খুলনায় তাঁতী দল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় নগরীর রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে তাঁর নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘হিল ক্যান্টিনে’ তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত হুমায়ুন কবির সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। তিনি রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজ বাসায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, নিহত হুমায়ুন কবির রায়মহল বড় মসজিদের পেছনে ‘ইল ক্যান্টিন’ নামে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বসে ছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত দেশি অস্ত্র, রামদা ও চাপাতি নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করার পাশাপাশি বুকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এই হত্যার জন্য স্থানীয় ছাত্রদলকে দায়ী করেছে পরিবার। হাসপাতালে উপস্থিত নিহতের ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল আলম বিপ্লব অভিযোগ করেন, নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা আরাফাত হোসেনের নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে তাঁর চাচাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত হুমায়ুন কবীর বিগত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছিলেন। আগামী কেসিসির নির্বাচনে একই ওয়ার্ড থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন।
খুলনা মহানগর তাঁতী দলের আহ্বায়ক আবু সাঈদ শেখ বলেন, হুমায়ুন কবির খুলনা মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
কেএমপির খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ শাহজাহান আলী বলেন, ঘটনাটি খালিশপুর ও আড়ংঘাটা থানার সীমান্তবর্তী এলাকা হলেও ঘটনাস্থল আড়ংঘাটা থানা এলাকায় ঘটেছে।
তবে আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলিমুর রহমানের নম্বরে কল করা হলেও সেটি রিসিভ হয়নি।
তবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুদর্শন কুমার রায় বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।









