Ajker Patrika

প্রভাতী ট্রেনসহ ছয় দফা দাবিতে এলাকাবাসীর যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান

­যশোর প্রতিনিধি
প্রভাতী ট্রেনসহ ছয় দফা দাবিতে এলাকাবাসীর যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান
রেলওয়ে জংশনের প্ল্যাটফর্মে যশোরবাসীর অবস্থান কর্মসূচি পালন। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকাগামী প্রভাতী ট্রেনসহ ছয় দফা দাবিতে যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী। আজ সোমবার দুপুরে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’র উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি থেকে এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে দাবি আদায় না হলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে রেল অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুরে মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ যশোর রেলওয়ে জংশনের প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে’র শুরু থেকেই যশোরবাসী বঞ্চিত ও প্রতারিত হয়ে আসছে। প্রকল্পের নাম ‘ঢাকা-যশোর’ হলেও যশোর একটি ট্রেন পেয়েছে, সেটিও কাঙ্ক্ষিত সময়ে নয়। তাদের ভাষ্য, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার পদ্মাসেতু প্রকল্পে রেলপথে দিনে মাত্র একটি ট্রেন দুইবার যাতায়াত করে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের চরম অপচয়ের শামিল।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভোরবেলা যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি ‘প্রভাতী ট্রেন’ চালু করা হলে সাধারণ মানুষ নিজ বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে অফিস বা প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারবেন। একইভাবে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে একটি ফিরতি ট্রেন চালু হলে কাজ শেষে মানুষ নিজ ঘরে ফিরতে পারবেন।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন সুনির্দিষ্ট ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— অবিলম্বে বেনাপোল/দর্শনা সীমান্ত-যশোর-ঢাকা রুটে ১টি প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট ৩টি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু, সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে সব আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ বগি সংযোজন, দর্শনা-খুলনা রুট এবং বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডবল রেললাইন স্থাপন, বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত থেকে যশোর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কমিউটার ট্রেন চালু, সিঙ্গিয়া রেল স্টেশনে অবিলম্বে ‘রেল কনটেইনার টার্মিনাল’ চালু এবং রেলকে দেশের গণযোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলী বলেন, `আমরা ২০২৩ সাল থেকে এই ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছি। এই সময়ে আমরা রেলমন্ত্রী, রেল সচিব, রেলের ডিজি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছি।'

কাওসার আলী আরও বলেন, `রেলের সচিব ও ডিজি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, মার্চ/এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে আমাদের আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন দেওয়া হবে। এখন জুলাই ২০২৬ চলমান, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন আমরা দেখিনি। গত জুন ২০২৬-এর মধ্যে প্রভাতী ট্রেন দেওয়ার আল্টিমেটাম থাকলেও রেল কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। ফলে আমরা যশোর রেল স্টেশন প্ল্যাটফর্মে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। আগামী এক মাসের মধ্যে আমাদের দাবি আদায় না হলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে রেল অবরোধের কর্মসূচি প্রদানে বাধ্য হব।'

অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ্দৌলা, কমিটির নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, রুহুল আমিন, আমিনুর রহমান হিরু, মাহাবুবুর রহমান মজনু, মাহমুদ হাসান বুলু, আবুল কায়েস, হাচিনুর রহমান, অধ্যাপক সোলজার রহমান, সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, হারুন অর রশিদ ও আফজাল হোসেন দোদুল প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত