Ajker Patrika

যশোরে কৃষক দল নেতা হত্যার জেরে ১৩ পরিবারের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট

­যশোর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা
যশোরের অভয়নগরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ডহরমশিয়াহাটি গ্রামের বাড়েদাপাড়া। ভবদহ অঞ্চলের বিলের মধ্যে মতুয়া সম্প্রদায়ের পাড়াটির অবস্থান। এখানে দোচালা টিনের বাড়িতে এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস মহিতুল বিশ্বাস ও স্মৃতি বিশ্বাস দম্পতির। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তাঁদের বাড়িতে চলছিল পূজা-অর্চনা। তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে হামলা চালায়। প্রথমে লুটপাট, পরে অগ্নিসংযোগ করে। আগুনে দুটি বসতঘরের সব জিনিসপত্র পুড়ে যায়। নিস্তার পায়নি পাশের গোয়ালঘরটিও। সেখানেও আগুন দেয়। হামলার সময় পরিবারের সদস্যরা পালিয়ে আশ্রয় নেন পাশের বিলে।

স্মৃতির মতো আগুনে পুড়ে গেছে বাড়েদাপাড়ার ১৩ পরিবারের ১৮টি ঘর। অগ্নিসংযোগের আগে এসব ঘরে লুটপাট চলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার নওয়াপাড়া পৌর কৃষক দলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম সরদার গতকাল সন্ধ্যায় ঘের লিজ নেওয়ার জন্য বাড়েদাপাড়ার পিন্টু বিশ্বাসের বাড়ি যান। সেখানে চুক্তিপত্র করার সময় গোলযোগ হলে ৭-৮ জন দুর্বৃত্ত কুপিয়ে ও গুলি করে তরিকুলকে হত্যা করে। এ ঘটনার জেরে তরিকুলের সমর্থকেরা পিন্টুর তিনটি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। সেই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা লোকজন দল বেঁধে এসে পিন্টুর প্রতিবেশীদের বাড়িতেও ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। বাড়ির বাসিন্দারা ভয়ে আশ্রয় নেন বিলের ঝোপঝাড়ে। এরপর দূর থেকে দেখতে পান তাঁদের ঘরে আগুন জ্বলছে।

ভুক্তভোগীরা আজ শুক্রবার সকালে বাড়ি ফিরে দেখেন, ধানের গোলা, বসতঘর, রান্নাঘর, গোয়ালঘর, টিভি, ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল—সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আজ বিকেলে পাড়াটি ঘুরে দেখা যায়, চারদিকে ঘরবাড়ি ও জিনিসপত্র পোড়ার ছাই। বেশির ভাগ বাড়ি পুরুষশূন্য। দূরদূরান্ত থেকে স্বজনেরা খাবার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে আসছেন। পাড়াটি গতকাল রাত থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন। নিরাপত্তা দিতে মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। মাঝেমধ্যে আসছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। তারপরও আতঙ্ক কাটেনি মতুয়া সম্প্রদায়ের পাড়াটিতে।

পোড়া বাড়িতে স্মৃতি ফিরলেও ভয়ে স্বামী-ছেলে ফেরেননি। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘তিন দিন ধরে আমার বাড়িতে পূজা চলছিল, বিভিন্ন দল ধর্মীয় কীর্তন করছিল, বাজনা বাজছিল। হঠাৎ ছয় থেকে সাতজন আমার বাড়িতে এসে কিছু না বলেই ভাঙচুর করে, গালিগালাজ করতে থাকে। তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। আমাদের মারধর করেছে। আগুন ধরাতে শুরু করতেই ভগবানের নাম নিতে নিতে প্রাণে বাঁচতে দৌড় দিলাম বিলের দিকে। বনজঙ্গল, পানি মাড়িয়ে বিলের এক ঢিবিতে লুকিয়ে থাকলাম। দূর থেকে দেখছি আমার বাড়িঘর আগুনে পুড়ছে। সকালে ফিরে এসে দেখি কিচ্ছু নেই। বাড়িতে দুো মোটরসাইকেল ছিল, সেটাও পুড়ে ছাই। ঘরের ভেতর বাক্স ভাঙা, তার ভেতরে কাপড়চোপড় আগুনে পুড়ে গেছে। ঘরের টিন পুড়েছে। স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। আগুন দেওয়ার আগে তারা বাড়িঘর লুটপাট করেছে। গরু-ছাগলের ঘরও পুড়ে ছাই। পরনের কাপড় ছাড়া আমার আর কিছু নেই।’

যশোরের অভয়নগরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা
যশোরের অভয়নগরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাড়াটির মাঝখানে বাড়ি চণ্ডিকা বিশ্বাসের। তাঁদের দুটি ঘর পুড়ে গেছে। পোড়া বাড়ির মেঝেতে শয্যাশায়ী তাঁর শাশুড়ি। উঠানের পেয়ারাগাছের নিচে কপালে হাত দিয়ে বসে থাকা মাঝবয়সী চণ্ডিকার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কিছু বলার নেই। কী বলব? যা যাওয়ার তো আমাদের চলে গেছে। আমরা কী অপরাধ করেছি? নিরীহ গরিব আমরা। যারা অপরাধ করেছে, তাদের শাস্তি দিক। আমরা তো কোনো অপরাধ করিনি। তাহলে আমাদের কেন পোড়াল?’

হামলার ভয়াবহতার স্মৃতিচারণ করে এই নারী বলেন, ‘যখন হামলা হয়, তখন ছেলে, ছেলের বউ আর আমার স্বামী বিলের জল মাড়িয়ে পাশের গ্রামে চলে যায়। আমার শাশুড়ি অসুস্থ। তাদের বলছে, তোমরা আমাদের ঘরে যা আছে নিয়ে যাও, আগুন দিয়ো না। তারপরও লুটপাট করে আগুন দিয়ে তারা চলে যায়। আমাকে গালাগালি দিয়ে তেড়ে মারতে আসলে আমি দূর থেকে সব দেখছিলাম।’

যশোরের অভয়নগরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা
যশোরের অভয়নগরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা

সবার আগে আগুন দেয় পরিতোষের বাড়িতে। তিনি বলেন, ‘কোনো রকমে জানডা নিয়ে পালিয়ে ছিলাম। জামা-গেঞ্জি পরার সময়টুকুও পাইনি। বাড়িতে বুড়ো বাবা-মা ছিল। তাদের ফেলে চলে গেছিলাম।’ তাঁর দাবি, আগুন দিলে ফায়ার সার্ভিসের লোকদের জানানো হয়, কিন্তু হামলাকারীরা তাঁদের আসতে দেয়নি।

পরিতোষ বলেন, ‘ঘরবাড়ি, দোকানপাট পুড়ে গেছে। গাছের পাতাও পুড়ে গেছে। আমরা আতঙ্কে আছি। পাড়া পুরুষশূন্য। আমরা নিরপরাধ এসব মানুষের যারা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’

যশোরের অভয়নগরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা
যশোরের অভয়নগরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: আজকের পত্রিকা

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন যশোরের বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা। এ ছাড়া জেলা পুলিশ সুপার রওনক জাহানসহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যশোরের নেতারা ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানান, তরিকুল ইসলাম সরদার হত্যাকে কেন্দ্র করে কিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রাতেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যাকাণ্ড ও অগ্নিকাণ্ডে কোনো মামলা হয়নি। তবে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

একটা লাশ পড়লে আমরাও কিন্তু লাশ নেব, অত সুশীলতা করে লাভ নেই: মাহফুজ আলম

আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার স্বৈরাচারী আমলে সাংবাদিক দমনপীড়নের পুনরাবৃত্তি

‘সেপারেটিস্টদের’ আশ্রয়–প্রশ্রয় দিয়ে ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্স আলাদা করে দেব: হাসনাত

সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ

রাজধানীর দক্ষিণখানে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

ময়মনসিংহে বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
বিজয় দিবসে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ময়মনসিংহবাসী। ছবি: আজকের পত্রিকা
বিজয় দিবসে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ময়মনসিংহবাসী। ছবি: আজকের পত্রিকা

আজ সারা দেশের মতো ময়মনসিংহে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপিত হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার ভোরের প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনি ও নগরীর পাটগুদাম ব্রিজ মোড়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। প্রথমে বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ফারাহ শাম্মী, তারপর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া এবং জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা জেলা ও মহানগর সংসদ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আব্দুল খালেক সিকদার বলেন, ‘জাতি আজ এই বিজয়ের আনন্দের দিনে গভীর কৃতজ্ঞতা ও পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর সন্তানদের। আগামীর নতুন প্রজন্ম যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে নতুন বাংলাদেশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে, এমনটি প্রত্যাশা আমাদের।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

একটা লাশ পড়লে আমরাও কিন্তু লাশ নেব, অত সুশীলতা করে লাভ নেই: মাহফুজ আলম

আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার স্বৈরাচারী আমলে সাংবাদিক দমনপীড়নের পুনরাবৃত্তি

‘সেপারেটিস্টদের’ আশ্রয়–প্রশ্রয় দিয়ে ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্স আলাদা করে দেব: হাসনাত

সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ

রাজধানীর দক্ষিণখানে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

হাদিকে হত্যাচেষ্টা: মূল অভিযুক্ত ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯: ১৬
হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার কবির। ছবি: আজকের পত্রিকা
হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার কবির। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কবিরকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন–র‍্যাব।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন পাগলা এলাকা থেকে কবীর ওরফে দাতভাঙ্গা কবীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত ১২টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় র‍্যাব-১১।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১১-এর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, গত সোমবার রাতে নারায়গঞ্জ থেকে কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ মঙ্গলবার তাঁকে পল্টন–থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হবে।

জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত শুক্রবার রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে।

ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য প্রচার চালাচ্ছিলেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে গতকাল সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ধারণা করছেন, ফয়সাল করিম মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ওসমান হাদিকে গুলি করেছিলেন। ফয়সাল করিম এখনো পলাতক।

ফয়সাল করিমের স্ত্রী পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাসহ মোট ছয়জন।

র‍্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কবিরের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার সদর থানার বড় বিঘাই গ্রাম। ফয়সাল করিমের বাড়িও পটুয়াখালীতে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কবির ৫ ডিসেম্বর ফয়সল করিমের সঙ্গে বাংলামোটরে ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে গিয়েছিলেন। ফুটেজ দেখানোর পর কবির সেটি স্বীকার করেছেন।

কবির রাজধানীর আদাবর থানা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক। হামলার পরে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলী এলাকার একটি ইটভাটার ছনের ঘরে লুকিয়ে ছিলেন।

র‌্যাব-১১–এর কোম্পানি কমান্ডার মো. নাঈম উল হক বলেন, কবিরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

একটা লাশ পড়লে আমরাও কিন্তু লাশ নেব, অত সুশীলতা করে লাভ নেই: মাহফুজ আলম

আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার স্বৈরাচারী আমলে সাংবাদিক দমনপীড়নের পুনরাবৃত্তি

‘সেপারেটিস্টদের’ আশ্রয়–প্রশ্রয় দিয়ে ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্স আলাদা করে দেব: হাসনাত

সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ

রাজধানীর দক্ষিণখানে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

সুবর্ণচরে নদীভাঙন: ২ বছরে ভিটেমাটি হারা চার হাজার পরিবার

  • ভুক্তভোগীদের জন্য নেই সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ।
  • প্রশাসনের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো তালিকা নেই।
মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) 
আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮: ৩৬
মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি। সম্প্রতি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বোয়ালখালী স্লুইসগেট এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা
মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি। সম্প্রতি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের বোয়ালখালী স্লুইসগেট এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

মেঘনা নদী থেকে জেগে ওঠা নতুন চর নোয়াখালীর সুবর্ণচরের আয়তন বাড়ালেও একই সঙ্গে ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে জনপদ। শুধু সুবর্ণচর নয়, উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীর সর্বত্রই চলছে নদীর এই ভাঙা-গড়ার খেলা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা ভূমির পরিমাণ ভাঙনের চেয়ে বেশি হলেও নতুন জেগে ওঠা চরগুলো এখনো বসতিস্থাপনের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর হিসাবে, গত ৭০ বছরে নোয়াখালীতে প্রায় ২০০ বর্গকিলোমিটার ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় এক হাজার বর্গকিলোমিটার ভূমি। তবে এই ভাঙা-গড়ার প্রক্রিয়ায় যারা সব হারায়, তাদের জন্য থাকে কেবল হাহাকার।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষের জন্য সরকারিভাবে কোনো আলাদা সুযোগ-সুবিধা নেই। নেই পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ। এমনকি কত মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছে, তারও কোনো নির্ভরযোগ্য তালিকা তৈরি করা হয়নি।

জানা গেছে, মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে সুবর্ণচর উপজেলার মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্ক ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই বছরে এই দুই ইউনিয়নে অন্তত তিন হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা আরও বিস্তৃত হওয়ায় মোট ভিটেমাটি হারানো পরিবারের সংখ্যা প্রায় চার হাজার।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, চরক্লার্ক ও মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ হেমায়েতপুরের একটি অংশ, চর বায়েজিদ মৌজা, চর খন্দকার, আলেমপুর, সৈয়দপুর, চর নোমান সমাজ ও চর মোজাম্মেল মৌজাসহ অন্তত ১০টি এলাকা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি, চর উন্নয়ন ও বসতি স্থাপন প্রকল্পের (সিডিএসপি) ৭/৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এবং বন বিভাগের রোপণ করা নানা প্রজাতির গাছ।

এক বছর আগে চরক্লার্ক ইউনিয়নের চর খন্দকার এলাকায় সাবেক ২ নম্বর কাটাখালী স্লুইসগেট নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে জোয়ারের সময় পানি দ্রুত উত্তর দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে সোলেমান বাজারসহ আশপাশের এলাকাও নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে হাজারো পরিবার।

জানতে চাইলে চরক্লার্ক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল বাশার জানান, ভাঙনের বিষয়টি উপজেলা ও জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। উপদেষ্টা পর্যায়েও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সুবর্ণচরের সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী বাবলু বলেন, ভাঙা-গড়া প্রকৃতির নিয়ম হলেও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা জেগে ওঠা চরে তাঁদের পুরোনো অবস্থান বা জীবন ফিরে পান না। নদীশাসন এবং জেগে ওঠা চরে বসতি স্থাপন নিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা জরুরি। নদী ভাঙলে শুধু মানুষের ঘরবাড়ি নয়, জনপদের চিহ্নও মুছে যায়।

এ বিষয়ে সুবর্ণচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকিব ওসমান বলেন, মোহাম্মদপুর ও চরক্লার্ক ইউনিয়নের ভাঙনের বিষয়টি প্রশাসনের জানা আছে। তবে এখনো পর্যন্ত কত পরিবার গৃহহীন হয়েছে, তার কোনো তালিকা প্রস্তুত করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙন রোধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

একটা লাশ পড়লে আমরাও কিন্তু লাশ নেব, অত সুশীলতা করে লাভ নেই: মাহফুজ আলম

আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার স্বৈরাচারী আমলে সাংবাদিক দমনপীড়নের পুনরাবৃত্তি

‘সেপারেটিস্টদের’ আশ্রয়–প্রশ্রয় দিয়ে ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্স আলাদা করে দেব: হাসনাত

সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ

রাজধানীর দক্ষিণখানে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত

হাদি সিঙ্গাপুরে, হামলার নেপথ্যের ব্যক্তিরা অজানা

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। গতকাল রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ছবি: পিআইডি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। গতকাল রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ছবি: পিআইডি

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার নেপথ্যের ব্যক্তিদের এবং উপকরণ সরবরাহকারীদের বিষয়ে এখনো কিছু জানতে পারেনি পুলিশ। হামলাকারী দুজন ঘটনার আগে-পরে যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তাঁদের কয়েকজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে ডিবি ও র‍্যাব। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গতকাল সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। এই হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদের (৩৭) স্ত্রীসহ তিনজনকে গতকাল ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

১২ ডিসেম্বর বেলা আড়াইটার দিকে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করেন মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়; পরে সেখান থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। এই ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর রাতে পল্টন থানায় করা মামলার তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবির মতিঝিল বিভাগ।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম গতকাল বলেন, এখন পর্যন্ত এই মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ওসমান হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুরে পৌঁছায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হাদির শরীরের অন্য অঙ্গগুলো এখনো ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য’ বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা হামলায় অংশ নেওয়া দুজনের পরিচয় শনাক্ত করেছেন। তাঁরা হলেন–ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ ও আলমগীর হোসেন। তবে মামলার এজাহারে আলমগীরের নাম নেই। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই দুজনের এবং তাঁদের বহনকারী গাড়ির চালকদের তথ্য পেলেও হামলার নেপথ্যের ব্যক্তিদের সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি। ফয়সাল ও আলমগীর ইতিমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেছেন বলেও ডিবি নিশ্চিত হয়েছে।

হামলার আগের রাতে সাভারের একটি রিসোর্টে ছিলেন দুজন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার আগের দিন, অর্থাৎ ১১ ডিসেম্বর রাতে সাভারের গ্রিন জোন রিসোর্টের পৃথক কক্ষে ছিলেন ফয়সাল ও আলমগীর। রাত ২টার দিকে সেখানে ফয়সালের বান্ধবী ছোট বোনকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সকালে হাদির কিছু ভিডিও দেখার পর ঢাকায় আসেন তাঁরা। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সালের বান্ধবী জানান, হাদির ভিডিও দেখার সময় গালিগালাজ করেন ফয়সাল। হাদিকে কিছু একটা করবেন, তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।

দুবার মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট পরিবর্তন: ১২ ডিসেম্বর সকালে সাভার থেকে ঢাকায় এসে ফয়সাল ও আলমগীর আগারগাঁওয়ে ফয়সালের বোনের বাসায় যান। সেখানে ফয়সালের বাবা-মাও থাকেন। ওই বাসার গ্যারেজের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের সূত্র ধরে ডিবি বলছে, বাসা থেকে বের হওয়ার আগে ফয়সালের বাবা একটি নম্বরপ্লেট নিয়ে গ্যারেজে এলে তাঁরা নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করে বের হন। গুলি করার পর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড থেকে মোটরসাইকেলে করে তাঁরা আবার আগারগাঁওয়ে ফয়সালের বোনের বাসায় যান। আবার মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করেন। একটি নম্বরপ্লেট তাঁরা ম্যানহোলে ফেলে দেন। বাসায় কিছুক্ষণ থেকে ফয়সাল ও আলমগীর দুটি কালো ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে বাসার নিরাপত্তাকর্মীর ঠিক করা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আমিন বাজারের ঢালে নামেন। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে ওই অটোরিকশাচালক জানান, আমিনবাজারে ওই দুজন এক তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি গাড়ি নিয়ে আগে থেকে সেখানে অপেক্ষা করছিলেন বলে ডিবি নিশ্চিত হয়েছে। সেখানে তাঁরা মোবাইল ও সিম ফেলে দেন। এরপর কালামপুর, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হয়ে ময়মনসিংহ যান। ময়মনসিংহের সেতুর পাড়ে গাড়ি বদলে আরেকটি প্রাইভেট কারে উঠে হালুয়াঘাটের ধারাবাজারের একটি পেট্রলপাম্পে গিয়ে থামেন। সেখানে তিন যুবক ওই দুজনকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে হালুয়াঘাটের ভুটিয়াপাড়ায় নিয়ে যান। রাত আড়াইটার দিকে ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দুজনে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরায় যান। হামলা ও ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পুরো বিষয়টি ছিল নিখুঁত পরিকল্পনার অংশ। ময়মনসিংহে নেওয়া গাড়িটি ছিল ভাড়া করা।

৪ ডিসেম্বর থেকে হামলাকারী ফয়সাল, আলমগীর ও জাকির প্রার্থী ওসমান হাদির গণসংযোগে নিয়মিত অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী ও পুলিশ। এর দেড় মাস আগে তাঁরা জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে হাদির দলে ভিড়েছিলেন।

ফয়সালের স্ত্রীসহ তিনজন রিমান্ডে: প্রধান আসামি ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ও ফয়সালের এক বান্ধবীকে গতকাল আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তাঁদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

হাদির মোবাইলের হদিস নেই: হামলার পর ওসমান হাদির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। ডিবি বলেছে, তাঁর মোবাইলে যেহেতু বারবার হত্যার হুমকি আসছিল, তাই মোবাইলটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে ঘটনার পর মোবাইলটি পাওয়া যায়নি। ওই মোবাইল নম্বরটি নিয়ে কাজ করছে পুলিশ।

সীমান্ত পারাপারে জড়িত আরও দুজন আটক: হাদির ওপর হামলাকারীদের সীমান্ত পার করানোর ঘটনায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দুজনকে আটক করেছে বিজিবি। ময়মনসিংহের ৩৯ বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সরকার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি জানান। আটক দুজন হলেন, শেরপুরের নালিতাবাড়ী সীমান্ত থেকে অবৈধভাবে মানুষ পারাপারে সহায়তাকারী ফিলিপের মামাশ্বশুর বেঞ্জামিন চিড়ান এবং ফিলিপের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সীশল। এর আগে রোববার ডিবি পুলিশ ওই এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। সিবিয়ন দিও ও সঞ্চয় চিসিম নামের ওই দুজন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

একটা লাশ পড়লে আমরাও কিন্তু লাশ নেব, অত সুশীলতা করে লাভ নেই: মাহফুজ আলম

আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার স্বৈরাচারী আমলে সাংবাদিক দমনপীড়নের পুনরাবৃত্তি

‘সেপারেটিস্টদের’ আশ্রয়–প্রশ্রয় দিয়ে ভারত থেকে সেভেন সিস্টার্স আলাদা করে দেব: হাসনাত

সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ

রাজধানীর দক্ষিণখানে যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত