Ajker Patrika

বেনাপোল বন্দরে পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকি: এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি  
বেনাপোল বন্দরে পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকি: এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই
ফাইল ছবি

বেনাপোল স্থলবন্দরের শেড থেকে আমদানি পণ্য পাচার ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে আরও দুটি মামলা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। নতুন এ দুটি মামলায় বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধি, আমদানিকারকসহ ২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এক সপ্তাহে একই ঘটনায় হওয়া তিনটি মামলায় আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বন্দর থেকে ছয় কোটি টাকার মালামাল পাচার ও প্রায় তিন কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষকে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের একটি চালানে ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণা দিয়ে প্রায় ছয় কোটি টাকার শাড়ি ও থ্রি-পিস আমদানি করে শাফা ইমপেক্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পণ্যগুলো বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে সংরক্ষণ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হুদা এন্টারপ্রাইজ শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চালানটি পাচারের চেষ্টা করে। কাস্টমস চালানটি আটক করে বন্দরের হেফাজতে রাখলেও পরে শেড ইনচার্জসহ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে তা বন্দর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া বন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকেও ২৫ টন পণ্য পাচার ও বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে।

গত রোববার (১৪ জুন) কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান ও কাজী নাঈম উদ্দীন পৃথক দুটি মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। এর আগে ৯ জুন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাহামুদুল আরেফিন আরও একটি মামলায় ১৯ জনকে আসামি করেন।

কাস্টমসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, বন্দর থেকেও ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ী—কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, বন্দরের শেড থেকে পণ্য পাচারের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। যেকোনো মূল্যে এ ধরনের অপরাধ দমন করা হবে।

বেনাপোল পোর্ট থানার উপপরিদর্শক রাশেদুজ্জামান বলেন, তিনটি মামলার আসামিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও বন্দর থেকে পণ্য পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না গেলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত