Ajker Patrika

লাল সোনাইলে আলো হয়ে আছে পাহাড়

নীরব চৌধুরী বিটন, খাগড়াছড়ি
লাল সোনাইলে আলো হয়ে আছে পাহাড়
লাল সোনাইল ফুটেছে খাগড়াছড়ির পহাড়ি পথে। গোলাপি ও গাঢ় লাল রঙের এই ফুল সবার নজর কাড়ে। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রচণ্ড খরতাপে প্রকৃতি যখন ক্লান্ত, তখন পাহাড়ে হালকা গোলাপি আর লালের মায়া ছড়িয়ে দিয়েছে ক্যাসিয়া জাভানিকা, যার বাংলা নাম লাল সোনাইল। সবুজ পত্রপল্লবের মাঝে গুচ্ছ গুচ্ছ রঙিন ফুল যেন জড়িয়ে রেখেছে অপরিসীম মুগ্ধতা। তাইতো ব্যস্ত পথিকও ক্ষণিক থমকে দাঁড়ান -- এই সৌন্দর্য যে এড়িয়ে যাবার নয়!

আমাদের দেশে দুর্লভ কয়েকটি ফুলের মধ্যে অন্যতম একটি হলো ক্যাসিয়া জাভানিকা। লাল সোনাইল বলা হলেও এই ফুলের মধ্যে গোলাপি রঙের আভাই বেশি। আকর্ষণীয়, মিষ্টি ফুলটির দেখা মিলছে এখন খাগড়াছড়ি সদরের বেশ কয়েকটি স্থানে। ২৫/ ৩০ মিটার উচ্চতার গাছগুলোতে সবুজ পাতায় লাল, গোলাপির সুবিন্যস্ত বিস্তার সত্যি নজরকাড়া।

লাল সোনাইল ফুটেছে খাগড়াছড়ির পহাড়ি পথে। গোলাপি ও গাঢ় লাল রঙের এই ফুল সবার নজর কাড়ে। ছবি: আজকের পত্রিকা
লাল সোনাইল ফুটেছে খাগড়াছড়ির পহাড়ি পথে। গোলাপি ও গাঢ় লাল রঙের এই ফুল সবার নজর কাড়ে। ছবি: আজকের পত্রিকা

বছর চারেক আগে খাগড়াছড়ি উপবিভাগীয় প্রকৌশলীয় কার্যালয়ে ক্যাসিয়া জাভানিকার চারা রোপণ করেন বর্তমান রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। এ ছাড়াও তিনি খাগড়াছড়ি সদরের ধর্মপুর আর্য বনবিহার, অপরাজিতা বৌদ্ধবিহার সংলগ্ন এলাকা, মহিলা কলেজ সড়ক, বটতলী সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে এই গাছের চারা রোপণ করেন। যত্নে পরিপুষ্ট হয়ে গাছগুলো এখন ফুল ফুটিয়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে।

বৃক্ষপ্রেমী সবুজ চাকমা বলেন, ফুলের রং গোলাপি হওয়ায় দূর থেকেই এটি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গাছগুলো ডালাপালা মেলে অনেকটা ছাতার মতো দেখতে। আর ডালে ডালে থোকায় থোকায় ফোটা ফুল গ্রীষ্মের শুরুতে এক অপূর্ব সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। ফুলগুলো প্রায় ৩ সেন্টিমিটার চওড়া, ঘ্রাণযুক্ত। এর পাঁপড়ির বিন্যাসও বেশ আকর্ষণীয়।

তিনি আরও বলেন, ``কয়েক বছর আগে সদরের ধর্মপুর বনবিহার থেকে বীজ সংগ্রহ করি। এরপর নিজে চারা তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে রোপণ করেছি।'

পথচারীরা জানান, ফুলের সৌন্দর্য দেখে অবাক হয়ে ফুলের দিকে থাকিয়ে থাকেন। এর অপরূপ সৌন্দর্যের সাক্ষী হতে অনেকে আবার ছবিও তুলে রাখেন।

কথা ‍হয় সুচরিতা ত্রিপুরা নামে এক পথচারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ``যখনই এ পথ দিয়ে যাই, ফুলটির সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে গাছটির নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। এতে যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সুযোগ পেলে গাছটির চারা সংগ্রহ করে বাড়িতে লাগাব।'

হিল অর্কিড সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সাথোয়াই মারমা জানান, ``জাভানিকা ফুলটি গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে দেখছি। প্রথমে আর্য্যবন বিহারে দেখি। এপ্রিল মাসের শেষ দিক থেকে ফোটে। দূর থেকে অনেক সুন্দর দেখা যায়। রাস্তার দুই পাশে লাগালে খুব সুন্দর লাগবে।'

উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা জানান, ক্যাসিয়া জাভানিকার আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। সারা পৃথিবীতে উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের বাগানে উদ্ভিদ হিসেবে এর জন্ম হয়। খাগড়াছড়িতে এপ্রিলের মাঝামাঝিতে এই ফুল ফোটে। ক্যাসিয়া জাভানিকা দ্রুত বর্ধনশীল। একে নান্দনিক সৌন্দর্য মনোমুগ্ধকর। সৌন্দর্যের পাশাপাশি নানা ভেষজ উপকারিতাও রয়েছে ক্যাসিয়া জাভানিকার। থাইল্যান্ডের নয়টি শুভ গাছের মধ্যে ক্যাসিয়া জাভানিকা একটি এবং বলা হয় এটি সৌভাগ্য নিয়ে আসে।

খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের খেজুরবাগান উপ-সহকারী উদ্যান কর্মকর্তা সুজন চাকমা বলেন, ক্যাসিয়া জাভানিকা বিদেশি উদ্ভিদ হলেও বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বেশ মানিয়ে নিয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়ি সদরের বিভিন্ন স্থানে দেখা যাচ্ছে। বীজ সংগ্রহ করে লাগিয়ে একটু যত্ন নিলেই কয়েক বছরের মধ্যে ফুল ফোটায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

হাত-পাবিহীন শিশুর জন্ম: বাবা বললেন ফেলে দিতে, হাসপাতাল করল বিল মওকুফ

যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম আবুঘারবিয়েহ

হোয়াইট হাউসের ডিনারে হামলা: মেধাবী প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক অ্যালেন কেন অস্ত্র তুলে নিলেন

ট্রাম্পের অনুষ্ঠানে গুলি: আটক যুবক সম্পর্কে যা জানা গেল

মেয়ে বেঁচে নেই, লাশটা অন্তত পেতে চাই: যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার নাহিদার বাবা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত