আল-আমিন রাজু, ঢাকা

বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কৃষক মজনু রহমান। একটা সময় আর দশটি সাধারণ কৃষকের মতো তাঁরও গোলাভরা ধান এবং গোয়ালে গরু ছিল। তবে সেই সুখ তাঁর বেশি দিন থাকেনি। পায়ে পচন ধরায় চিকিৎসার পেছনে জমি, বাড়িসহ সব হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু সম্পদ হারিয়েও রক্ষা করতে পারেননি পা। একে একে কেটে ফেলতে হয়েছে দুটি পা। স্বাবলম্বী কৃষক থেকে ভূমিহীন হয়ে যান মজনু।
এরপর পঙ্গু মজনু বেঁচে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে স্ত্রীসহ চলে আসেন ঢাকায়। কল্যাণপুরের ৯ নম্বর বস্তিতে মাত্র ১ হাজার ৪শ টাকায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। দুমুঠো খাবারের সন্ধানে শুরু করেন ভিক্ষা। গত শুক্রবার শবে বরাতের রাতে বিভিন্ন মসজিদের সামনে ভিক্ষা করে পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৭০০ টাকা। সব হারিয়ে নিঃস্ব মজনু স্বপ্ন দেখছিলেন গ্রামে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই নির্মাণের। আর এ জন্য নিজের আয়ের একটি অংশ জমা করছিলেন। কিন্তু মজনুর সেই স্বপ্ন নিমেষেই ছাই হয়ে গেল। মুহূর্তেই পুরো সংসার আগুনের লেলিহানে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মজনু আগুনের সময় ঘরেই ছিলেন। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঘুমানোর। এরই মধ্যে মজনুর স্ত্রী রেহেনা বেগম টের পান আগুন লাগার। সাজানো সংসারের কিছুই বাঁচানোর চেষ্টা করেননি রেহেনা। শুধু বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন একমাত্র পঙ্গু স্বামী মজনুকে। নিজের সর্বশক্তি দিয়ে টেনে বের করেছেন মজনুকে। আগুন শেষে ফিরে এসে দেখেন সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সাজানো স্বপ্ন মিশে গেছে আগুনের লেলিহানে। স্বামীর চলার হুইল চেয়ারটিও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আজ সোমবার সকালে কল্যাণপুরের পোড়া বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, রাতের আগুনে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষগুলো খোঁজার চেষ্টা করছেন কিছু বেঁচে আছে কী না, কিছু রক্ষা পেল কি না? যেখানেই হাত দিচ্ছেন সেখানেই ছাই। রঙিন স্বপ্ন নিমেষেই পুড়ে ছাই। তিলে তিলে গড়ে তোলা একেকটি আসবাবপত্র চোখের সামনেই পুড়ে গেছে। কিছুই রক্ষা পায়নি আগুনের হাত থেকে।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের হিসেবে কল্যাণপুরের ৯ নম্বর বস্তিতে লাগা আগুনে পুড়েছে ২৭৯টি ঘর। মাত্র দুই ঘণ্টার আগুনে নিঃস্ব ২৭৯টি পরিবার। রাতের অন্ধকারের আগুনে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলেছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা।
এদের মধ্যে একজন সুফিয়া বেগম। ২০ বছর আগে স্বামীহারা সুফিয়ার পেটে বড় একটি টিউমার হয়েছে। ৫০ হাজার টাকার অভাবে অপারেশন করতে পারছেন না। পেশায় ভিক্ষুক সুফিয়া ভিক্ষা করে ২০ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন ৫০ হাজার টাকা একত্র করে দীর্ঘদিন ধরে বয়ে চলা টিউমারটি অপারেশন করাবেন। কিন্তু সেই ইচ্ছেটা আর বাস্তবায়ন হলো না। কোনো মতে জীবন নিয়ে বের হয়েছেন।
সুফিয়া বলেন, ‘বয়স হয়েছে। শরীরে অনেক রোগ বাসা বেঁধেছে। স্বামী হারিয়েছি ২০ বছর আগে। আমার কেউ নেই। পেটে একটা বড় টিউমার হয়েছে। ডাক্তার বলেছে, ৫০ হাজার টাকা হলে অপারেশন করবে। আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। গায়ে একটা ছালা প্যাঁচায়ে কোনো রকমে জীবন বাঁচিয়েছি।’
অভিযোগ উঠেছে এই বস্তির ভেতরে থাকা আব্দুস সালাম ওরফে শাহ আলম নামের এক ব্যক্তির গ্যাসের সিলিন্ডারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে বস্তির ভেতরে প্রভাব খাঁটিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসা করে আসছেন। এমন কী এই বস্তি দেখিয়ে বিভিন্ন এনজিওর থেকে নানা ধরনের সুবিধা নিয়ে আসছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসার কথা অস্বীকার করেন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘বস্তিতে আমার কোনো ব্যবসা নেই। আগে ছিল, এখন সব সিলিন্ডার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’
সরকারি জমিতে বস্তি গড়ে তুলে নিজেকে নগর বস্তি উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি পরিচয় দেওয়া শাহ আলম বলেন, ‘এই বস্তিতে ৩ শ মানুষের ঘর পুড়েছে। আমরা বলতে পারি না কীভাবে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আসলে আমাদের এত ক্ষতি হতো না। বিদ্যুৎ থেকে হয়তো আগুন লেগেছে।’

বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার কৃষক মজনু রহমান। একটা সময় আর দশটি সাধারণ কৃষকের মতো তাঁরও গোলাভরা ধান এবং গোয়ালে গরু ছিল। তবে সেই সুখ তাঁর বেশি দিন থাকেনি। পায়ে পচন ধরায় চিকিৎসার পেছনে জমি, বাড়িসহ সব হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু সম্পদ হারিয়েও রক্ষা করতে পারেননি পা। একে একে কেটে ফেলতে হয়েছে দুটি পা। স্বাবলম্বী কৃষক থেকে ভূমিহীন হয়ে যান মজনু।
এরপর পঙ্গু মজনু বেঁচে থাকার জন্য বাধ্য হয়ে স্ত্রীসহ চলে আসেন ঢাকায়। কল্যাণপুরের ৯ নম্বর বস্তিতে মাত্র ১ হাজার ৪শ টাকায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেন। দুমুঠো খাবারের সন্ধানে শুরু করেন ভিক্ষা। গত শুক্রবার শবে বরাতের রাতে বিভিন্ন মসজিদের সামনে ভিক্ষা করে পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৭০০ টাকা। সব হারিয়ে নিঃস্ব মজনু স্বপ্ন দেখছিলেন গ্রামে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই নির্মাণের। আর এ জন্য নিজের আয়ের একটি অংশ জমা করছিলেন। কিন্তু মজনুর সেই স্বপ্ন নিমেষেই ছাই হয়ে গেল। মুহূর্তেই পুরো সংসার আগুনের লেলিহানে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মজনু আগুনের সময় ঘরেই ছিলেন। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঘুমানোর। এরই মধ্যে মজনুর স্ত্রী রেহেনা বেগম টের পান আগুন লাগার। সাজানো সংসারের কিছুই বাঁচানোর চেষ্টা করেননি রেহেনা। শুধু বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন একমাত্র পঙ্গু স্বামী মজনুকে। নিজের সর্বশক্তি দিয়ে টেনে বের করেছেন মজনুকে। আগুন শেষে ফিরে এসে দেখেন সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সাজানো স্বপ্ন মিশে গেছে আগুনের লেলিহানে। স্বামীর চলার হুইল চেয়ারটিও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আজ সোমবার সকালে কল্যাণপুরের পোড়া বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, রাতের আগুনে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া মানুষগুলো খোঁজার চেষ্টা করছেন কিছু বেঁচে আছে কী না, কিছু রক্ষা পেল কি না? যেখানেই হাত দিচ্ছেন সেখানেই ছাই। রঙিন স্বপ্ন নিমেষেই পুড়ে ছাই। তিলে তিলে গড়ে তোলা একেকটি আসবাবপত্র চোখের সামনেই পুড়ে গেছে। কিছুই রক্ষা পায়নি আগুনের হাত থেকে।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের হিসেবে কল্যাণপুরের ৯ নম্বর বস্তিতে লাগা আগুনে পুড়েছে ২৭৯টি ঘর। মাত্র দুই ঘণ্টার আগুনে নিঃস্ব ২৭৯টি পরিবার। রাতের অন্ধকারের আগুনে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে ফেলেছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষেরা।
