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজনের করা রিট আবেদনে হাইকোর্ট জাপা প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন।
৮ মিনিট আগে
শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
২২ মিনিট আগে