Ajker Patrika

মাসুদ শেখকে গুলি করা কুব্বাত ছিলেন অডিট কর্মকর্তা, অস্ত্র আইনে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
মাসুদ শেখকে গুলি করা কুব্বাত ছিলেন অডিট কর্মকর্তা, অস্ত্র আইনে মামলা
প্রতীকী ছবি

খুলনা নগরীর দারোগাপাড়া মহিউদ্দিন সড়কের একটি বাড়িতে মাসুদ শেখের ওপর গুলির ঘটনায় মামলা হয়নি। তবে ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এতে খান কুব্বাত আলীকে আসামি করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় অডিট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুই বছর আগে তিনি সেখান থেকে অবসর নেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা অন্য তিনজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে টুটপাড়া দারোগাপাড়া মহিউদ্দিন সড়কে কেএম ইমতিয়াজের বাড়ির দুই তলায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৬টি ম্যাগজিন, ৮ রাউন্ড গুলিসহ দেশি কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করে। এরপর তাদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল বুধবার সকালে টুটপাড়া এলাকায় মাসুদ শেখের ওপর গুলি হয়েছে, এমন সংবাদে পুলিশ তদন্তে নামে। পরে তারা টুটপাড়া এলাকার মহিউদ্দিন সড়কের কেএম ইমতিয়াজ আলীর বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে। এ সময়ে তারা খান কুব্বাত আলী, তাঁর ছেলে কেএম আবিদ হাসান, তাঁর স্ত্রী শামসুন নাহার ও দলিল লেখককে হেফাজতে নেয়। রাতে তাঁদের সবাইকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। কুব্বাত আলী অনেক চতুর প্রকৃতির; অস্ত্র সম্পর্কে কোনো তথ্য তিনি দিচ্ছেন না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড চাওয়া হবে।

ওসি আরও বলেন, বুধবার সকালে দলিল লেখক টুকুর সঙ্গে তেরখাদা উপজেলার মাসুদ শেখ কুব্বাত আলীর বাড়িতে জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে মীমাংসার জন্য আসেন। সেখানে সে গুলিবিদ্ধ হয়।

কুব্বাত আলীর ছেলে কেএম আবিদ হাসান বলেন, আমি খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। গুলিবিদ্ধ মাসুদ শেখ আমাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয়। বুধবার সকাল ১০টার দিকে তেরখাদা থেকে টুকু ও মাসুদ শেখ আমাদের বাড়িতে আসেন। দরজা তাঁর বাবা খুলে দেন। পাশের ঘরে তিনি পড়াশোনা করছিলেন। ড্রইংরুমে বসে তিনজন জমির বিষয়ে কথা বলছিলেন। এর ২০ মিনিট পর বিকট শব্দ হয়।

আবিদ আরও বলেন, পড়া রেখে আমি ঘটনাস্থলে এসে দেখি মাসুদ শেখের গলায় গুলি লেগেছে। সে দাঁড়ানো অবস্থায় ফ্লোরে বসে পড়েন। বাবা তাঁর কাছে গিয়ে ফিসফিস করে কথা বলতে থাকেন। এরপর নিজেই রাস্তায় নেমে রিকশা ডেকে তাঁকে হাসপাতালের উদ্দেশে ছেড়ে দেন। বাড়িতে অস্ত্র আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আঁচ করতে পেতাম। তিনি ঢাকার একজনের সঙ্গে কথা বলে এগুলো এখানে এনেছেন।

কেএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার অমিত কুমার বর্মণ বলেন, খান কুব্বাত আলী বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় অডিট কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি খুলনা ও ঢাকা বিভাগে চাকরি করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই থেকে আড়াই বছর চাকরি করেছেন।

বর্তমানে তিনি অবসরে রয়েছেন। তিনি খুব চালাক প্রকৃতির, কিছু জিজ্ঞাসা করলেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। তাঁকে পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ড চাওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত