Ajker Patrika

কোরিয়াগামী কর্মীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

  • বোয়েসেল ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে রাজশাহীতে গ্রেপ্তার
  • ভিসা বাতিলের ভয় দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদ
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
কোরিয়াগামী কর্মীর কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকার শাহ মখদুম থানা। ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে এক তরুণের কাছ থেকে ১৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের মূল হোতাকে আটক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং রাজশাহী জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে মঙ্গলবার রাজশাহীর নওদাপাড়া আমচত্বর মোড় এলাকা থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি আহসান হাবীব (৪০) রাজশাহীর পবা উপজেলার ঘোড়াহাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তার সহযোগী আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মেরাজ আলী (২১) সরকারি ব্যবস্থাপনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবেদন করেন। ভাষা পরীক্ষা, স্কিল টেস্ট ও মেডিকেল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কোরিয়াগামী কর্মীদের রোস্টারে অন্তর্ভুক্ত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মেরাজ আলীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে আহসান হাবীব ও তার সহযোগীরা গত ১৪ জুন তার বাড়িতে গিয়ে কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নথিপত্র দেখায়। তারা দাবি করে, ১৬ লাখ টাকা না দিলে তার ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ভিসা নিশ্চিত করার কথা বলে অগ্রিম এক লাখ টাকা দাবি করা হয়।

বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে মেরাজ আলী ১৫ জুন ঢাকার ইস্কাটনে অবস্থিত বোয়েসেল কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বোয়েসেল কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো অর্থ লেনদেন বা চুক্তির সুযোগ নেই। পরে প্রতারকদের ধরতে একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীর নওদাপাড়া আমচত্বর মোড়ের একটি ব্যাংকের এটিএম বুথের সামনে আহসান হাবীব অগ্রিম টাকা নিতে এলে সেখানে ছদ্মবেশে অবস্থানরত বোয়েসেলের কর্মকর্তারা এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা তাকে হাতেনাতে আটক করেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোরিয়াগামী কর্মীদের তথ্য ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পরে তাকে শাহমখদুম থানায় সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেরাজ আলী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়। এ প্রক্রিয়ায় কোনো দালাল, এজেন্ট বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে ভিসা নিশ্চিত বা বাতিল করার সুযোগ নেই।

কোরিয়াগামী কর্মীসহ বিদেশে যেতে ইচ্ছুক সবাইকে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্দেহজনক কোনো প্রস্তাব পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বোয়েসেল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত