মোহাম্মদপুরে ভাত রান্না নিয়ে তর্ক, কাঁচির আঘাতে আহত কিশোরের মৃত্যু

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চুলায় ভাত রান্না করাকে কেন্দ্র করে তর্কের জেরে কাঁচির আঘাতে আহত নিরব (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে। এর আগে, ১৯ অক্টোবর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নিরবের বড় ভাই পিয়াল হাসান জানান, তাঁদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থানার রামনগর গ্রামে। তাঁরা বর্তমানে রাজধানীর রায়েরবাজারের গ্রীন গলির একটি টিনশেড বাসায় মেসে থাকেন। এক কক্ষে দুই ভাই ও তাঁদের বাবা এনায়েত মুন্সি থাকেন। বাবা রঙের কাজ করেন। নিরবও বাবার সঙ্গে রঙের কাজ শিখছিল।
পিয়াল হাসান বলেন, ১৯ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে নিরব গ্যাসের চুলায় ভাত রান্না করছিল। এ সময় পাশের কক্ষের আলমগীর ভাত রান্না করতে আসে। সেখানে চারটি চুলা থাকলেও আলমগীর অন্য চুলায় না গিয়ে নিরবকে চুলা ছেড়ে দিতে বলে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। একপর্যায়ে নিরব আলমগীরকে গালি দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে সে নিরবকে মারধর করে।
পিয়াল হাসান আরও বলেন, তিনি এগিয়ে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়। এ সময় আলমগীরের ভাই শিমুল এবং দুই ভাতিজা নাজিম ও নাদিম কক্ষ থেকে বের হয়ে নিরবকে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিমুল নিরবের গলায় কাঁচি ঢুকিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর তাঁদের বাবা বাসায় ফিরলে তাঁকেও মারধর করা হয়।
পরে নিরবকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ২২ অক্টোবর আবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম জানান, ১৯ অক্টোবর রাতে ভাত রান্নাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে গলায় কাঁচির আঘাতে আহত হয় নিরব। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে।
জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনার পর নিরবের বাবা এনায়েত মুন্সি চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। নিরবের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আলমগীর নামে একজন আসামি গ্রেপ্তার আছেন।









