Ajker Patrika

সুন্দরগঞ্জে আরও ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত বেড়ে ৩৪

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৩৬
সুন্দরগঞ্জে আরও ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স, আক্রান্ত বেড়ে ৩৪
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নতুন করে আরও ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) শনাক্ত হয়েছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে নতুন করে আবারও ৩ জনের শরীরে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) শনাক্ত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁরা হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন।

নতুন করে আক্রান্ত ৩ ব্যক্তি হলেন উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটী গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. শাহিনুর বেগম (৩৫), মৃত ছরিতুল্লাহর ছেলে মো. আনছার আলী (৬৪) ও মো. আমির উদ্দীনের ছেলে মো. জবেদ আলী (৪৫)।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে শনাক্ত হওয়া তিনজনের শরীরে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ দেখা দেয়। পরে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে উপজেলায় অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।

এ তিনজন ছাড়া অন্য ৩১ জন হলেন মো. জয়নাল আবেদিন (৪০), মোছা. গোলেজা বেগম (৪০), মোছা. নুর আকাইদ (৬), মোছা. রুমি আক্তার (২৯), মোছা. রাশিদা বেগম (৫০), মো. সুলতান মিয়া (২৫), মোছা. রাহেলা বেগম (৫০), মোছা. শরিতন বেগম (৫০), মোছা. দোলেনা বেগম (৩৫), মো. জয়নাল মিয়া (৬০), মোছা. ফেন্সি আক্তার (১৮), মোছা. ফুলমতি বেগম (৪৫), মোছা. রাবেয়া বেগম (৪৫), মোছা. আজমিন বেগম (২৫), মোছা. ফাহিমা বেগম (৪৫), মো. শফিক আলম (৪৫), মো. শফিয়াল মিয়া (৪৫), মো. আবদুর রশিদ মিয়া (৪০), মো. চাদ মিয়া (৫৮), মো. আবদুল জলিল মিয়া (৬০), মোছা. লাবনী আক্তার (৩৫), মোছা. রেশমা বেগম (৪৫), মো. আবদুল মজিদ মিয়া (৪৫), মো. মেসকিনা বেগম (৩৫), মোছা. আশা মনি (১৮), মো. জরিফ মিয়া (১৪), মো. নিয়ামুল মিয়া (৭), মো. হায়দার আলী (৩৭), মো. আদিল মিয়া (৪), মোছা. আনিনা বেগম (২৪) ও মোছা. লাকি বেগম (৩৯)।

অ্যানথ্রাক্সের বিস্তার রোধে আক্রান্ত পশু জবাই ও মাংস বিক্রি না করা, অসুস্থ বা মৃত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম বাছোহাটি গ্রামের ৩ জন, পূর্ব বাছোহাটি গ্রামের ২৬ জন, রামজীবন ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের ৩ জন, দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল গ্রামের ১ জন ও সোনারায় ইউনিয়নের শিবরাম গ্রামের ১ জনসহ মোট ৩৪ রোগী জরুরি বিভাগে এসেছিলেন। তাঁদের সবাইকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে। আতঙ্কের কিছু নেই। চিকিৎসায় এ রোগ ভালো হয়।’ তাঁরা সবাই সুস্থ হয়ে উঠবেন বলেও প্রত্যাশা তার।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, এ পর্যন্ত ২০ হাজার পশুর ভ্যাকসিন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার পশুকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজারের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলো পেয়ে যাব। এ উপজেলায় ২ লাখ ৫৪ হাজার গবাদিপশু রয়েছে।

ইফতেখারুল ইসলাম আরও বলেন, রিং ভ্যাকসিনেশন পদ্ধতিতে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত