Ajker Patrika

ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু, প্রথম ট্রেন পেয়ে উচ্ছ্বসিত গোপালগঞ্জবাসী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু, প্রথম ট্রেন পেয়ে উচ্ছ্বসিত গোপালগঞ্জবাসী
গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে যাত্রী ও উৎসুক এলাকাবাসীর ভিড়। ছবি: আজকের পত্রিকা

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচল। আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা উদ্বোধনী ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনটি গোপালগঞ্জে পৌঁছালে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রথম যাত্রায় ট্রেনে করে গোপালগঞ্জে আসেন জেলার তিন সংসদ সদস্য এবং উৎসুক কয়েক’শ মানুষ। পরে তিন সাংসদ গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন তারা।

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন—সংসদ সদস্য এস এম জিলানী ও ডা. কে এম বাবর। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান বলেন, উন্নয়ন বরাদ্দের দিক থেকে গোপালগঞ্জ জেলা বর্তমানে দেশের পঞ্চম স্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোপালগঞ্জের উন্নয়নে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গোপালগঞ্জের মানুষ অন্যায়ভাবে নিগৃহীত হবে না।

ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চালু করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইন্টারসিটি ট্রেনসহ আরও একটি ট্রেন গোপালগঞ্জবাসী পাবে।

সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেন, ২০১০ সালে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকা রেললাইন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় নিয়ে রেললাইন নির্মাণ করা হলেও গোপালগঞ্জবাসী এত দিন ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে কোনো ট্রেন পায়নি। দীর্ঘদিনের সেই প্রত্যাশা অবশেষে পূরণ হয়েছে।

সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জের উন্নয়নের বিষয়ে অত্যন্ত উদার। তিনি মন্ত্রী ও সচিবদের গোপালগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আগামীতে ট্রেনে গোপালগঞ্জের মানুষের ঢাকায় যাতায়াত আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে নতুন বগি ও নতুন চেয়ার কোচের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন তিনি।

পরে রেল বিভাগর উদ্যোগে রেলের স্মারক ডাক টিকিটের উদ্বোধন করেন অতিথিরা।

এ দিকে রেলস্টেশনে উপস্থিত সাধারণ মানুষ বলেন, ঢাকা-গোপালগঞ্জ রুটে ট্রেন চালুর ফলে জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে গোপালগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।

ট্রেনটি গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছালে বিপুলসংখ্যক মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়।

পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটে যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি গোপালগঞ্জ রেলস্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অতিথিদের সঙ্গে সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই ট্রেনে গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত