Ajker Patrika

যুবদল কর্মী ফখরুল হত্যা: চুক্তিভিত্তিক শুটার ‘কাটাপ্পা’র আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা 
যুবদল কর্মী ফখরুল হত্যা: চুক্তিভিত্তিক শুটার ‘কাটাপ্পা’র আদালতে স্বীকারোক্তি
গ্রেপ্তার ইব্রাহিম ওরফে কাটাপ্পা। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার রূপসা উপজেলা যুবদলের কর্মী ফখরুল ইসলাম হত্যা মামলায় ইব্রাহিম ওরফে কাটাপ্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত-২-এর বিচারক অপূর্ব বালা।

এর আগে ফখরুল হত্যার ঘটনায় র‍্যাব-৬ ও সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে কাটাপ্পাকে গ্রেপ্তার করেন।

পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১২ আগস্ট রাতে রূপসার মেসার্স রূপসা ব্রিকসের কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন যুবদল কর্মী ফখরুল ইসলাম। এ সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর ভাই ফরহাদ হোসেন বাদী হয়ে রূপসা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়, রূপসার ওই ইটভাটার পাহারাদার তৈয়েব একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর হয়ে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাদক কারবারের টাকার একটি অংশ ফখরুল নিতেন। বিষয়টি জানতে পেরে ওই বাহিনীর প্রধান ফখরুলের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয় কাটাপ্পা ও আব্দুর রহমানকে।

সূত্রটি আরও জানায়, হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন বিকেলে আব্দুর রহমান মোটরসাইকেলে করে ফখরুলকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরেন। পরে রাতে তাঁকে রূপসা ব্রিকসের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কয়েকজন মিলে মাদক সেবনের পর সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় কাটাপ্পা ফখরুলকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। প্রথম গুলির পর দ্বিতীয় গুলি কাজ না করায় আব্দুর রহমান পিস্তল দিয়ে ফখরুলের মুখে গুলি করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

পরে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তাঁরা। আব্দুর রহমান পিস্তল নিয়ে চলে গেলেও চুক্তির টাকা না পেয়ে তাঁর কাছ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা নিয়ে কাটাপ্পা যশোর চলে যান বলে সূত্রটি জানিয়েছে।

উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় যশোরে কাটাপ্পার অবস্থান শনাক্ত করে র‍্যাব সদস্যরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। গত শনিবার রাত ৩টার দিকে গ্রেপ্তারের পরদিন বিকেলে তাঁকে রূপসা থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে সোমবার তাঁকে আদালতে নেওয়া হয়।

পুলিশ আরও জানায়, মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ইটভাটার পাহারাদার তৈয়েবকেও খোঁজা হচ্ছে।

খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কাটাপ্পা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দি শেষে রাতে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত