কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

‘এক মাস আগে আমাদের মা মারা গেছেন। দুদিন আগে পুলিশ বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। বাবা এখন জেলে। ঘরে অসুস্থ দাদি। আমাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। আমরা এখন কীভাবে বাঁচব?’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার চিত্রাপাড়া গ্রামের শিশু সাজ্জাদ মিয়া (১৩)। স্কুলছাত্র শিশু সাজ্জাদ চিত্রাপাড়া গ্রামের জামাল মিয়ার বড় সন্তান ও স্থানীয় এম এম খান উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
সরেজমিন জানা গেছে, এক মাস আগে জামাল মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম একসঙ্গে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এর ছয় দিন পর সাথী বেগম মারা যান। ঘরে অসুস্থ মা ও চার শিশু সন্তানের লালনপালন করেই দিন কাটছিল দিনমজুর জামাল মিয়ার।
এর মধ্যে গত শুক্রবার (৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে কোটালীপাড়া থানা-পুলিশ জামাল মিয়াকে বাড়ি থেকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। গোপালগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ পরদিন শনিবার (৯ নভেম্বর) জামাল মিয়াকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শওকত আলী দিদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠায়।
পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক মামলায় জামাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জামাল মিয়ার ভাই মনির মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নেই। এক সময় সে আমতলী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিল। পুলিশ কী কারণে আমার ভাইকে ধরে নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে তা আমাদের জানা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাইয়ের প্রথম সন্তান সাজ্জাদ মিয়া এম এম খান উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। দ্বিতীয় সন্তান ফারিয়া চিত্রাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। এ ছাড়া এক মাস বয়সী দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এই দুই কন্যা সন্তান জন্মের ছয় দিনের মাথায় জামালের স্ত্রী সাথী বেগম মারা যায়। আমার বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা আমার ভাই জামালই করত। এখন জামালের চার শিশু সন্তান ও বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা করার কেউ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমি আমার ভাইয়ের মুক্তি চাই।’
প্রতিবেশী কাইয়ুম মিয়া বলেন, ‘জামাল কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নাই। তারপরেও তাকে কেন একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হলো? জামালের অবুঝ চার শিশু সন্তানের দায়িত্ব এখন কে নিবে? জামালকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অমানবিক। তাই এই চার শিশুসন্তান ও অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের দিকে তাকিয়ে আমরা এলাকাবাসী জামালের মুক্তির দাবি জানাই।’
জামালের ছেলে সাজ্জাদ মিয়া বলে, ‘কয়েক দিন পরই আমার বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। আমার স্কুলের বেতন ও পরীক্ষার ফি কে দেবে? আমার এক মাস বয়সী দুই বোনের দুধের টাকা কে দেবে? আজ তিন দিন আমাদের চুলা জ্বলে না। বাড়ির আশপাশের লোকজন আমাদের খাবার দিচ্ছে, এভাবে কত দিন চলবে? আমি আমার বাবাকে ফেরত চাই।’
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জামাল মিয়া ঢাকার তেজগাঁও থানা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিল বলে আমরা জেনেছি। তাই তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
জামাল মিয়ার আইনজীবী চামিলী আক্তার বলেন, জামাল মিয়ার জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এখনো শুনানি হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী তাঁর বাবা মায়ের কবর জিয়ারতের জন্য টুঙ্গিপাড়ায় আসছিলেন। পথে ঘোনাপাড়া নামক স্থানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শওকত আলী দিদার নিহত হয়।
এ ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শওকত আলী দিদারের স্ত্রী রাবেয়া রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১১৭ জনের নাম উল্লেখ ও ১ হাজার ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিনমজুর জামাল মিয়াকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

‘এক মাস আগে আমাদের মা মারা গেছেন। দুদিন আগে পুলিশ বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। বাবা এখন জেলে। ঘরে অসুস্থ দাদি। আমাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। আমরা এখন কীভাবে বাঁচব?’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিল গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার চিত্রাপাড়া গ্রামের শিশু সাজ্জাদ মিয়া (১৩)। স্কুলছাত্র শিশু সাজ্জাদ চিত্রাপাড়া গ্রামের জামাল মিয়ার বড় সন্তান ও স্থানীয় এম এম খান উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
সরেজমিন জানা গেছে, এক মাস আগে জামাল মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম একসঙ্গে দুই কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। এর ছয় দিন পর সাথী বেগম মারা যান। ঘরে অসুস্থ মা ও চার শিশু সন্তানের লালনপালন করেই দিন কাটছিল দিনমজুর জামাল মিয়ার।
এর মধ্যে গত শুক্রবার (৮ নভেম্বর) দিবাগত রাতে কোটালীপাড়া থানা-পুলিশ জামাল মিয়াকে বাড়ি থেকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। গোপালগঞ্জ সদর থানা-পুলিশ পরদিন শনিবার (৯ নভেম্বর) জামাল মিয়াকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শওকত আলী দিদার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠায়।
পুলিশ বলছে, রাজনৈতিক মামলায় জামাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জামাল মিয়ার ভাই মনির মিয়া বলেন, ‘আমার ভাই বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নেই। এক সময় সে আমতলী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিল। পুলিশ কী কারণে আমার ভাইকে ধরে নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছে তা আমাদের জানা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ভাইয়ের প্রথম সন্তান সাজ্জাদ মিয়া এম এম খান উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। দ্বিতীয় সন্তান ফারিয়া চিত্রাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। এ ছাড়া এক মাস বয়সী দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে। এই দুই কন্যা সন্তান জন্মের ছয় দিনের মাথায় জামালের স্ত্রী সাথী বেগম মারা যায়। আমার বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা আমার ভাই জামালই করত। এখন জামালের চার শিশু সন্তান ও বৃদ্ধা মায়ের দেখাশোনা করার কেউ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমি আমার ভাইয়ের মুক্তি চাই।’
প্রতিবেশী কাইয়ুম মিয়া বলেন, ‘জামাল কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নাই। তারপরেও তাকে কেন একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হলো? জামালের অবুঝ চার শিশু সন্তানের দায়িত্ব এখন কে নিবে? জামালকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অমানবিক। তাই এই চার শিশুসন্তান ও অসুস্থ বৃদ্ধা মায়ের দিকে তাকিয়ে আমরা এলাকাবাসী জামালের মুক্তির দাবি জানাই।’
জামালের ছেলে সাজ্জাদ মিয়া বলে, ‘কয়েক দিন পরই আমার বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। আমার স্কুলের বেতন ও পরীক্ষার ফি কে দেবে? আমার এক মাস বয়সী দুই বোনের দুধের টাকা কে দেবে? আজ তিন দিন আমাদের চুলা জ্বলে না। বাড়ির আশপাশের লোকজন আমাদের খাবার দিচ্ছে, এভাবে কত দিন চলবে? আমি আমার বাবাকে ফেরত চাই।’
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জামাল মিয়া ঢাকার তেজগাঁও থানা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিল বলে আমরা জেনেছি। তাই তাকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
জামাল মিয়ার আইনজীবী চামিলী আক্তার বলেন, জামাল মিয়ার জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এখনো শুনানি হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী তাঁর বাবা মায়ের কবর জিয়ারতের জন্য টুঙ্গিপাড়ায় আসছিলেন। পথে ঘোনাপাড়া নামক স্থানে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলায় তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শওকত আলী দিদার নিহত হয়।
এ ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর নিহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শওকত আলী দিদারের স্ত্রী রাবেয়া রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ১১৭ জনের নাম উল্লেখ ও ১ হাজার ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিনমজুর জামাল মিয়াকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী কালীগঞ্জ) আসনে জনতার দলের প্রার্থী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামালের ঋণ রয়েছে ২ কোটি ১৮ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। স্ত্রী-কন্যা ও নিজের মিলিয়ে পরিবারে সোনা রয়েছে ৫৫ ভরি। তাঁর নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
৩৮ মিনিট আগে
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে রনি মিয়া (২২) নামের এক যুবক আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের দইখাওয়া সীমান্তের ৯০২ নম্বর পিলার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
৩৯ মিনিট আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশকারী দুই বাংলাদেশিকে গরু চোরাকারবারি সন্দেহে আটক করেছে ভারতীয় পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে নারায়ণপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের চারজন রাখাল সীমান্ত পেরোলে বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের ধাওয়ার মুখে পড়েন। এ সময় দুজনকে আটক করে ভারতের জঙ্গিপুর থানা-পুলিশ।
৩ ঘণ্টা আগে
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটকের পর মারা যাওয়া রবিউল ইসলামের (৩৫) শরীরে ছয়টি স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্তের পর এসব কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক শামসুল আলম।
৩ ঘণ্টা আগে