
ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশদ্বারে নির্মিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ ও ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। গত দুদিন ধরে শ্রমিকেরা চত্বর অপসারণের কাজ করছেন। তবে কারা ভাঙছেন, কী কারণে ভাঙছেন, তার নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের প্রবেশমুখে অবস্থিত চত্বরটি ভাঙার কাজ চলছে। শ্রমিকদের কাছে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে পৌরসভায় যোগাযোগ করতে বলেন।
পথচারী আজিজুল হক বলেন, প্রত্যেকটি শহরের প্রবেশমুখেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ঐতিহ্য নিয়ে ব্র্যান্ডিং ভাস্কর্য বা প্রতিকৃতি রয়েছে। ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে এই স্থানটিতে একটি ভাস্কর্য ছিল। শুনেছি এটি ঝিনাইদহের গর্ব বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের। এখন দেখছি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তবে কেন ভাঙা হচ্ছে আমরা জানি না।
তবে একজন বাসচালক লিয়াকত আলী বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়তই যাতায়াত করতে হয়। এই ভাস্কর্যটি এমন জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে যে, সড়কের এক প্রান্ত থেকে ওপর প্রান্তে কোনো গাড়ি আসছে কি না দেখা যায় না। এতে অনেক সময়ই আমাদের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। এ ভাস্কর্যটি এখন অপসারণ করা হচ্ছে, আমাদের যাতায়াতের জন্য ভালো হবে। তবে ভাস্কর্যটি যেহেতু বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের, এ জন্য দাবি থাকবে, অন্য কোথাও সুন্দর স্থান দেখে নতুন করে যেন স্থাপন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ঝিনাইদহ তথা সারা দেশের গর্ব। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে নিজের জীবন দিয়ে বীরত্বপূর্ণ ইতিহাস লিখে গেছেন। তাঁর নামে একটি চত্বর থাকলে নতুন প্রজন্ম তাঁর সম্পর্কে জানবে। সেটা যদি জেলার প্রবেশমুখে হয়, তাহলে যেকেউ জেলায় প্রবেশের পথেই তাঁর সম্পর্কে জানতে পারবে।
ভেঙে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, কেন ভাঙা হচ্ছে তা জানি না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলতে পারবেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, এটা যে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য তা জানা ছিল না। তা ছাড়া জেলা প্রশাসন ভাঙছে বিষয়টি এমন নয়। তবে এটি ওই জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় অনেক আগেই। সড়ক ও জনপথ এবং পৌরসভা সেই সিদ্ধান্তই বাস্তবায়ন করছে সম্ভবত। তবে নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ভাঙার বিষয়ে তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, কারা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ভাস্কর্য ও চত্বরটি অপসারণ করছে তা আমার জানা নেই।
ঝিনাইদহ পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের দিকে ঝিনাইদহ পৌরসভার উদ্যোগে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ঝিনাইদহ-যশোর, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা লিংক সড়কে ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রশস্ত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক বছর অতিবাহিত হলেও অজ্ঞাত কারণে ভাস্কর্যটির সম্পূর্ণ কাজ শেষ না করেই ফেলে রাখা হয়। এর মধ্যে দুই দফা মেয়র পরিবর্তন ও দুই দফা প্রশাসক নিয়োগ হলেও এই চত্বরের কাজ শেষ হয়নি। কাজ শেষ না করায় ভাস্কর্যের সম্পূর্ণ আকৃতিও ছিল না। এদিকে দীর্ঘদিন অবহেলায় ফেলে রাখায় চত্বরে সৌন্দর্যবর্ধনের গাছের পরিবর্তে জন্ম নেয় আগাছা।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় আমার চাচা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল তৎকালীন ঝিনাইদহ পৌরসভা চেয়ারম্যান। সে সময়ের পৌর চেয়ারম্যান আমাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ভাস্কর্য নির্মাণ শুরুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান। আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমার ভাই মুস্তাফিজুর রহমান ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এখন ফেসবুকের মাধ্যমে দেখছি ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। কেন ভাঙা হচ্ছে, কার নির্দেশে ভাঙা হচ্ছে বা কোন দপ্তর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এসব বিষয়ে আমাদের পরিবারের সঙ্গে কেউ কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
ভাতিজা আরও বলেন, ‘ভাস্কর্যটি যদি সরাতেই হতো, তাহলে অন্তত আমাদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করা যেত। কাউকে কিছু না জানিয়ে এভাবে ভাস্কর্য অপসারণ করা এটি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের শামিল। একই সঙ্গে আমাদের পরিবারের সদস্যদেরও অবমাননা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

রাজধানীর তেজগাঁও বেগুনবাড়ি এলাকায় অটোরিকশার ধাক্কায় নওরীন নামে তিন বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বেগুনবাড়ি মসজিদ মার্কেটের পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে...
৩ মিনিট আগে
জয়পুরহাটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় পৃথক দুটি ধারায় এক মাদক কারবারিকে যাবজ্জীবন ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. তসরুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।
৪ মিনিট আগে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে একজন পুরুষকে এক নারীর সঙ্গে ফোনে কথা বলতে শোনা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই পুরুষ বলেন, ‘এরা (এইচএসসি পরীক্ষার্থী) তো ফার্মের মুরগি...কিন্তু মাথায় বৃষ্টি পড়লেই জ্বর আসে...
১২ মিনিট আগে
লক্ষ্মীপুরে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুই উপজেলার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। প্রকল্প এলাকায় ভাঙন রোধ হওয়ায় বসতবাড়ি ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে নদীপারের বাসিন্দাদের। ইতিমধ্যে বাঁধের প্রায় ৩১ কিলোমিটার কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে আরও বছরখানেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পানি
১৪ মিনিট আগে