এদের মধ্যে একজন সুফিয়া বেগম। ২০ বছর আগে স্বামীহারা সুফিয়ার পেটে বড় একটি টিউমার হয়েছে। ৫০ হাজার টাকার অভাবে অপারেশন করতে পারছেন না। পেশায় ভিক্ষুক সুফিয়া ভিক্ষা করে ২০ হাজার টাকা জমা করেছিলেন। আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন ৫০ হাজার টাকা একত্র করে দীর্ঘদিন ধরে বয়ে চলা টিউমারটি অপারেশন করাবেন। কিন্তু সেই ইচ্ছেটা আর বাস্তবায়ন হলো না। কোনো মতে জীবন নিয়ে বের হয়েছেন।
সুফিয়া বলেন, ‘বয়স হয়েছে। শরীরে অনেক রোগ বাসা বেঁধেছে। স্বামী হারিয়েছি ২০ বছর আগে। আমার কেউ নেই। পেটে একটা বড় টিউমার হয়েছে। ডাক্তার বলেছে, ৫০ হাজার টাকা হলে অপারেশন করবে। আগুনে সব শেষ হয়ে গেল। গায়ে একটা ছালা প্যাঁচায়ে কোনো রকমে জীবন বাঁচিয়েছি।’
অভিযোগ উঠেছে এই বস্তির ভেতরে থাকা আব্দুস সালাম ওরফে শাহ আলম নামের এক ব্যক্তির গ্যাসের সিলিন্ডারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে। শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে বস্তির ভেতরে প্রভাব খাঁটিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসা করে আসছেন। এমন কী এই বস্তি দেখিয়ে বিভিন্ন এনজিওর থেকে নানা ধরনের সুবিধা নিয়ে আসছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গ্যাসের সিলিন্ডারের ব্যবসার কথা অস্বীকার করেন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, ‘বস্তিতে আমার কোনো ব্যবসা নেই। আগে ছিল, এখন সব সিলিন্ডার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।’
সরকারি জমিতে বস্তি গড়ে তুলে নিজেকে নগর বস্তি উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি পরিচয় দেওয়া শাহ আলম বলেন, ‘এই বস্তিতে ৩ শ মানুষের ঘর পুড়েছে। আমরা বলতে পারি না কীভাবে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত আসলে আমাদের এত ক্ষতি হতো না। বিদ্যুৎ থেকে হয়তো আগুন লেগেছে।’

পাবনার বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী, জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী শিল্পী গোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক প্রলয় চাকির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
২৭ মিনিট আগে
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজটি কয়লাবোঝাই ট্রাকের অতিরিক্ত ওজনের কারণে দেবে গেছে। ব্রিজটি চরবিশ্বনাথপুর এলাকার মানুষের জন্য হোসেনপুর বাজারে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
৩৭ মিনিট আগে
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া স্টেশনে ট্রেনের বগি থেকে মোজাহার আলী (৬০) নামের এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করছে পুলিশ। তিনি উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের মতরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল সর্দারের ছেলে।
১ ঘণ্টা আগে
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সরকারি আরএসকেএইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশদ্বারের পাশেই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয় একটি পাবলিক টয়লেট (ওয়াশ ব্লক)। কিন্তু উদ্বোধনের পর প্রায় আড়াই বছরেও ১৬ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিত...
২ ঘণ্টা আগে