
একসময় নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ের পাড়ে অবহেলায় বেড়ে ওঠা ‘হোগলা’ গাছকে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হতো না। অথচ সেই হোগলাপাতাই এখন তেরখাদা উপজেলার আজগড়া ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বনে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক এই উপাদান দিয়ে তৈরি পাটি বিক্রি করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরছে অনেক পরিবারে। বদলে যাচ্ছে গ্রামের আর্থ-সামাজিক চিত্র, সচল হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা।
খুলনার তেরখাদা উপজেলার আনন্দনগর গ্রামটি এক সময় সন্ত্রাস কবলিত জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু হোগলাপাতায় আশ্রয় করে এর রূপ এবং পরিচয় পর্যন্ত বদলে গেছে। গ্রামটি এখন ‘হোগলাপাটির গ্রাম’ নামে সারাদেশে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামে উৎপাদিত হোগলাপাটি দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলাতে বিক্রি হচ্ছে।
আনন্দনগর গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হোগলাপাতার পাটি তৈরির সঙ্গে জড়িত। বাড়ির আঙিনা, উঠান কিংবা খোলা জায়গায় প্রতিদিন চলে পাটি তৈরির ব্যস্ততা। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের পাশাপাশি নারীরাও এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। গৃহস্থালি কাজের ফাঁকে পাটি বুনে তারা পরিবারের আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন।
জানতে চাইলে স্থানীয় পাটি ব্যবসায়ী হিরা মোল্লা বলেন, `বছরের বিভিন্ন সময় চাহিদা থাকলেও কোরবানির ঈদের সময় পাটি বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তখন উৎপাদনও বাড়াতে হয়।'
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আনন্দনগরে উৎপাদিত হোগলাপাতার পাটি শুধু তেরখাদা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নয়, খুলনা ও যশোর শহরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সরবরাহ করা হয়। পাইকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে প্রতিদিন শত শত পাটি বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে এ শিল্পকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি বিস্তৃত বিপণন ব্যবস্থা।
কারিগর বিল্লাল হোসেন, পারুল বেগমসহ অনেকেই বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে আনন্দনগরে হোগলাপাতার পাটি তৈরির এই ঐতিহ্য চলে আসছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি পাটি উৎপাদিত হয়। এসব পাটি বিক্রির মাধ্যমে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করছে।
পরিবেশকর্মী মাহমুদুল হাসান বলেন, `পরিবেশ রক্ষার বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। হোগলাপাতার পাটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এর চাহিদা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রয়েছে। পরিবেশ ও অর্থনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই এ শিল্প ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।'
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব হওয়ায় হোগলাপাতার পাটির চাহিদা এখনও ব্যাপক। সবজি পরিবহন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক আয়োজন এবং গ্রামীণ জীবনের বিভিন্ন কাজে এ পাটির ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এর চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে এ সময় উৎপাদন ও বিক্রিও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয় আতিয়ার রহমান নামের এক প্রবীণ জানান, একসময়ের অবহেলিত এই প্রাকৃতিক সম্পদ এখন অনেক পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ তৈরি করেছে। হোগলাপাতা সংগ্রহ, শুকানো, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং পাটি তৈরির পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে গ্রামের বহু মানুষ সম্পৃক্ত। ফলে এটি শুধু একটি কুটিরশিল্প নয়, বরং একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোগলাপাতার পাটির গ্রহণযোগ্যতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্লাস্টিক ও অন্যান্য কৃত্রিম উপকরণের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক এই পণ্যের প্রতি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে দেশব্যাপী এর বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।
পরিবেশকর্মী মাহমুদুল হাসান বলেন, সম্ভাবনাময় এই শিল্পের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পর্যাপ্ত পুঁজি, আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে অনেক উদ্যোক্তা উৎপাদন বাড়াতে পারছেন না। সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করা গেলে এ শিল্পের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। সেইসঙ্গে রপ্তানির সুযোগ ও পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া গেলে তা আরও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে।

একসময় স্বস্তি ও নিরাপদ যাত্রার অন্যতম মাধ্যম ছিল ট্রেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ট্রেনযাত্রাই এখন পরিণত হয়েছে ভোগান্তি আর মৃত্যুঝুঁকির যাত্রায়। লাইনচ্যুত হওয়া, ইঞ্জিনে আগুন লাগা কিংবা ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝপথে ট্রেন আটকে পড়া—নিত্যদিনের এসব ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে যাত্রীদের।
১ ঘণ্টা আগে
বরগুনার আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। লেকের মধ্যে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়েতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণে গতকাল রোববার অবকাঠামো ধসে পড়ে।
১ ঘণ্টা আগে
দ্বীপ জেলা ভোলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় (লোডশেডিং) অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকেরা। বিদ্যুতের আবাসিক সংযোগের গ্রাহকেরা শুধু নন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিল্পকারখানার মালিকেরাও। বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
যশোরের মনিরামপুরে সরকারি অর্থে দুটি খাল পুনঃখননের পর তীরে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে নিম্নমানের চারা লাগিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) দপ্তরের বিরুদ্ধে।
১ ঘণ্টা আগে