Ajker Patrika

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণা, চাকরিচ্যুত সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ২

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণা, চাকরিচ্যুত সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ২
ঢাকার কেরানীগঞ্জে র‍্যাব-১০ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তার দুজন হলেন—চাকরিচ্যুত সাবেক সেনাসদস্য নরসিংদী সদরের মো. তারেক সরকার (৪০) ও তাঁর সহযোগী মো. পলাশ কবির (৪২)। তাঁদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও আলামত জব্দ করা হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকার কেরানীগঞ্জে র‍্যাব-১০ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, তারেক সরকার দীর্ঘদিন ধরে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। পরে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছিল।

র‍্যাবের ভাষ্য, তারেক সরকার ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন। পরে ওই তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং প্রায় ১৪ বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা ও কার্যক্রম সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতাকেই প্রতারণার কাজে ব্যবহার করতেন তিনি।

র‍্যাব-১০ এর অধিনায়ক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারেক সরকার জানিয়েছেন, তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে ভুয়া ও তথাকথিত ‘ভিআইপি’ সিম সংগ্রহ করতেন। এরপর সেই নম্বর ব্যবহার করে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলতেন। পরে ভুয়া পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে চাকরির সুপারিশের নামে প্রভাব খাটাতেন। গত ছয় বছরে এসব প্রতারণার মাধ্যমে তিনি প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর গত ২৪ মে নরসিংদী সদরের সংগীতা মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি বাঁধাই করা ছবি পাওয়া যায়, যেখানে ফটোশপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তারেক সরকারের ছবি সংযুক্ত করা হয়েছিল। র‍্যাবের দাবি, এই ছবি দেখিয়ে তিনি মানুষের কাছে প্রভাব বিস্তার করতেন।

র‍্যাব জানায়, তারেক সরকারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে তাঁর সহযোগী পলাশ কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত