Ajker Patrika

নির্মাণকাজে অনিয়ম: তিন মাসেই ধস ৯ কোটির সড়কে

  • প্রায় এক কিলোমিটার অংশ নদীতে দেবে গেছে
  • জামানতের অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হবে
  • কাজের মান নিয়ে শুরুতেই প্রতিবাদ করেন স্থানীয়রা
  • নিম্নমানের কাজের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা: কর্তৃপক্ষ
রাতুল মণ্ডল, শ্রীপুর
নির্মাণকাজে অনিয়ম: তিন মাসেই ধস ৯ কোটির সড়কে
সুতি নদীতে ধসে পড়েছে সড়কের একাংশ। সম্প্রতি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চিনাশুকানিয়া গ্রামে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক তিন মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। ইতিমধ্যে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ পাশের নদীতে দেবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ ও অপরিকল্পিতভাবে নদীতীর ভরাট করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে এলজিইডি বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা হবে এবং কাজের মান নিয়ে তদন্ত চলছে।

সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বাসিন্দাদের জেলায় সহজ যাতায়াতের জন্য ২০২১ সালে রাজাবাড়ি থেকে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। মেসার্স সালাম ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজের অনুমতি পায়। ২০২৪ সালে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও শেষ হয় ২০২৬ সালে মার্চে। সুতি নদী ঘেঁষে যাওয়া সড়কের চিনাশুকানিয়া গ্রামের একটি বিশাল অংশ ইতিমধ্যে দেবে গেছে। ফাটল দেখা দিয়েছে কয়েকটি পয়েন্টে। নদীতীরে বসানো ব্লক ইতিমধ্যে ভেঙে এলোমেলো হয়ে নদীতে চলে যাচ্ছে। সড়কটি টিকিয়ে রাখতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোড়াতালি দিচ্ছে, কিন্তু শেষরক্ষা হচ্ছে না। কয়েকটি পয়েন্টে মাটি বালুর বস্তা দিয়ে রক্ষা করা হচ্ছে। কিছু ব্লক সড়কের ওপর তুলে রাখা হচ্ছে। দেবে যাওয়া অংশ সরু হওয়ার কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বিভিন্ন যানবাহন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সড়কের একটি বড় অংশ পুরোপুরি দেবে নদীতে বিলীন হয়ে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হবে বলে আশঙ্কা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

দমদমা গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে মাস তিনেক আগে। হঠাৎ করে সড়কটি দেবে গেছে। দিন দিন দেবে যাচ্ছে। বিরাট অংশে ফাটল। এই সড়কটি নির্মাণ করার আগে নদীতীর বালুমাটি দিয়ে রাতারাতি ভরাট করে নির্মাণকাজ শুরু করে। বালুমাটি ঠিকমতো না বসার কারণে পাকা সড়ক দেবে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে পুরোপুরি দেবে যাবে বলে মনে হচ্ছে।’

চিনাশুকানিয়া গ্রামের বাসিন্দা লতিফুর রহমান বলেন, ‘কাজের শুরুতে আমরা প্রতিবাদ করি। ব্লকগুলো ভিটা বালু দিয়ে জোড়া লাগানো হয়েছে। যার কারণে সব ব্লকের জোড়া খুলে যাচ্ছে। ব্লকগুলো নদীতে চলে যাচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেন ঠিকাদারের লোকজন। ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করেননি।’

দমদমা গ্রামের আরেক বাসিন্দা হুমায়ুন আজাদ বলেন, ‘এইতো কয়েক মাস হলো সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলো। পাঁচ বছর পর কাজ শেষ হলেও হঠাৎ করে দেবে যাচ্ছে সড়কটি। ভালো কাজ হলে এত দ্রুত সড়কটি দেবে যাওয়ার কথা না। সড়কটিতে নিম্নমানের কাজ হয়েছে।’ তদন্ত করে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সালাম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সালাম জানান, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাস পর সড়কের কিছু অংশ দেবে গেছে। বিল উত্তোলন করলেও জামানত দুই বছর পর্যন্ত জমা থাকবে। যতবার ভাঙবে ততবার ঠিক করে দেব।’ যতবার ভাঙবে ততবার ঠিক করব—এটা কি সঠিক পদ্ধতি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সংযোগ কেটে দেন।

শ্রীপুর এলজিইডির প্রকৌশলী মো. তৌহিদ আহমেদ বলেন, সড়কের একটি অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে লোক পাঠানো হয়েছে। বর্ষাকালে কাজ করা সম্ভব নয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল উত্তোলন করলেও তাদের জামানতের ১০ ভাগ টাকা রয়েছে। সেই টাকার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি। সেই টাকা দিয়ে মেরামত করা হবে। নিম্নমানের কাজের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রমাণ পেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত