Ajker Patrika

যবিপ্রবিতে সহপাঠীকে থাপ্পড়, অভিযুক্ত ছাত্র সাময়িক বহিষ্কার

যবিপ্রবি সংবাদদাতা
যবিপ্রবিতে সহপাঠীকে থাপ্পড়, অভিযুক্ত ছাত্র সাময়িক বহিষ্কার
জুয়েল আল ইমরান, তানভীরুল হক। ছবি: সংগৃহীত

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) এক ছাত্রকে থাপ্পড় মেরে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিত্যানন্দ পাল। তিনি জানান, ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কাজী মো. জালাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত আদেশে বহিষ্কারের বিষয়টি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

বহিষ্কৃত তানভীরুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। ২ অক্টোবর শহীদ মসিয়ূর রহমান হল এলাকায় ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানকে আহত করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আদেশ অনুযায়ী গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার তদন্তে তানভীরুলের বিরুদ্ধে জুয়েলকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও গুরুতর আহত করার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তানভীরুলের বিরুদ্ধে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর থেকে তানভীরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রেও তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সাময়িক বহিষ্কারাদেশ বহাল থাকবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যয় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বহন করতে বলা হয়েছে কি না বা কোনো জরিমানা করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সে যদি কোনো শারীরিক সমস্যা বা জটিলতা অনুভব করে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার দায়ভার নেবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যয় ও ক্ষতিপূরণ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে।

তানভীরুলের শাস্তির বিষয়ে প্রক্টর বলেন, আপাতত তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বহিষ্কারাদেশ স্থায়ী হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে। তত দিন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না এবং আবাসিক হলেও প্রবেশ করতে পারবে না।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বিভাগীয় অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের চেয়ারম্যান এ এইচ এম শাহরিয়ার জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে তাঁরা সাধুবাদ জানান এবং তা চূড়ান্ত হিসেবে মেনে নিয়েই কাজ করছেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা আপত্তি তাঁদের কাছে আসেনি বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবগত করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত