
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে পরিষদে অনুপস্থিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে দিনের পর দিন ঘুরে ফিরছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
জানা গেছে, মাসুদ আলম মণ্ডল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁর প্রভাব ছিল গোটা উপজেলাজুড়ে। তবে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে তিনি আড়ালে চলে যান। এর মধ্যে কয়েক দফা গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে। এর পর থেকেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন না তিনি।
এক মাস ধরে জন্মনিবন্ধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরছেন উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন এসে দেখি চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলছে। কবে আসবেন কেউ বলতে পারে না। কাজও হচ্ছে না।’
চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় গ্রাম আদালত, মাসিক সভাসহ পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। মাসুদ রহমান সচিব, তালুককানুপুর ইউপি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ইউনিয়নে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের পর থেকে চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মণ্ডল কার্যত ইউনিয়ন পরিষদে আসছেন না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের অফিসগুলোতে তালা ঝুলছে। দুজন গ্রাম পুলিশ সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুসনদ, নাগরিক সনদ, স্থায়ী বাসিন্দা সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন প্রত্যয়নের জন্য মানুষ এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন।
সেবাগ্রহীতা মমতা বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে সনদের জন্য আসছি। চেয়ারম্যান না থাকায় প্রতিবারই খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে।’ ইউনিয়নের বাসিন্দা ছালাম মিয়া বলেন, ‘চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ করত। এখন পুলিশ ধরবে এই ভয়ে তিনি পরিষদে আসেন না। মনে হয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ফিরবেন।’ এভাবে একটি স্বাক্ষরের জন্য প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে আসা-যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
সময়টা ভালো না। আপনারা যা ইচ্ছা লেখেন। কয়েকজন মেম্বার আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। সময় হলে সবকিছুর জবাব দেব। মাসুদ আলম মণ্ডল চেয়ারম্যান, তালুককানুপুর ইউপি
জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাসুদ রহমান বলেন, চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় গ্রাম আদালত, মাসিক সভাসহ পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সদস্য বলেন, চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অপকর্ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। গ্রামবাসী মানববন্ধনও করেছে, যা গণমাধ্যমে এসেছে। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আর পরিষদে আসছেন না, ফোনও অনেক সময় বন্ধ থাকে। এতে ইউনিয়নবাসী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মণ্ডল মুঠোফোনে বলেন, ‘সময়টা ভালো না। আপনারা যা ইচ্ছা লেখেন। কয়েকজন মেম্বার আমার বিরুদ্ধে লেগেছে। সময় হলে সবকিছুর জবাব দেব।’
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানা গেছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৌলভীবাজার তথা সিলেট বিভাগের ইফতারে অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো আখনি পোলাও। এই অঞ্চলের মানুষেরা নিজ বাড়িতে আখনি তৈরির পাশাপাশি রোজার মাসে বড় হাঁড়ির আখনি খাবারের স্বাদ নিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় ইফতার করতে আসেন। সুগন্ধি চাল, ঘি, গরম মসলা
৩ ঘণ্টা আগে
এবারও নির্ধারিত সময়ে (২৮ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়নি সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ। অভিযোগ রয়েছে, বাঁধের কাজে সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকায় সাব্যস্ত হয়েছে বাঁধ, বরাদ্দ ও প্রকল্প। টেকসই কাজ ও নির্ধারিত সময়সীমার বিপরীতে কে কত টাকায় প্রকল্প বাগিয়ে নিতে...
৩ ঘণ্টা আগে
উঠানে হাঁটুপানি। সেই পানিতে ভাসছে শেওলা। প্রথমে মনে হবে পরিত্যক্ত বাড়ি। অথচ এই বাড়িতেই স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন রেখা হালদার। রাস্তা থেকে বাড়িতে ঢুকতে একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। ঘর থেকে পানি সরলেও এখনো কর্দমাক্ত রান্নাঘর, গোয়ালঘর।
৩ ঘণ্টা আগে
এই দিনের জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন সবাই। পয়সা খরচ করে বই বের করা প্রকাশক তো বটেই, বইপ্রেমী পাঠকেরাও। জনশূন্য মেলায় ঘুরতে কার ভালো লাগে! স্টলে স্টলে থাকবে ক্রেতা-পাঠকের ভিড়। হাতে থাকবে একগাদা বইয়ের ব্যাগ। সেটিই তো বইমেলার চিরচেনা রূপ!।
৩ ঘণ্টা আগে