Ajker Patrika

নগরে নাটকের নতুন মঞ্চ

শরীফ নাসরুল্লাহ, ঢাকা
নগরে নাটকের নতুন মঞ্চ
নাটকের দল পালাকার ছোট আঙ্গিকে একটি স্টুডিও থিয়েটার শুরু করছে। যার নাম দিয়েছে—পালাকার রুফটপ স্টুডিও। বাংলায় বলা যায়, পালাকারের ছাদমঞ্চ। রাজধানীর বড় মগবাজারের আউটার সার্কুলার রোডে। ছবি: আজকের পত্রিকা

নির্দেশক বলেছিলেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে এলে তাদের পাওয়া যাবে। ঢাকার সন্ধ্যার অসহনীয় যানজট ঠেলে সময়মতো বড় মগবাজারের আউটার সার্কুলার রোডের বিশাল সেন্টারে এসে পৌঁছানো গেল। এই বিপণিবিতানের ছাদেই যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে নাটকের একটি মঞ্চ। তার শুভসূচনার খোঁজ নিতেই এই সন্ধ্যায় ছুটে যাওয়া।

সড়ক থেকে কয়েক ধাপ সিঁড়ি ভেঙে বিশাল সেন্টার ভবনে পা রাখতেই হলুদ একটি নেমপ্লেটে ‘পালাকার’ নামটি পাওয়া গেল। তাতে আছে সামনে যাওয়ার দিকনির্দেশক চিহ্ন। সে অনুযায়ী সিঁড়ি ভেঙে তিনতলা পুরোনো কায়দার ভবনটির ছাদে ওঠা গেল। বেশ কয়েকটি টবে বাহারি ফুলগাছ। ছাদবাগান ঘেঁষেই কয়েকটি কক্ষ। দেয়ালগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল নকশায়। দরজায় টাঙানো হারিকেন থেকে বেরিয়ে আসছে মায়াবী আলো। কক্ষের ভেতর থেকে ভেসে আসছে নাটকের সংলাপ।

এগিয়ে গিয়ে দেখা গেল, নাটকের মহড়া চলছে। অতএব কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। যে নাটকের মহড়া চলছে, তা নাকি পরদিনই (আজ শুক্রবার) মঞ্চস্থ হবে। তাই নির্দেশক ও কুশীলবরা সবাই তটস্থ। ছাদবাগানে পায়চারি করতে করতে মাথায় প্রশ্ন জাগল, প্রায় সারা শহরে রাস্তার দুপাশজুড়ে সারি সারি খাবার, পোশাক কিংবা বিলাসসামগ্রীর দোকান। কিন্তু কমবেশি ২ কোটি মানুষে গিজগিজ করা এই শহরে নাটকের মঞ্চ কয়টা? সংক্ষিপ্ত উত্তর—এক আঙুলের কড়েই গোনা যাবে!

ঢাকায় যথাযথ মঞ্চ বলতে এখন শিল্পকলা একাডেমি ও মহিলা সমিতি। নাটকের দলগুলো নিজেদের উদ্যোগে ছোট ছোট স্টুডিও থিয়েটার তৈরির চেষ্টা করেছে। কোনোটা সফল হয়, কোনোটা কদিন পরেই বন্ধ হয়ে যায়। মিলনায়তনের অভাবের প্রেক্ষাপটে নাটকের দল পালাকারও ছোট আঙ্গিকে একটি স্টুডিও থিয়েটার শুরু করতে চাচ্ছে। তারা এর নাম দিয়েছে—পালাকার রুফটপ স্টুডিও। বাংলায় বলা যায়, পালাকারের ছাদমঞ্চ।

মহড়া শেষে পালাকারের কর্ণধার আমিনুর রহমান মুকুল জানালেন, ২০০৪ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত নানা জায়গায় তাঁরা স্টুডিও থিয়েটার কার্যক্রমের আওতায় নানা প্রযোজনা এনেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেছেন এই ছাদমঞ্চের কাজ।

মুকুল বললেন, ‘আমরা নিজেরা কাজ করব। অন্য দলগুলোও এখানে এসে নাটকের মহড়া বা প্রদর্শনী করতে পারবে। নাটকের কাজের একটা নতুন জায়গা তৈরি হলো।’

ঘড়ির কাঁটায় ১০টা ছুঁইছুঁই, এমন সময় মহড়া শেষ করে বের হলেন নির্দেশক শামীম সাগর। জানালেন আজকের উদ্বোধনী দিনে মঞ্চায়িত হবে নাটক ‘হাজার চুরাশি’। ভারতের পশ্চিম বাংলার লেখক মহাশ্বেতা দেবীর ‘হাজার চুরাশির মা’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে এটি।

শামীমের কথায় উঠে আসে, অতীতে যেখানেই তাঁরা নাটকের মহড়ার জন্য জায়গা ভাড়া করেছেন, সেই জায়গাকে কেন্দ্র করেই চেষ্টা করেছেন প্রযোজনা নির্মাণের। মাঝে অনেক দিন বিরতি ছিল। ২০২৪ সালে বিশাল সেন্টারের ছাদের খোঁজ পেয়ে তাঁদের মনে হয়েছে, এই জায়গা কাজে লাগিয়ে আবারও স্টুডিও থিয়েটারের কাজ করা সম্ভব। ২০২৬ সালে এসে কাজে হাত দেওয়া সম্ভব হলো।

শামীম বলেন, ‘দিলু রোডে যখন করেছি, ওই এলাকাকেন্দ্রিক একটা দর্শকগোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল। এখানে যখন হচ্ছে, এই জায়গাকে কেন্দ্র করেও দর্শক তৈরি হবে। এভাবে ঢাকাজুড়ে যদি ছোট ছোট জায়গাকে কেন্দ্র করে স্টুডিও তৈরি হয়, তাহলে খুব ভালো হবে। থিয়েটারের দর্শকসংখ্যা বাড়বে।’

আজ সন্ধ্যায় প্রথম দিনের নাট্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন নাট্যজন মামুনুর রশীদ। প্রথম দিন খোলা থাকছে শুধু আমন্ত্রিত দর্শকদের জন্য। শনি ও রোববার দর্শনীর বিনিময়ে দেখতে পারবেন সব শ্রেণির দর্শকেরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত