Ajker Patrika

শাহবাগে ‘ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ’–এর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ, ৮ দফা দাবি

ঢাবি প্রতিনিধি
শাহবাগে ‘ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ’–এর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ, ৮ দফা দাবি
শুক্রবার বিকেলে শাহবাগে ‘ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচি। ছবি: আজকের পত্রিকা

হিন্দু ধর্মের ভগবান শ্রী শ্রী রামচন্দ্রের ছবি অবমাননার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অবমাননাকর কনটেন্ট প্রচারের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেল ৫টায় শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বাংলাদেশের বিভিন্ন সনাতনী সংগঠন, মঠ ও মন্দিরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সনাতনী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুশান্ত অধিকারী।

সুশান্ত অধিকারী বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

এ সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে উত্থাপিত ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত কুমার চক্রবর্তী, বাংলাদেশ সনাতন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সুমন কুমার রায়সহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

বক্তারা বলেন, সম্প্রতি ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের ছবি অবমাননার অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে—এমন বিভিন্ন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তারা দাবি করেন, এসব ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষ, গুজব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

কর্মসূচি থেকে ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—

১. ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের ছবি অবমাননার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করা।

২. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ, গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।

৪. দেশের মঠ, মন্দির, আশ্রম ও শ্মশানের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ধর্মীয় স্থাপনা পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া।

৫. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষায় একটি স্বাধীন ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন’ গঠন।

৬. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বৈষম্য, হেনস্তা বা লাঞ্ছনার অভিযোগে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ।

৭. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে জড়িত উগ্রপন্থী ও সহিংস গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ।

৮. প্রচলিত আইন অনুযায়ী ধর্ম অবমাননা, সাম্প্রদায়িক উসকানি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।

সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা শাহবাগ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত একটি মশাল মিছিল করেন। মিছিল থেকে ধর্মীয় সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার এবং সকল নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত