Ajker Patrika

ঝিনাইদহে চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকদের সড়ক অবরোধ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে চাহিদামতো সার না পেয়ে কৃষকদের সড়ক অবরোধ
ঝিনাইদহে কৃষকদের সড়ক অবরোধ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহে চলতি আমন ধানের ভরা মৌসুমে চাহিদামতো সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। ইউরিয়া সারের সঙ্গে টিএসপি ও ডিএপি সারের জন্য কৃষকদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ শনিবার সকালে জেলার শৈলকুপার গাড়াগঞ্জ বাজারে সার না পেয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা।

সকালে উপজেলার গাড়াগঞ্জ পুরাতন বাজারের সার ডিলার শুভ এন্টারপ্রাইজে সার নিতে আসেন স্থানীয় কৃষকেরা। এ সময় ডিলার সার দিতে অস্বীকৃতি জানালে কৃষকেরা গাড়াগঞ্জ-শৈলকুপা সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। ফলে বন্ধ হয়ে যায় ওই সড়কে যান চলাচল। ভোগান্তিতে পড়েন চলাচলকারীরা। পরে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সার দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে অবরোধ তুলে নেন কৃষকেরা।

সম্প্রতি চাহিদামতো সার না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসলেও জেলা কৃষি বিভাগ ও বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষ বলছে, জেলায় সারের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। প্রতিমাসের চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ ডিলারেরা উত্তোলন করছেন। তবে কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার পয়েন্টে চাহিদামতো সার মিলছে না, কিন্তু বেশি দাম দিলে খোলা বাজারে সারের অভাব নেই। এ ছাড়া সার নিতে যাওয়া কৃষকদের সঙ্গে সার ডিলারদের অসহযোগিতা ও খারাপ ব্যবহারে কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন।

অন্যদিকে অনেক ডিলার সার দিলেও নানাভাবে কৃষকদের সময় ও আর্থিকভাবে হয়রানি করছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি দাম (প্রতিকেজি ২৭ টাকা) ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু খোলা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭৫০ টাকায়। একইভাবে ১ হাজার ৩৫০ টাকার এক বস্তা টিএসপি সার খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। আর ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি সার খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়। কোথাও কোথাও এ ক্ষেত্রে কিছুটা মূল্য কমবেশি রয়েছে।

ঝিনাইদহে কালীগঞ্জে অবস্থিত বাফার গুদামের ইনচার্জ অহিদুর রহমান সারের মজুত ও বিতরণ সম্পর্কে জানান, ইউরিয়া সারের মজুত, আমদানি ও বিতরণে কোনো রকমের ঘাটতি বা অনিয়ম নেই। কালীগঞ্জের এ সার গুদাম থেকে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ১২৬ ডিলারের মাধ্যমে ইউরিয়া সার বিতরণ করা হয়। আগস্ট মাসে চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৮৯৮ মেট্রিক টন, যার ৮৯ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে চাহিদা রয়েছে ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন। গেল বছরের একই মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৯ হাজার ৫২১ মেট্রিক টন।

সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, সাবডিলার পয়েন্টে গেলে এক দিনে মাত্র এক ধরনের সার দেওয়া হচ্ছে। সার নিতে লাইন ধরতে হচ্ছে। কিন্তু বেশি টাকা দিলে খোলা বাজারে সারের অভাব নেই। ডিলারেরা গোপনে খোলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। এ রকম অভিযোগের পর কৃষি বিভাগ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে মজুত রাখা সার উদ্ধার ও জরিমানা করেছে।

জেলার কালীগঞ্জ পৌরসভাধীন কাশিপুর গ্রামের কৃষক আসলাম হোসাইন বলেন, আমি স্থানীয় ডিলার সোহরাব হাজীর ঘরে সার নিতে গিয়েছিলাম। এক বস্তার প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ইউরিয়া দিয়েছে ২০ কেজি।

সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের রাঙ্গিয়ারপোতা গ্রামের কৃষক বকুল হোসেন বলেন, এই মৌসুমে আমার ১৬ বিঘা ধানের আবাদ রয়েছে। গত শুক্রবার আমাদের ইউনিয়নের বিসিআইসি ডিলার মেসার্স মাহমুদ খাতুন পয়েন্টে কৃষকদের সার দেওয়া হয়। কিন্তু আমি কাজের জন্য ওই দিন যেতে পারিনি। পরের দিন সার নিতে গেলে দোকানের ম্যানেজার বলেন, আপনার বরাদ্দের সার বিক্রি হয়ে গেছে। যেখানে আমার ন্যূনতম ১০ বস্তা সার প্রয়োজন, সেখানে আমাকে মাত্র ৪ বস্তা সার দিয়েছে।

উপজেলার মালিয়াট গ্রামের কৃষক সুমন হোসেন বলেন, সরকারি ডিলারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার মিলছে না। অথচ পাশে থাকা খুচরা দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে চড়া দামে। আমার ৫০ কেজি সারের প্রয়োজন হলে সরকার অনুমোদিত ডিলার-সাবডিলারদের কাছ থেকে পাচ্ছি মাত্র ২০ কেজি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বাক্ষর করে ইউরিয়া উত্তোলনের বিষয়ে বলেন, অনেক সময় একই ব্যক্তি বারবার সার নিয়ে সংকট তৈরি করতে পারে, এমন আশঙ্কায় জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছিল। কৃষকদের হয়রানির কথা চিন্তা করে এখন ডিলারদের রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ফলে এখন থেকে আর জাতীয় পরিচয়পত্র আনা লাগবে না। কেউ যদি সার নিতে অনিয়ম করে, সংবাদ পাওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, সারের কোনো ঘাটতি নেই। কিছু মানুষ কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। আমরা সব সময় খোঁজ রাখছি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানান, সারের কোনো সংকট নেই। তবে ডিলারদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত