Ajker Patrika

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে যুবকের মৃত্যু: তদন্ত কমিটি গঠন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে যুবকের মৃত্যু: তদন্ত কমিটি গঠন
মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা যুবক মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় জেলা পুলিশ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন ও সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তে কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলামকে প্রধান করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম এবং ডিআই-১ মো. মোশারফ হোসেন।

আজ রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রান্তের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে তখনো কোনো মামলা হয়নি।

নিহত মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত মধুখালী পৌর সদরের গোন্দারদিয়া গ্রামের মৃত মির্জা ইসকান্দারের বড় ছেলে। তিনি ফরিদপুর আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের কর্মী এবং ফরিদপুর চিনিকলে চাকরি করতেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির আঙিনা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে আটক করে। পুলিশের দাবি, তাঁর কাছে দুই পুরিয়া (১০০ গ্রাম) গাঁজা পাওয়া যায়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, গোন্দারদিয়া গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করার পর মাদকসংক্রান্ত আরও অভিযান শেষে ভোর ৪টায় তাঁকে আরও চারজনের সঙ্গে ফরিদপুরে আনা হয় এবং ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। ভোর ৫টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকাল সাড়ে ৭টায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পরিবার ও স্বজনদের দাবি, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছে।

প্রান্তের মা মির্জা খাদিজা আক্তার বলেন, ‘গতকাল বিকেলে আমার ছেলে বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ করে ১০-১৫ জন লোক এসে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার পায়ের কাছে দুটি গাঁজার পোঁটলা ফেলে দিয়ে বলে—‘‘তুই মাদক ব্যবসায়ী’’, এই বলে ছেলেকে মারধর করে।’

মির্জা খাদিজা আক্তার আরও বলেন, ‘এরপর আমি তাদের অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা প্রান্তকে ধরে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে ঘরে তল্লাশি চালায়। এ সময় প্রান্তকে তারা মারধর করে। ঘরে কিছুই না পেয়ে পরে প্রান্তকে ফরিদপুরে নিয়ে যায় তারা।’

খাদিজা আক্তার আরও বলেন, ‘আমার ছেলেকে বেদম মারধর করা হয়, মারধরের কারণেই আমার ছেলে মারা গেছে। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।’

পরিবার ও ডিবি সূত্রে জানা যায়, অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আহাদুজ্জামান ও এসআই মো. মোতাহার আলী। অভিযানে অংশ নেন এএসআই মো. হাজিকুল ইসলাম, কনস্টেবল মনিরুজ্জামান, ফরহাদ হোসেন মিয়া, রাকিব মোল্লা সুফিয়ান, রকিবুল ইসলাম ও চম্পা হালদার। গাড়িচালক ছিলেন মো. সবুজ মোল্লা।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেনের দাবি, কোনো নির্যাতন করা হয়নি, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে ও ব্রেইন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভোর ৪টায় তাকে অন্য আসামিদের সঙ্গে রাখা হয় এবং কক্ষটিতে বৈদ্যুতিক পাখারও ব্যবস্থা ছিল। ছেলেটি সেখানে ফজরের নামাজও আদায় করে। এরপর ও নিজেই অন্যদের জানায় যে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। তখন আমাদের জানানো হলে তাৎক্ষণিক জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই এবং সেখান থেকে মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তার সিটিস্ক্যান রিপোর্টে ব্রেইন স্ট্রোকের কারণ দেখা গিয়েছে বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।’

ওসি আরও দাবি করেন, মারা যাওয়া যুবক চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাঁর নামে মধুখালী থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে মধুখালী থানার ওসিকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘চিকিৎসকের কাছ থেকে জানতে পেরেছি—মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, পুলিশ হেফাজতে তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। তবে যেহেতু পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা গিয়েছে, তাই এ বিষয়ে যাতে কোনো সন্দেহের সৃষ্টি না হয়, সে কারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত