
যশোরের মনিরামপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে নিহত রানার বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মনিরামপুর থানায় হত্যা মামলাটি করেন।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান মামলা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঝুমুর নামের এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে।’
গতকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রানা খুনের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানোর উদ্দেশ্যে হেফাজতে নেয়। এ সময় পুলিশ রানার বান্ধবী ঝুমুর মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। কপালিয়া বাজারে যেখানে রানা প্রতাপ খুন হন, এর পাশেই ঝুমুরের বিউটি পারলার রয়েছে।
ঝুমুরের বাড়ি কেশবপুরে রানার পাশের গ্রামে। ঝুমুর রানার ক্লাসমেট ও বান্ধবী—এমনটিই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রানার বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক তুষার কান্তি বলেন, ‘বরফকলের কর্মচারীরা আমাকে বলেছে, বিউটি পারলারের মেয়েটি ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রানার সঙ্গে বরফকলে এসে কথা বলে চলে যায়। এরপর মোটরসাইকেলে চড়ে আসা দুটি ছেলে রানার সঙ্গে এসে কথা বলে। এরপর রানা বরফকল থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বিউটি পারলারের দিকে এলে খুনের ঘটনা ঘটে।’ ঝুমুরকে হত্যাকারীরা গোয়েন্দা হিসেবে ব্যবহার করেছে কি না—এমনটি বাদীর সন্দেহ।
রানার বাবা আরও বলেন, ‘আমার ছেলে বাগেরহাটের একটি সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজিতে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সে কোনো রাজনীতিও করত না।’
রানার স্ত্রী সীমা বৈরাগী বলেন, ‘আমার স্বামী প্রায় বলত, ঝামেলা চলছে। কিন্তু সে খুলে কিছু বলত না। কপালিয়া বাজারে আগে থেকে আরও একটি বরফকল ছিল। আমার স্বামী বরফকল দেওয়ার পর সেই মালিক শত্রুতা শুরু করেছিল। আমার স্বামীকে মারার জন্য সে লোকও ভাড়া করেছিল। আমার স্বামী একসময় দলদারি করত। আমার ছেলের বয়স ১০ বছর। ছেলের জন্মের পর থেকে ও (স্বামী) সবকিছু ছেড়ে ভালো হয়ে গেছে। ওর ঘের আছে। মাছের আড়ত আছে। এসব সহ্য হয়নি। এ জন্য ওরে সরায়ে দেছে।’
স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, রানা প্রতাপ একসময় চরমপন্থী দলের সদস্য ছিলেন। তাঁর নামে কেশবপুর ও অভয়নগর থানায় হত্যা, ধর্ষণ ও বিস্ফোরক আইনে মামলা রয়েছে।
তবে এসব মামলা সাজানো বলে দাবি করেছেন রানার মা মাধবী লতা। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেকে ফাঁসানোর জন্য ওর নামে মামলা দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার মামলাকারীরা বলেছিল, মামলা দেওয়া আমাদের ভুল হয়েছে। আমার ছেলে কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি।’
এদিকে আজ দুপুরে রানার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। নিহত রানার মাথায় তিনটি ও পেটে একটি গুলি করার পর দুর্বৃত্তরা তাঁকে গলা কেটে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
গতকাল সন্ধ্যায় রানাকে কপালিয়া বাজারে একটি গলিতে ডেকে এনে তিনজন দুর্বৃত্ত হত্যা করে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এরপর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তখন ঘটনাস্থল থেকে পড়ে থাকা তিনটি গুলি উদ্ধার হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। রানা প্রতাপ কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার বলেন, ‘আজ বিকেলে নিহত রানার বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগী অজ্ঞাতনামা আসামি করে মনিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। নিহত রানার শরীরে বিদ্ধ হওয়া চারটি গুলির উৎস খোঁজার পরীক্ষা চলছে। একই সঙ্গে বিউটি পারলারের মালিক ঝুমুরের সঙ্গে পরকীয়া, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব কিংবা চরমপন্থীর আগের কোনো বিরোধে এই হত্যাকাণ্ড কি না, এর সম্পৃক্ততা খুঁজতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করছি, এ হত্যার কারণ দ্রুত সময়ের মধ্যে উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে।’

নাজমুলের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে। রাজধানী উত্তরার উত্তরখান হেলাল মার্কেট এলাকায় নিজ বাড়িতে থাকতেন। পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন নাজমুল।
১ ঘণ্টা আগে
আজ সোমবার (২ মার্চ) সকালে গলায় প্যান্টের বেল্ট প্যাঁচানো অবস্থায় স্থানীয়রা ধানখেতে ওই শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। পুলিশ বলছে, এটি হত্যাকাণ্ড।
১ ঘণ্টা আগে
শনির আখড়ার জাপানি বাজার এলাকায় তাঁর মানিব্যাগের কারখানায় শাহ আলম কাজ করত। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জাপানি বাজারের সামনের সড়ক পার হচ্ছিল সে।
১ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালে মোটরসাইকেলে সাবেদ ও সামির ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। উমপাড়া এলাকায় পৌঁছালে দ্রুতগতির মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা লোহার রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাবেদের মৃত্যু হয়।
১ ঘণ্টা আগে