
গাইবান্ধা জেলা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়লেও তাঁদের জন্য আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে হাসপাতালে ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীরা একসঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক। অন্যদিকে বাড়ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু রোগীদের সার্বক্ষণিক মশারি টানিয়ে চিকিৎসা দিতে হয়। যাতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড় দিতে না পারে। যদি আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড় দেয় সেই মশা সুস্থ মানুষকে কামড় দেয়, তবে ডেঙ্গু ভাইরাস ওই সুস্থ মানুষকেও সংক্রমিত করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে স্থান সংকটের কারণে রোগীদের অমানবিক কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের পুরোনো ভবনটি ৫০ শয্যার। বর্তমানে সাধারণ ও ডেঙ্গু রোগী মিলে সাড়ে চার শত রোগী ভর্তি। এর মধ্য ডেঙ্গু রোগীর ভর্তি আছে ২৫ জন। বর্তমানে ডেঙ্গু প্রকোপ বাড়ার কারণে হাসপাতালেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। ফলে নির্ধারিত শয্যার বাইরে রোগীদের বারান্দার ও মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। এ ছাড়া রোগীর সংখ্যা বাড়ায় ও চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের চিকিৎসা সঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে নতুন ভবনটিও চালু করা যায়নি সরঞ্জামের অভাবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের গাদাগাদি করে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগীরা। তাঁরা মশারিও টাঙাছেন না। হাসপাতালে অবাধে রোগী ও স্বজনরা অবস্থান করছেন। হাসপাতালের চারদিকে ময়লার স্তূপের পানি জমে আছে ও দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নিয়ম অনুয়ায়ী প্রতিদিন পরিষ্কার করার কথা থাকলেও বেশ কয়েক দিন ধরে পরিষ্কার করা হচ্ছে না। হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলেও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তাঁর রুমে চিকিৎসকদের নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। অন্য দিকে নার্সরা রোগী সামাল দিতে হিমশিম। রোগীদের বেশির ভাগ ওষুধই বাহির থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। রোগীর স্বজনরা সেবার জন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করছেন।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ধানগড়া থেকে আসা আগমল হোসেন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু এখানে বেড খালি না থাকায় বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। খুব কষ্টে আছি। কোন সমস্যা হলে নার্সরা আসছে না। শহরের আরেক রোগী তোফাজ্জল বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে হয়রানি শিকার হচ্ছি। এটা সরকারি হাসপাতাল নাকি গোয়াল ঘর কিছুই বুঝছি। এখানে ভালো মানুষ এলেই অসুস্থ হয়ে যাবে।
আরেক রোগী স্বজন কনা আকতার বলেন, ছোট শিশু হঠাৎ পেতে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে আজ বুধবার ভর্তি করাইছি। এখানে মানুষ গাদাগাদি করে ভর্তি হয়ে আছে। নাই চিকিৎসক, নার্সদের ১০ বার ডাকলে একবার আসে। হাসপাতালের চার দিক দিয়ে দুর্গন্ধ আসছে। এখানে থাকাটাই মুশকিল। রোগীর স্বজন আয়শা আকতার বলেন, আমার বাবার ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে এনেছি। কিন্তু এখানে উনি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। আমরা গরিব মানুষ কোথায় যাব।
গাইবান্ধা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক শহিদুল্লাহর রুমে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন, আমি কোন সাক্ষাৎকার দিতে পারব না। ওপর থেকে নিষেধ আছে। আপনি এখন আসতে পারেন। দ্বিতীয় প্রশ্ন করার পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর রুম থেকে বেরিয়ে যান।
গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির তনু জানান, হাসপাতালে উন্নত সেবা থেকে দীর্ঘ দিন ধরে গাইবান্ধাবাসী বঞ্চিত। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ অধিকাংশ ডাক্তার বেসরকারি হাসপাতাল ক্লিনিকের কমিশনের সঙ্গে জড়িত। হাসপাতালটির দেখভালের দায়িত্বে তাঁরা থাকে তাঁরা রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্র ছায়ায় থাকার কারণে এসব করার সুযোগ পায়।

সৌদি আরবের জেদ্দায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন ঢাকার দোহার উপজেলার উত্তর শিমুলিয়া গ্রামের দুই প্রবাসী। নিহত ব্যক্তিরা হলেন পলাশ ও ওবায়দুল।
৩৮ মিনিট আগে
খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি নিজেই কার্যালয়ে ফিরে আসেন। তবে অপহরণের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, একটি সমস্যার কথা বলে কয়েকজন তাঁকে কথা বলতে নিয়ে গিয়েছিলেন।
৪১ মিনিট আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ পরিচয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ থেকে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্থানীয়দের সন্দেহে থানায় ফোন করলে পরিচয় যাচাইয়ের পর তাঁদের আটক করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে
আলোচিত অর্থ পাচারকারী প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারসহ ৪৮ জনের বিরুদ্ধে ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটি মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বিরুদ্ধে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে নামসর্বস্ব ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে ঋণের অর্থ আত্মসাতের মামলায়
১ ঘণ্টা আগে