যবিপ্রবির অধ্যাপকের ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

দীর্ঘ পাঁচ বছর দুই মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবনের পেটেন্ট অনুমোদন পেয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ন্যানোটেকনোলজি গবেষক অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খান। আজ রোববার বাংলাদেশ পেটেন্ট অফিস তাঁর উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন করেছে। দেশের কৃষি খাতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির বিকাশে এই অর্জনকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে ন্যানোটেকনোলজি গবেষণার বিকাশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান। ২০১৩ সাল থেকে তিনি যবিপ্রবিতে নিজস্ব গবেষণাগার পরিচালনা করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ন্যানো-বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং (ন্যাম) ল্যাবে ন্যানোটেকনোলজি ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে তিনি বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ফেলো নির্বাচিত হন।
গবেষক জাভেদ হোসেন খানের দাবি, তাঁর উদ্ভাবিত ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহার করে এক বিঘা জমিতে চাষাবাদের জন্য সার খরচ হবে মাত্র ২৩০ টাকার। বিপরীতে প্রচলিত ইউরিয়া সার ব্যবহারে একই পরিমাণ জমিতে ভর্তুকিসহ বর্তমানে খরচ প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা। সে হিসেবে প্রচলিত সারের চেয়ে ন্যানো ইউরিয়া ব্যবহারে খরচ কমবে প্রায় ৮২ শতাংশ। দীর্ঘ গবেষণার পর মাঠপর্যায়ে এ সার ব্যবহারেও মিলেছে সাফল্য। এটি স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে।
ড. জাভেদ হোসেন খানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। পেটেন্ট অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক ড. জাভেদ হোসেন খান সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর আজ পেটেন্টের অনুমোদন পেয়েছি। এই অর্জনের পেছনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর আন্তরিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।’
ড. জাভেদ বলেন, ‘দেশের মাটি, দেশের কৃষি ও কৃষকের স্বার্থকে সামনে রেখেই আমরা কাজ করছি। ন্যানো ইউরিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে ইউরিয়া সারের ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি, সারের অপচয় হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং ফসলের ফলন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের চাপ কমাতেও এটি ভূমিকা রাখবে।’
সংশ্লিষ্ট গবেষকদের মতে, ন্যানো ইউরিয়ার পেটেন্ট অনুমোদন উদ্ভাবনটির আরও উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বাণিজ্যিক উৎপাদনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। যথাযথ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, মাঠপর্যায়ে কার্যকারিতা যাচাই ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্ভাবনটি কৃষিক্ষেত্রে প্রয়োগ করা গেলে সারের ব্যবহার দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
পেটেন্ট পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, ‘ড. জাভেদ হোসেন খানের দীর্ঘদিনের সাধনা ও গবেষণার ফসল এই ন্যানো ইউরিয়া সারের পেটেন্ট প্রাপ্তি যবিপ্রবি পরিবারসহ সমগ্র জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এই যুগান্তকারী উদ্ভাবন কেবল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সক্ষমতাই প্রমাণ করে না, বরং দেশের কৃষি খাতে এক বিরাট বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’









