Ajker Patrika

রাত ৩টায় আদালত বসিয়ে সাজা দিতে চাওয়া বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের অভিপ্রায়: শিশির মনির

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
রাত ৩টায় আদালত বসিয়ে সাজা দিতে চাওয়া বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের অভিপ্রায়: শিশির মনির
আজ রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাত ৩টায় আদালত বসিয়ে সাজা দিতে চাওয়া বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের অভিপ্রায় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

শিশির মনির বলেন, রাত ৩টার সময় কিংবা বিকেলে কিংবা সন্ধ্যার সময় আদালত বসিয়ে যাকে ইচ্ছা তাকে সাজা দেওয়ার যদি অভিপ্রায় থাকে, তবে আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে। আর যদি এই অভিপ্রায় কারও না থাকে, তাহলে সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করবেন। এখানে তো আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা থাকার কথা নয়।

এতে সরকারেরও কোনো ভূমিকা থাকার কথা নয় বলে মন্তব্য করে শিশির মনির বলেন, ‘যদি সরকারের বিরুদ্ধে আদেশ হয়, তাহলে সরকার আপিল করবে; কিন্তু বিচারককে পদোন্নতি দেবে না কেন?’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শিশির মনির। তিনি জানান, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বাতিলের মাধ্যমে জনগণের আস্থার জায়গাটি ধ্বংস করা হয়েছে। এর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাকশাল ও সামরিক শাসনের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

জামায়াতের কর্মপরিষদের এ সদস্য বলেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ এখন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হলেও তাঁদের বদলি, ছুটি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ক্ষমতা আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকায় স্বাধীনভাবে কাজ করা সম্ভব হয় না। বিচারকদের ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ থাকলে তাঁরা স্বাধীনভাবে রায় দিতে পারেন না। এ সমস্যা সমাধানেই প্রধান বিচারপতির অধীনে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল বলে জানান শিশির মনির। যেখানে ১৫ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাও নিয়োগ পেয়েছিলেন।

জুলাই জাতীয় সনদের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের পক্ষে মত দিয়েছিল উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল, বর্তমান আইনমন্ত্রীও আদালতে হলফনামা দিয়ে সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের আপত্তি নেই বলে জানিয়েছিলেন; কিন্তু এখন সেই সচিবালয়ই বাতিল করা হয়েছে।

বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে সভ্য সমাজ গড়ে উঠতে পারে না মন্তব্য করে শিশির মনির বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ মানে, বিচার যার পক্ষেই যাক না কেন, তা মেনে নেওয়া।

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী আরও বলেন, বদলি, ছুটি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলা—এই চারটি বিষয় সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত। আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে এসব ক্ষমতা থাকলে অধস্তন আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। তিনি অভিযোগ করেন, বিচারকদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই আইন মন্ত্রণালয় সচিবালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চায়।

শিশির মনির বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সর্বদা স্বাধীন বিচার বিভাগের পক্ষে। আমরা মনে করি, বিচারকদের বদলি, ছুটি, পদোন্নতি আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকা উচিত নয়। এটা সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের কাছে থাকা উচিত।’

শিশির মনির আরও বলেন, বাতিল হওয়া আইনে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ৫০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদনের ক্ষমতাও ছিল। এ ছাড়া বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষমতাও সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এসব ক্ষমতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২ হাজার বিচারক বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, মহানগর উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত