Ajker Patrika

ফুলছড়িতে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ৯ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

ফুলছড়ি( গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
ফুলছড়িতে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা, ৯ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
গত বৃহস্পতিবার গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা ভুল প্রশ্নপত্রে নেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা ভুল প্রশ্নপত্রে নেওয়ার ঘটনায় ৯ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অব্যাহতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন কেন্দ্রসচিব ও ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আসাদুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার ও ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনোয়ার হোসেন এবং কক্ষ পরিদর্শক শৈলান কুমার, তানজিলা খাতুন, হাসান মাহমুদ, সাইফুল বারী, স্মৃতি আক্তার, গোলাম মোস্তফা আকন্দ ও সরাবান তহুরা।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র ১১ জন। কিন্তু ভুলবশত প্রায় ৫০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্র দিয়ে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়। দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির ১০৭ ও ১০৯ নম্বর কক্ষে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদল করে বিতরণ করেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। পরীক্ষার সময় কয়েকজন পরীক্ষার্থী বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানালেও পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার পর বিষয়টি নিশ্চিত হলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ এবং উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে কলেজ প্রাঙ্গণে অভিভাবকেরা ভিড় করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ঘটনার পর কেন্দ্রসচিব ও ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘যে প্রশ্নপত্রেই পরীক্ষা নেওয়া হয়ে থাকুক, সেই প্রশ্নপত্রের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে। আমি শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে আজ দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ৯ কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। উত্তরপত্রগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত