সোনাগাজীতে মাদকসেবীদের অত্যাচারে ৪ মাস বাড়িছাড়া ফারুকের পরিবার

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরসাহাভিকারী গ্রামের বাসিন্দা ওমর ফারুক। জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় থাকতে হয়। তাই বাড়িতে তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতেন তাঁর স্ত্রী, সন্তানেরা। কিন্তু মাদকসেবীদের অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাঁর পরিবারকে এখন নিজেদের ভিটা ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে।
এমনকি বাড়ি ছেড়ে গিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। সর্বশেষ ১ নভেম্বর গভীর রাতে ঘরের টিন কেটে সেখানে মাদক সেবন শেষে জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
ওমর ফারুকের স্ত্রী ফারহানা আক্তার স্মৃতি বলেন, ‘২০২৫ সালের শুরু থেকে রাতে আমাদের ঘরের ওপর ইটপাটকেল মারত। এরপর আমরা জানালা খুললে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ ও অঙ্গভঙ্গি দেখাত। যার কারণে আমরা জানালা খুলতাম না। বিষয়টি আমার স্বামীকে জানানোর পর আমার স্বামী সমাজের লোকদের কাছে অভিযোগ করেন। এরপরও কোনো প্রতিকার পাইনি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাধ্য হয়ে চলতি বছরের জুলাই মাসের ২৫ তারিখে আমরা কাজীরহাটে একটি ভাড়া বাসায় চলে যাই। গত কয়েক মাস ধরে সেখানেই আছি। গত সোমবার দিনের বেলা বাড়িতে এসে দেখি, ঘরের টিন কাটা এবং ঘরের অনেক জিনিসপত্র নেই।’
ওমর ফারুক বলেন, ‘আমি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমি এলাকায় না থাকার সুযোগে আমার পরিবারকে এভাবে যন্ত্রণা দিচ্ছে। এগুলো কারা করছে সমাজের সবাই জানে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাই আমি আমাদের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কালাম ভাইসহ সমাজ কমিটিকে আবারও জানিয়েছি। উনারা আমার বাড়িতে এসে সব দেখে গেছেন। মাদকসেবীদের ভয়ে যদি বাড়ি ছাড়তে হয়, তবে সমাজ ও নেতাদের কাজ কি? আমি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এলাকার সৌদীপ্রবাসী মো. জাফর উল্যাহ বলেন, ‘আমরা পরিবার রেখে প্রবাসে অবস্থান করি। যদি সমাজের এমন অবস্থা হয় তাহলে তো সমস্যা। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের কঠিন পদক্ষেপ নিতে হবে। নতুবা এটি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও কারামতিয়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন রাসেল বলেন, বিষয়টি আমরা আগে থেকেই অবগত আছি। কিছু লোক চিহ্নিত করেছি। নাম প্রকাশে নারাজ রাসেল আরো বলেন, ‘তাদের হাতেনাতে ধরে প্রশাসনের নিকট তুলে দেব, তাই নাম প্রকাশ করছি না।’
চরদরবেশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে রাতে এই এলাকার আশপাশে টহল জোরদার করে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসিম বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। তারপরও তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’









