মানিকছড়িতে এক রাতে ৪০০ ফুট বিদ্যুতের তার চুরি

খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে এক রাতে একটি বাড়ির প্রায় ৪০০ ফুট বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী মো. ইমরান হাসান। আজ রোববার মানিকছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ইমরান। গত দুই মাসে উপজেলার অন্তত ২০ থেকে ৩০টি বাড়ি ও স্থানে বিদ্যুতের তার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ ফুট দূরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে সার্ভিস তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছিলেন উপজেলার মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরান। গতকাল শনিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। আজ সকাল ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে ঘরে বিদ্যুৎ না পেয়ে বাইরে যান। সেখানেই বৈদ্যুতিক মিটার থেকে খুঁটি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ ফুটে তার না থাকার বিষয়টি নজরে আসে তাঁর।
মো. ইমরান হাসানের দাবি, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তারটি কেটে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে থানায় অভিযোগ করেছেন তিনি।
উপজেলা সদর ইউনিয়নের পাঞ্চারামপাড়ার আবদুল সাত্তার বলেন, ‘আমাদের বাড়ির প্রায় ৫০০ ফুট বিদ্যুৎ সংযোগের তার কয়েক দিন আগে কেটে নিয়ে গেছে।’
পান্নাবিল এলাকার শিমুল কান্তি নাথ বলেন, বৈদ্যুতিক সার্ভিস তার চুরির ঘটনা প্রত্যেক গ্রামেই ঘটছে। দুই সপ্তাহ আগে তাঁর বাড়ি থেকে ৮০ গজ, অর্থাৎ ২৪০ ফুট সার্ভিস তার চুরি করে নিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া তিনটহরী ইউনিয়নের বাসিন্দা ছোটন দেব নাথ, উপজেলা পরিষদের কাছের হাজীপাড়ার নীহার বালা ও শিউলী বেগমের বাড়ির তারও কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মতিন বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনের তার চুরি বেড়ে গেছে। পাঞ্চারামপাড়া ও পান্নাবিল এলাকায় একাধিক বাড়িতে তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধারণা করছি, ক্যাসিনো বা মোবাইল গেমে আসক্ত ছেলেপেলেরা টাকা সংগ্রহে তার চুরিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’
মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ রাশেদ খান চৌধুরী বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনের তার চুরির খবর পাওয়ার পর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার সব পুরোনো বোতল, টিন ও ব্যবহৃত নষ্ট মালামালের বিক্রেতা ভাঙারি দোকানদারকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছে। পুরোনো মালামাল কেনার ক্ষেত্রে তাঁদের সতর্ক করা হবে।’









